দিদিয়ের দেশমের বিদায়ের পর অবশেষে ফ্রান্স জাতীয় ফুটবল দলের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিতে সই করেছেন ফরাসি কিংবদন্তি জিনেদিন জিদান। আন্তর্জাতিক দলবদলের খবরাখবর দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য ও বিখ্যাত ইতালিয়ান ক্রীড়া সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানো এই চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন। তার দেওয়া তথ্যমতে, গত বছরের নভেম্বর মাস থেকেই জিদান এবং ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশনের মধ্যে কোচ
দিদিয়ের দেশমের বিদায়ের পর অবশেষে ফ্রান্স জাতীয় ফুটবল দলের নতুন প্রধান কোচ
হিসেবে আনুষ্ঠানিকভাবে চুক্তিতে সই করেছেন ফরাসি কিংবদন্তি জিনেদিন জিদান।
আন্তর্জাতিক দলবদলের খবরাখবর দেওয়ার ক্ষেত্রে নির্ভরযোগ্য ও বিখ্যাত ইতালিয়ান
ক্রীড়া সাংবাদিক ফ্যাব্রিজিও রোমানো এই চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।
তার দেওয়া তথ্যমতে, গত বছরের নভেম্বর মাস থেকেই জিদান এবং ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশনের
মধ্যে কোচ হওয়ার বিষয়ে একটি মৌখিক সমঝোতা ছিল, যা এখন আনুষ্ঠানিকভাবে লিখিত
চুক্তিতে রূপ নিয়েছে। এই দীর্ঘমেয়াদি চুক্তির মাধ্যমে জিদান আগামী ২০৩০ সালের জুন
মাস পর্যন্ত ফরাসি জাতীয় দলের দায়িত্ব পালন করবেন বলে জানা গেছে।
ফ্যাব্রিজিও রোমানো আরও জানিয়েছেন যে, চুক্তির বিষয়টি চূড়ান্ত হয়ে গেলেও এখন
পর্যন্ত ফ্রান্স ফুটবল ফেডারেশনের পক্ষ থেকে আনুষ্ঠানিক কোনো ঘোষণা দেওয়া হয়নি। তবে
আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই জিনেদিন জিদানকে গণমাধ্যমের সামনে আনুষ্ঠানিকভাবে
ফ্রান্সের নতুন প্রধান কোচ হিসেবে পরিচয় করিয়ে দেওয়া হবে এবং এরপরই তিনি জাতীয় দলের
হয়ে নিজের দাপ্তরিক কাজ শুরু করবেন। রিয়াল মাদ্রিদের মতো বিশ্বসেরা ক্লাবের সাবেক
এই সফল কোচ এবার আন্তর্জাতিক ফুটবলের আঙিনায় কোচ হিসেবে নিজের নতুন অধ্যায় শুরু
করতে যাচ্ছেন, যা ফুটবল বিশ্বে ইতোমধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহলের জন্ম দিয়েছে।
ফুটবল মাঠে খেলোয়াড় এবং ডাগআউটে কোচ—উভয় ভূমিকাতেই জিনেদিন জিদানের রয়েছে ঈর্ষণীয় ও
সমৃদ্ধ এক ইতিহাস। খেলোয়াড় হিসেবে তিনি ১৯৯৮ সালের ফিফা বিশ্বকাপ এবং ২০০০ সালের
উয়েফা ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপ জয়ে ফ্রান্সের হয়ে সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন
করেছিলেন। পরবর্তীতে বুটজোড়া তুলে রেখে কোচিং পেশায় এসেও তিনি রিয়াল মাদ্রিদের
ইতিহাসে নিজের নাম স্বর্ণাক্ষরে লিখে রাখেন। তার জাদুকরী নির্দেশনায় রিয়াল মাদ্রিদ
উয়েফা চ্যাম্পিয়ন্স লিগে টানা তিনবার শিরোপা জয়ের স্বাদ পেয়েছিল, যা আধুনিক ক্লাব
ফুটবলের ইতিহাসে এক বিরল ও অনন্য কীর্তি হিসেবে বিবেচিত হয়।
রিয়াল মাদ্রিদের দায়িত্ব ছাড়ার পর গত কয়েক বছর ধরে জিদান অন্য কোনো ক্লাব বা জাতীয়
দলের কোচিংয়ে যুক্ত হননি। তবে বিভিন্ন সময়েই তার ফ্রান্স জাতীয় দলের হাল ধরার প্রবল
গুঞ্জন শোনা গিয়েছিল, যার চূড়ান্ত অবসান ঘটল এই চুক্তির মাধ্যমে। জিদানের এই
প্রত্যাবর্তনের মধ্য দিয়ে ফরাসি ফুটবলে এখন এক নতুন যুগের সূচনা হতে যাচ্ছে। আগামী
দিনের বড় আন্তর্জাতিক টুর্নামেন্টগুলোকে সামনে রেখে একটি শক্তিশালী দল গঠন করা,
তরুণ ও নতুন খেলোয়াড়দের জাতীয় দলে সুযোগ দেওয়া এবং শিরোপার লড়াইয়ে ফ্রান্সকে আবারও
অপ্রতিরোধ্য করে তোলার মতো বড় ও কঠিন চ্যালেঞ্জগুলো এখন এই কিংবদন্তির সামনে
অপেক্ষা করছে।











