বহিষ্কৃত গাজী নজরু‌লের এম‌পি পদ বা‌তি‌লে স্পিকার-ইসিকে জামায়া‌তের চি‌ঠি

বহিষ্কৃত গাজী নজরু‌লের এম‌পি পদ বা‌তি‌লে স্পিকার-ইসিকে জামায়া‌তের চি‌ঠি

ব্যক্তিগত ভিডিও ভাইরালের জেরে নৈতিক স্খলনের অভিযোগে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জাতীয় সংসদের স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বৃহস্পতিবার দলটির সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই চিঠি পাঠিয়েছেন। গত বুধবার তাঁকে দল থেকে বহিষ্কারের পর থেকেই তাঁর সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকবে

ব্যক্তিগত ভিডিও ভাইরালের জেরে নৈতিক স্খলনের অভিযোগে বহিষ্কৃত সাতক্ষীরা-৪ আসনের

সংসদ সদস্য গাজী নজরুল ইসলামের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নিতে জাতীয় সংসদের স্পিকার

ও নির্বাচন কমিশনকে (ইসি) চিঠি দিয়েছে বাংলাদেশ জামায়াতে ইসলামী। বৃহস্পতিবার দলটির

সেক্রেটারি জেনারেল মিয়া গোলাম পরওয়ার এই চিঠি পাঠিয়েছেন। গত বুধবার তাঁকে দল থেকে

বহিষ্কারের পর থেকেই তাঁর সংসদ সদস্য পদ বহাল থাকবে কি না, তা নিয়ে আইনি বিতর্ক ও

রাজনৈতিক মহলে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে। অতীতে দল থেকে পদত্যাগ কিংবা ফ্লোর

ক্রসিংয়ের কারণে সংসদ সদস্য পদ বাতিলের নজির থাকলেও, দল কর্তৃক বহিষ্কারের ক্ষেত্রে

পদ বাতিলের বিষয়টি সংবিধানে সুনির্দিষ্টভাবে উল্লেখ নেই।

সংবিধানের ৭০ অনুচ্ছেদ অনুযায়ী, কোনো সংসদ সদস্য দল থেকে পদত্যাগ করলে বা সংসদের

ভেতরে দলের বিপক্ষে ভোট দিলে তাঁর আসন শূন্য হয়। তবে দল বহিষ্কার করলে কী হবে, সে

বিষয়ে এই অনুচ্ছেদে স্পষ্ট কোনো নির্দেশনা নেই। অন্যদিকে সংবিধানের ৬৬ অনুচ্ছেদে

বলা হয়েছে, কোনো সংসদ সদস্যের নৈতিক স্খলনের দায়ে যদি আদালত কর্তৃক অন্তত দুই বছরের

কারাদণ্ড হয়, তবে তিনি পদ হারাবেন। গাজী নজরুলের ক্ষেত্রে এখন পর্যন্ত কোনো আদালতের

দণ্ড বা সাজার ঘটনা ঘটেনি বিধায় এই অনুচ্ছেদটিও তাঁর ক্ষেত্রে প্রযোজ্য হচ্ছে না।

সংসদের চিফ হুইপ নুরুল ইসলাম মনি এই পরিস্থিতির ব্যাখ্যা দিয়ে বলেন, “তিনি দল থেকে

পদত্যাগ করেননি বা দলের বিরুদ্ধেও ভোট দেননি। ফলে ৭০ অনুচ্ছেদও প্রযোজ্য নয়।” তবে

সংবিধানের ৬৬(৪) অনুচ্ছেদ অনুসারে, “৭০ অনুচ্ছেদ অনুসারে কোনো এমপির আসন শূন্য হবে

কিনা, সে সম্পর্কে কোনো বিতর্ক দেখা দিলে শুনানি ও নিষ্পত্তির জন্য প্রশ্নটি

নির্বাচন কমিশনের কাছে পাঠানো হবে। কমিশনের সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হবে।”

গণপ্রতিনিধিত্ব আদেশ-১৯৭২ এর ১২(খ) ধারা অনুযায়ী, কোনো ব্যক্তি সংসদ সদস্য থাকতে

পারবেন না যদি তিনি নিবন্ধিত রাজনৈতিক দল মনোনীত না হন অথবা স্বতন্ত্র প্রার্থী না

হন। ২০০৮ সালে প্রবর্তিত এই বিধানের কারণে গাজী নজরুল পদ হারাতে পারেন বলে কোনো

কোনো আইন বিশেষজ্ঞ মত দিয়েছেন। এর আগে ২০১২ সালে এইচএম গোলাম রেজা জাতীয় পার্টি

থেকে বহিষ্কৃত হলেও তৎকালীন স্পিকার বিষয়টি নির্বাচন কমিশনে না পাঠানোয় তিনি পদে

বহাল ছিলেন। পরবর্তীতে আব্দুল লতিফ সিদ্দিকীর বহিষ্কারের ঘটনায় শুনানি শুরু হলেও

তিনি নিজেই পদত্যাগ করেন, ফলে বহিষ্কারের কারণে পদ বাতিলের আইনি প্রশ্নটির চূড়ান্ত

মীমাংসা হয়নি। সেই শুনানিতে অংশ নেওয়া আইনজীবী এবিএম রিয়াজুল কবীর কাওছার জানান,

“দল বহিষ্কার করলে এমপি পদ থাকবে না। কারণ আইন অনুযায়ী এমপি দুই রকম; দলীয় ও

স্বতন্ত্র। দল বহিষ্কার করলে সেই এমপি স্বতন্ত্র হয়ে যান না। ফলে দলে না থাকলে এমপি

পদ থাকবে না।”

গাজী নজরুলের সংসদ সদস্য পদের ভাগ্য এখন স্পিকার ও নির্বাচন কমিশনের সিদ্ধান্তের

ওপর ঝুলে রয়েছে। নির্বাচন কমিশনের কোনো সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে উচ্চ আদালতে যাওয়ার

আইনি সুযোগও তাঁর রয়েছে। ফলে তিনি যদি স্বেচ্ছায় পদত্যাগ না করেন, তবে আইনি লড়াইয়ের

কারণে চূড়ান্ত সিদ্ধান্ত আসতে দীর্ঘ সময় লেগে যেতে পারে। সংসদ সদস্য আইন-১৯৮১

অনুযায়ী স্পিকার বিরোধের বিবরণ প্রস্তুত করে শুনানির জন্য নির্বাচন কমিশনে পাঠালে

কমিশন এই বিষয়ে তাদের চূড়ান্ত পদক্ষেপ গ্রহণ করবে।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos