সুগন্ধি চাল রপ্তানির সময়সীমা ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বর্ধিত

সুগন্ধি চাল রপ্তানির সময়সীমা ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বর্ধিত

সরকার সুগন্ধি চালের রপ্তানির জন্য নির্ধারিত সময়সীমা আরও ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়িয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত ৮ ফেব্রুয়ারি একটি চিঠি মাধ্যমে ৬১টি নির্দিষ্ট রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এই সময় বাড়ানোর বিষয়ে নিশ্চিত করেছে। এর আগে ডিসেম্বরের শেষ দিন, অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর, এই চালের রপ্তানির পূর্বনির্ধারিত সময়সীমা শেষ হয়ে গিয়েছিল। তবে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে আবেদনের ভিত্তিতে সরকার এই

সরকার সুগন্ধি চালের রপ্তানির জন্য নির্ধারিত সময়সীমা আরও ৩০ এপ্রিল পর্যন্ত বাড়িয়েছে। বাণিজ্য মন্ত্রণালয় গত ৮ ফেব্রুয়ারি একটি চিঠি মাধ্যমে ৬১টি নির্দিষ্ট রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানের সঙ্গে এই সময় বাড়ানোর বিষয়ে নিশ্চিত করেছে। এর আগে ডিসেম্বরের শেষ দিন, অর্থাৎ ৩১ ডিসেম্বর, এই চালের রপ্তানির পূর্বনির্ধারিত সময়সীমা শেষ হয়ে গিয়েছিল। তবে, সংশ্লিষ্ট প্রতিষ্ঠানগুলো থেকে আবেদনের ভিত্তিতে সরকার এই মেয়াদ বাড়ানোর সিদ্ধান্ত নেয়। উল্লেখ্য, গত বছর এপ্রিল মাসে প্রতিষ্ঠানগুলোর সক্ষমতা অনুযায়ী ১০০ থেকে ৫০০ টন পর্যন্ত চাল রপ্তানির অনুমতি দেওয়া হয়, এবং এর মধ্যে অনেক প্রতিষ্ঠান ইতিমধ্যেই আংশিক বা পূর্ণাঙ্গ রপ্তানি সম্পন্ন করেছে।

রপ্তানি কার্যক্রম পরিচালনার ক্ষেত্রে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় কিছু কঠোর শর্ত আরোপ করেছে। শর্ত অনুযায়ী, প্রতি কেজি চালের রপ্তানি মূল্য কমপক্ষে ১ ডলার ৬০ সেন্ট হতে হবে। বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী, অর্থাৎ প্রতি ডলার ১২২ টাকা ধরে, বাংলাদেশি মুদ্রায় এই দাম পড়বে প্রায় ১৯৫ টাকা। এছাড়াও, নির্দেশনায় বলা হয়েছে, অনুমোদিত পরিমাণের বেশি চাল কোনোভাবেই রপ্তানি করা যাবে না এবং প্রতিটি চালান জাহাজে তুলার পরে রপ্তানি সংক্রান্ত সব কাগজপত্র বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে জমা দিতে হবে। এই অনুমোদন সম্পূর্ণরূপে অস্থান্তরযোগ্য, অর্থাৎ কোনো প্রতিষ্ঠান নিজে রপ্তানি না করে সাব-কন্ট্রাক্টের মাধ্যমে অন্যের দিয়ে এই কাজ করাতে পারবে না।

বাংলাদেশের বিদ্যমান রপ্তানি নীতির আওতায় সাধারণ চালের রপ্তানি বেআইনি হলেও বিশেষ অনুমতি নিয়ে সুগন্ধি চাল রপ্তানি করার সুবিধা রয়েছে। দেশে প্রতি বছর প্রায় ১৮ থেকে ২০ লাখ টন সুগন্ধি চাল উত্পাদিত হয়, যার মধ্যে গড়ে মাত্র ১০ হাজার টন চাল বিদেশে রপ্তানি হয়। রপ্তানি উন্নয়ন ব্যুরোর তথ্য অনুযায়ী, ২০১৯-২০ অর্থবছরে এই খাতে প্রাপ্ত অর্থ ছিল ২৮ লাখ ৮০ হাজার ডলার, তবে তার পরের বছরগুলোতে এই প্রবৃদ্ধি ধীর হয়ে যায় এবং ২০২২-২৩ অর্থবছরে রপ্তানি কার্যক্রমই স্থগিত ছিল। বর্তমানে, যুক্তরাষ্ট্র, যুক্তরাজ্য, সংযুক্ত আরব আমিরাত, মালয়েশিয়াসহ মোট ১৩০টির বেশি দেশের বাঙালির জন্য বিভিন্ন ধরনের সুগন্ধি চাল রপ্তানি চলছে, যেমন চিনিগুঁড়া, কালিজিরা ও কাটারিভোগ।

সুগন্ধি চালের রপ্তানি প্রক্রিয়া পুরোপুরি তদারকিতে চলছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়, খাদ্য মন্ত্রণালয় এবং কৃষি মন্ত্রণালয়ের সমন্বিত উদ্যোগে। রপ্তানি কার্যক্রম চালু রাখতে, খাদ্য পরিকল্পনা ও পরিধারণ কমিটির সম্মতি নেওয়াটা বাধ্যতামূলক। তবে রপ্তানিকারকদের মতে, বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অনুমতি থাকার পরও, কৃষি সম্প্রসারণ অধিদপ্তর থেকে প্রয়োজনীয় ফাইটোস্যানিটারি সনদ না থাকলে সুগন্ধি চাল বিদেশে পাঠানো সম্ভব নয়। বর্তমানে সরকারের সময় বাড়ানোর ফলে ৬১টি প্রতিষ্ঠান তাদের নির্ধারিত কোটা অনুযায়ী আবারও সুগন্ধি চাল রপ্তানি করার সুযোগ পাবে।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos