২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে পরাজিত করে নিজেদের দ্বিতীয় শিরোপা ঘরে তুলেছে স্পেন। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে স্পেনের জয়কে ফুটবল বিশ্বের বিশ্লেষকরা স্রেফ একটি জয় নয় বরং ‘ফুটবলের প্রকৃত জয়’ হিসেবে অভিহিত করেছেন। শুরু হতে শেষ পর্যন্ত মাঠের নিয়ন্ত্রণ স্প্যানিশদের দখলে থাকলেও ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা মূলত প্রতিপক্ষকে আটকে রাখার কৌশলেই
২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপের ফাইনালে আর্জেন্টিনাকে ১-০ গোলে পরাজিত করে নিজেদের দ্বিতীয়
শিরোপা ঘরে তুলেছে স্পেন। নিউ জার্সির মেটলাইফ স্টেডিয়ামে অনুষ্ঠিত এই ম্যাচে
স্পেনের জয়কে ফুটবল বিশ্বের বিশ্লেষকরা স্রেফ একটি জয় নয় বরং ‘ফুটবলের প্রকৃত জয়’
হিসেবে অভিহিত করেছেন। শুরু হতে শেষ পর্যন্ত মাঠের নিয়ন্ত্রণ স্প্যানিশদের দখলে
থাকলেও ডিফেন্ডিং চ্যাম্পিয়ন আর্জেন্টিনা মূলত প্রতিপক্ষকে আটকে রাখার কৌশলেই
সীমাবদ্ধ ছিল।
ম্যাচের পরিসংখ্যান এবং পারফরম্যান্স বিশ্লেষণে দেখা যায় যে স্পেন প্রতিটি
ক্ষেত্রেই আর্জেন্টিনাকে ছাড়িয়ে গেছে। স্পেনের বলের দখল ছিল ৬৫ শতাংশ এবং তারা
গোলমুখে ২০টি শট নিয়েছে যার মধ্যে ১১টিই ছিল অন-টার্গেট। বিপরীতে আর্জেন্টিনা
নির্ধারিত ৯০ মিনিটে একটিও গোলমুখী শট নিতে পারেনি। তাদের প্রথম সত্যিকারের
আক্রমণটি এসেছিল ১১৭ মিনিটে লিওনেল মেসির পা হতে। সাবেক ইংল্যান্ড অধিনায়ক অ্যালান
শিয়ারার এই জয় সম্পর্কে মন্তব্য করেন যে, “সঠিক দলটিই জিতেছে তা নিয়ে কোনো সন্দেহ
নেই। তারাই ফুটবল খেলার এবং সুযোগ তৈরি করার চেষ্টা করছিল। স্পেন এই জয়ের যোগ্য।”
স্পেনের এই বিশ্বজয়ের পেছনে ছিল এক দুর্ভেদ্য রক্ষণ ও অসাধারণ পাসিং গেম। গোলরক্ষক
উনাই সিমন পুরো আসরে মাত্র একটি গোল হজম করে গোল্ডেন গ্লাভস জয় করেছেন, যা কোনো
বিশ্বকাপজয়ী দলের জন্য এক নতুন রেকর্ড। মাঝমাঠে রদ্রি ও পাউ কুবারসির পাসিং নৈপুণ্য
ছিল দেখার মতো। রদ্রি ১০১টি এবং ১৯ বছর বয়সী কুবারসি ১২১টি সফল পাস দিয়ে ইতিহাসের
পাতায় নাম লিখিয়েছেন। এছাড়া লামিন ইয়ামাল ইতিহাসের তৃতীয় সর্বকনিষ্ঠ বিশ্বকাপজয়ী
খেলোয়াড় হওয়ার গৌরব অর্জন করেন। বর্তমান স্পেন দল এখন একাধারে বিশ্ব, অলিম্পিক এবং
ইউরোপীয় চ্যাম্পিয়ন।
অন্যদিকে, ম্যাচ হারার পাশাপাশি মাঠের ভেতরে ও বাইরে আচরণের জন্য ব্যাপক সমালোচনার
মুখে পড়েছে আর্জেন্টিনা। লিয়ান্দ্রো পারেদেস ও এনজো ফার্নান্দেজদের খেলার ধরনে
ফুটবলীয় সৌন্দর্য্যের চেয়ে আগ্রাসনই বেশি প্রকট ছিল। বিশেষ করে কুবারসিকে ফাউল করে
এনজো ফার্নান্দেজের লাল কার্ড পাওয়া এবং খেলা শেষে স্প্যানিশ খেলোয়াড়দের সঙ্গে
পারেদেসের হাতাহাতির ঘটনাকে ‘ন্যক্কারজনক’ ও ‘লজ্জাজনক’ বলে অভিহিত করেছেন বিশ্লেষক
ওয়েইন রুনি। সাবেক গোলরক্ষক জো হার্টও আর্জেন্টিনার এই ধরণের আচরণ নিয়ে অসন্তোষ
প্রকাশ করেছেন।
আর্জেন্টাইন কোচ লিওনেল স্কালোনি হারের পর অশ্রুসিক্ত নয়নে জানান যে তাঁর দল শেষ
পর্যন্ত টিকে থাকার লড়াই করেছিল কিন্তু স্পেনের শ্রেষ্ঠত্ব মেনে নিতে বাধা নেই।
তিনি স্বীকার করেন যে লা রোজারা এই শিরোপার যোগ্য দাবিদার। বিশ্ব ফুটবলের এই নতুন
অধ্যায়ে স্পেন এখন এক অপরাজেয় শক্তিতে পরিণত হয়েছে যারা গত ৩৮টি ম্যাচে কোনো হার
দেখেনি।











