চুলায় ধোঁয়া নেই, কারখানায় স্থবিরতা-গ্যাসের তীব্র হাহাকারে হাঁসফাঁস করছে দেশ। দেশীয় উৎপাদন কমে যাওয়ায় চড়া দামে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও এলপিজি কিনে ঘাটতি মেটাতে গিয়ে খালি হচ্ছে গ্রাহকের পকেট, চাপ বাড়ছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও। ফলে এলপিজি আর এলএনজির দামেও সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়। তবে এই সংকটময় মুহূর্তে বড় এক আশার বাণী নিয়ে এসেছে
চুলায় ধোঁয়া নেই, কারখানায় স্থবিরতা-গ্যাসের তীব্র হাহাকারে হাঁসফাঁস করছে দেশ।
দেশীয় উৎপাদন কমে যাওয়ায় চড়া দামে তরলীকৃত প্রাকৃতিক গ্যাস (এলএনজি) ও এলপিজি কিনে
ঘাটতি মেটাতে গিয়ে খালি হচ্ছে গ্রাহকের পকেট, চাপ বাড়ছে বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভেও।
ফলে এলপিজি আর এলএনজির দামেও সাধারণ মানুষের নাভিশ্বাস ওঠার জোগাড়। তবে এই সংকটময়
মুহূর্তে বড় এক আশার বাণী নিয়ে এসেছে রাষ্ট্রীয় প্রতিষ্ঠান বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম
এক্সপ্লোরেশন অ্যান্ড প্রোডাকশন কোম্পানি লিমিটেড (বাপেক্স)। স্থানীয় পর্যায়ে
উৎপাদন বাড়িয়ে আমদানিনির্ভরতা কমাতে ৭২৯ কোটি ২২ লাখ টাকা ব্যয়ে তিনটি নতুন কূপ
খননের বড় পরিকল্পনা হাতে নিয়েছে প্রতিষ্ঠানটি।
প্রকল্প প্রস্তাবনা অনুযায়ী, নোয়াখালীর বেগমগঞ্জ এবং সুনামগঞ্জের ধর্মপাশা এলাকায়
মোট তিনটি কূপ খনন করবে বাপেক্স। কারিগরি মূল্যায়ন বলছে, এসব কূপ থেকে প্রায় ৭১১
বিলিয়ন ঘনফুট (বিসিএফ) বাণিজ্যিকভাবে উত্তোলনযোগ্য গ্যাস পাওয়ার জোরালো সম্ভাবনা
রয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে এলএনজির বর্তমান বাজারদর বিবেচনায় এই গ্যাসের আর্থিক
মূল্য দাঁড়ায় প্রায় ১ লাখ ২০ হাজার ৮৫১ কোটি টাকা। প্রকল্পটি সফলভাবে বাস্তবায়িত
হলে জাতীয় গ্রিডে প্রতিদিন যুক্ত হবে অতিরিক্ত ৩৫ মিলিয়ন ঘনফুট গ্যাস, যা বিদেশি
জ্বালানির ওপর চাপ অনেকাংশেই কমিয়ে আনবে।
পরিকল্পনা কমিশন সূত্রে জানা গেছে, ২০২৮ সালের জুনের মধ্যে প্রকল্পটি সম্পূর্ণ
বাস্তবায়নের লক্ষ্য ধরা হয়েছে। এই প্রকল্পের মোট ব্যয়ের মধ্যে সরকারি তহবিল থেকে
জোগান দেওয়া হবে ৫৮৩ কোটি ৩৭ লাখ টাকা এবং বাপেক্স তার নিজস্ব অর্থায়ন থেকে দেবে
১৪৫ কোটি ৮৫ লাখ টাকা। আজ বুধবার জাতীয় অর্থনৈতিক পরিষদের নির্বাহী কমিটির (একনেক)
বৈঠকে প্রকল্পটি অনুমোদনের জন্য পেশ করা হচ্ছে।
প্রকল্পের কারিগরি দিক বিশ্লেষণে দেখা যায়, নোয়াখালী অঞ্চলে বেগমগঞ্জ-৫ নামে একটি
মূল্যায়ন-কাম-উন্নয়ন কূপ ৩ হাজার ৫৫০ মিটার গভীরতায় এবং বেগমগঞ্জ-৬ নামে একটি
অনুসন্ধানমূলক কূপ ৩ হাজার ৪০০ মিটার গভীরতায় খনন করা হবে। অন্যদিকে সুনামগঞ্জের
অত্যন্ত সম্ভাবনাময় সুনেত্র ভূগঠনে সুনেত্র-২ অনুসন্ধান কূপটি ৫ হাজার ৩০০ মিটার
গভীরতায় সমন্বিত খনন অপারেশন বা টার্ন-কি ভিত্তিতে খনন করার পরিকল্পনা রয়েছে। এসব
কাজের জন্য প্রয়োজনীয় ১০ একরের বেশি জমি অধিগ্রহণ ও উন্নয়নসহ দেশি-বিদেশি বিভিন্ন
আধুনিক যন্ত্রপাতি কেনা হবে।
দেশে বর্তমানে প্রতিদিন গ্যাসের চাহিদা রয়েছে অন্তত ৫৫০ কোটি ঘনফুট, যার বিপরীতে
দেশীয় ও বিদেশি এলএনজি মিলিয়ে সরবরাহ মিলছে গড়ে মাত্র ২৬০ থেকে ২৬৫ কোটি ঘনফুট।
জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা বলছেন, প্রতি বছর শত শত কোটি ডলার খরচ করে বাইরে থেকে গ্যাস
এনে স্বনির্ভর হওয়া অসম্ভব। প্রাথমিক অনুসন্ধানের ভিত্তিতে কূপ খননে শতভাগ সাফল্যের
নিশ্চয়তা পৃথিবীর কোথাও দেওয়া যায় না, তবে বর্তমান পরিস্থিতিতে ঝুঁকি নিয়ে হলেও
দেশীয় সক্ষমতা কাজে লাগানোই একমাত্র বুদ্ধিমানের কাজ। সরকারের এই উদ্যোগ সফল হলে
দীর্ঘমেয়াদে দেশীয় সম্পদের সর্বোত্তম ব্যবহার নিশ্চিত হবে এবং সংকটকালীন এই সময়ে
বাঁচবে কোটি কোটি ডলারের মূল্যবান বৈদেশিক মুদ্রা।











