ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং তার সরকারের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) কয়েকটি বিক্ষোভ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। একদিকে বিরোধী দলীয় সদস্যরা অন্যদিকে তরুণ এবং কৃষকরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে। বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে নরেন্দ্র মোদির পদত্যাগ দাবি করা হয়েছে। বিক্ষোভ কর্মসূচির একপর্যায়ে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে আটক করে পুলিশ। তবে গতকালে রাতেই তাদের ছেড়ে দেয় পুলিশ।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি এবং তার সরকারের বিরুদ্ধে মঙ্গলবার (২১ জুলাই)
কয়েকটি বিক্ষোভ কর্মসূচি আয়োজন করা হয়। একদিকে বিরোধী দলীয় সদস্যরা অন্যদিকে তরুণ
এবং কৃষকরা বিক্ষোভ কর্মসূচি পালন করেছে। বিক্ষোভ কর্মসূচি থেকে নরেন্দ্র মোদির
পদত্যাগ দাবি করা হয়েছে। বিক্ষোভ কর্মসূচির একপর্যায়ে রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধীকে
আটক করে পুলিশ। তবে গতকালে রাতেই তাদের ছেড়ে দেয় পুলিশ।
দিল্লিতে ককরোচ জনতা পার্টির (সিজেপি) সংসদ অভিমুখে মিছিলে পুলিশের অভিযানের
প্রতিবাদে সরাসরি প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির বাসভবনের সামনে অবস্থান কর্মসূচি
শুরু করেন লোকসভার বিরোধী দলীয় নেতা রাহুল গান্ধী। তার সঙ্গে ছিলেন কংগ্রেস নেত্রী
ও ওয়ানাডের সংসদ সদস্য প্রিয়াঙ্কা গান্ধী এবং দলের আরও কয়েকজন শীর্ষ নেতা।
মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দুপুরে তারা নয়াদিল্লির লোক কল্যাণ মার্গে প্রধানমন্ত্রীর
সরকারি বাসভবনের সামনে পৌঁছে সড়কে বসে বিক্ষোভ শুরু করেন। এ সময় তারা প্রধানমন্ত্রী
নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহের পদত্যাগের দাবিতে স্লোগান
দেন।
পরিস্থিতি সামাল দিতে কেন্দ্রীয় সরকারমন্ত্রী জিতেন্দ্র সিংকে ঘটনাস্থলে পাঠায়।
তিনি সেখানে গিয়ে রাহুল গান্ধীর সঙ্গে কথা বলেন। একই সময় পুলিশ কংগ্রেস নেতাদের
বিক্ষোভ কর্মসূচি শেষ করার আহ্বান জানায়। প্রধানমন্ত্রীর বাসভবন ঘিরে নিরাপত্তাও
জোরদার করা হয়।
আটকের পর ছাড়া পেলেন রাহুল ও প্রিয়াঙ্কা গান্ধী
ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদি ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহর
পদত্যাগের দাবিতে চলা বিক্ষোভ থেকে কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা
গান্ধীকে আটক করেছে পুলিশ। টেনেহিঁচড়ে বিক্ষোভস্থল থেকে নিয়ে যাওয়ার সময় রাহুল
গান্ধীর নাক থেকে রক্ত ঝরতে দেখা যায়।
ককরোচ জনতা পার্টির (সিজিপি) ‘সংসদ চলো’ পদযাত্রায় শিক্ষার্থীদের ওপর পুলিশের
লাঠিপেটার ঘটনার প্রতিবাদে প্রধানমন্ত্রী ও কেন্দ্রীয় স্বরাষ্ট্রমন্ত্রীর
পদত্যাগের দাবিতে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) প্রধানমন্ত্রীর সরকারি বাসভবনের সামনে
অবস্থান নিয়ে বিক্ষোভে করছিলেন কংগ্রেস নেতারা। বিকালে দিল্লির লোক কল্যাণ মার্গে
ওই কর্মসূচি শুরু হয়।
এনডিটিভির প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কয়েক ঘণ্টা বিক্ষোভ চলার পর সন্ধ্যা ৬টা ৪০
মিনিটের দিকে ঘটনাস্থলে গিয়ে কংগ্রেস নেতাদের আটক করতে শুরু করে দিল্লি পুলিশ।
প্রথমে আটক করা হয় কংগ্রেস নেতা কানহাইয়া কুমারসহ কয়েকজনকে। এরপর আটক হন এমপি
সুখজিন্দর সিং ও সমাজবাদী পার্টির সভাপতি অখিলেশ যাদব।
পুলিশ রাহুল গান্ধীকে বিক্ষোভস্থল থেকে সরিয়ে দিতে গেলে সেখান থেকে নড়তে অস্বীকৃতি
জানান তিনি এবং রাস্তায় বসে পড়েন। এ সময় অন্তত ১০ জন পুলিশ সদস্য তাকে ঘিরে ফেলে
এবং একপর্যায়ে তাকে টেনেহিঁচড়ে সরিয়ে নেওয়া হয়। তখন তার নাক থেকে রক্ত ঝরতে দেখা
যায়। সর্বশেষ প্রাপ্ত তথ্যে জানা গেছে, ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির
বাসভবনের সামনে বিক্ষোভ করার সময় আটক কংগ্রেস নেতা রাহুল গান্ধী ও প্রিয়াঙ্কা
গান্ধীকে গতকাল রাতে ছেড়ে দিয়েছে পুলিশ।
মাঠ ছাড়বে না তরুণরা
ভারতের শিক্ষাব্যবস্থার সংস্কার এবং শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানের পদত্যাগের
দাবিতে আন্দোলন চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে ককরোচ জনতা পার্টি (সিজেপি)। গত
সোমবার দিল্লিতে বিক্ষোভে সংঘর্ষের পর গতকাল মঙ্গলবারও শত শত আন্দোলনকারী যন্তর
মন্তরে অবস্থান কর্মসূচি চালিয়ে যান।
সিজেপির মুখপাত্র অশুতোষ রাঙ্কা বলেন, ‘শিক্ষামন্ত্রী ধর্মেন্দ্র প্রধানকে অপসারণ
না করা পর্যন্ত তাদের আন্দোলন চলবে।’ দলের প্রতিষ্ঠাতা অভিজিৎ দিপকে আন্দোলনকারীদের
উদ্দেশে বলেন, ‘কোনোভাবেই মনোবল হারানো যাবে না এবং আন্দোলন অব্যাহত রাখতে হবে।’
অন্যদিকে দিল্লি পুলিশ অভিযোগ করেছে, বিক্ষোভকারীদের একটি অংশ সহিংস আচরণ করেছে।
তবে আন্দোলনের সংগঠকরা পুলিশের অতিরিক্ত বলপ্রয়োগের সমালোচনা করে দাবি করেছেন,
অভিযানে শত শত আন্দোলনকারী আহত হয়েছেন।
লোকসভায় বিরোধী দলগুলোও ঘটনাটি নিয়ে আলোচনা দাবি করেছে। কংগ্রেস নেতা রাহুল
গান্ধী বলেন, ‘নিজেদের ভবিষ্যৎ নিয়ে ন্যায্য প্রশ্ন তোলার কারণে শিক্ষার্থীদের ওপর
হামলা চালানো হয়েছে।’ তিনি প্রশ্ন তোলেন, ‘যদি দেশের তরুণদের ভবিষ্যৎ নিয়ে সংসদে
আলোচনা না হয়, তবে সংসদের উদ্দেশ্য কী।’
মোদির বিরুদ্ধে সরব কৃষকরা
প্রস্তাবিত ভারত-যুক্তরাষ্ট্র (ইন্ডিয়া-ইউএস) বাণিজ্য চুক্তির বিরুদ্ধে আয়োজিত
কিষাণ মহাপঞ্চায়েতে যোগ দিতে মঙ্গলবার (২১ জুলাই) দিল্লির উদ্দেশে যাত্রা করা
পাঞ্জাবের শত শত কৃষককে দিল্লির আগে শম্ভু সীমান্তে আটকে দিয়েছে হরিয়ানা পুলিশ।
হরিয়ানায় প্রবেশের প্রধান প্রবেশদ্বার শম্ভু সীমান্তে তাদের অগ্রযাত্রা থামিয়ে
দেওয়া হলে কৃষকরা সেখানেই বিক্ষোভ শুরু করেন।
পাঞ্জাব-হরিয়ানা সীমান্তে পুলিশ ব্যারিকেড স্থাপন করে, যা ২০২৪ সালের ফেব্রুয়ারিতে
অনুষ্ঠিত ‘দিল্লি চলো-২’ আন্দোলনের স্মৃতিই ফিরিয়ে আনে। সে সময় কৃষকদের রাজধানী
দিল্লিতে প্রবেশ ঠেকাতে সীমান্তজুড়ে কংক্রিটের ব্লক, লোহার কাঁটা এবং বহুস্তরীয়
ব্যারিকেড বসিয়ে এলাকাটিকে কার্যত দুর্গে পরিণত করা হয়েছিল।
দিল্লিতে যাওয়ার অনুমতি না পেয়ে কৃষকরা শম্ভু সীমান্তকেই প্রতিবাদস্থলে পরিণত করেন।
তারা অভিযোগ করেন, হরিয়ানা ও পাঞ্জাব উভয় সরকারই তাদের দিল্লিতে শান্তিপূর্ণভাবে
সমবেত হওয়ার গণতান্ত্রিক অধিকার দমন করছে।
ভারতীয় কিষাণ ইউনিয়নের (বিকেইউ) শহীদ ভগত সিং শাখার নেতা তেজবীর সিং অভিযোগ করেন,
হরিয়ানা পুলিশ পাঞ্জাবের ভূখণ্ডের ভেতরেই ব্যারিকেড স্থাপন করেছে। তিনি আরও দাবি
করেন, এই পদক্ষেপের বিরোধিতা করার পরিবর্তে পাঞ্জাব সরকার ‘নীরব দর্শকের’ ভূমিকা
পালন করেছে।
পাঞ্জাব থেকে আসা কৃষকদের বহর শম্ভু সীমান্তে আটকে দেওয়া হলেও হরিয়ানার আম্বালা,
কুরুক্ষেত্র এবং আশপাশের জেলার কৃষকরা দিল্লির উদ্দেশে যাত্রা অব্যাহত রাখেন। ‘দেশ
বাঁচাও’ মোর্চার ব্যানারে আহ্বান করা এই কিষাণ মহাপঞ্চায়েতে পাঞ্জাব, হরিয়ানা ও
হিমাচল প্রদেশের বিভিন্ন কৃষক সংগঠন অংশ নিয়েছে।











