টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে আটে নেমে গেল বাংলাদেশ

টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ে আটে নেমে গেল বাংলাদেশ

পাকিস্তানকে ঐতিহাসিক টেস্ট হোয়াইটওয়াশের মহাকাব্য লিখে আইসিসি র‍্যাঙ্কিংয়ে বড় এক লাফ দিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা রেটিং পয়েন্ট নিয়ে প্রথমবারের মতো সাত নম্বরে উঠে এসেছিল টাইগাররা। তবে নিজেদের ইতিহাসের সেই সর্বোচ্চ ও গৌরবময় অবস্থানটি এক মাসও ধরে রাখতে পারল না নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ঘরের মাঠে দুর্বল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে অবিশ্বাস্যভাবে ইনিংস

পাকিস্তানকে ঐতিহাসিক টেস্ট হোয়াইটওয়াশের মহাকাব্য লিখে আইসিসি র‍্যাঙ্কিংয়ে বড় এক

লাফ দিয়েছিল বাংলাদেশ ক্রিকেট দল। ক্রিকেট ইতিহাসের সেরা রেটিং পয়েন্ট নিয়ে

প্রথমবারের মতো সাত নম্বরে উঠে এসেছিল টাইগাররা। তবে নিজেদের ইতিহাসের সেই সর্বোচ্চ

ও গৌরবময় অবস্থানটি এক মাসও ধরে রাখতে পারল না নাজমুল হোসেন শান্তর দল। ঘরের মাঠে

দুর্বল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে অবিশ্বাস্যভাবে ইনিংস ব্যবধানে হেরে

র‍্যাঙ্কিংয়ে এক ধাপ পিছিয়েছে বাংলাদেশ। ক্রিকেটের দীর্ঘতম সংস্করণে বর্তমানে

বাংলাদেশের অবস্থান অষ্টম। আর ঘরের মাঠে কোনো ম্যাচ না খেলেই ভগ্যের জোরে এক ধাপ

এগিয়ে আবারও সাতে উঠে এসেছে পাকিস্তান।

অথচ জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে একমাত্র টেস্টে স্পষ্ট ফেভারিট হিসেবেই মাঠে নেমেছিল

বাংলাদেশ। কিন্তু মিরপুর শের-ই-বাংলা স্টেডিয়ামে ম্যাচের প্রথম দিনেই চরম ব্যাটিং

বিপর্যয়ে পড়ে মাত্র ১৪০ রানে অলআউট হয়ে যায় টাইগাররা। আচমকা ব্যাটিং ধসের সেই বড়

ক্ষত আর কাটিয়ে উঠতে পারেনি শান্তর দল। পরে নিজেদের প্রথম ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে

জিম্বাবুয়ে ৪১০ রানের পাহাড় গড়লে বাংলাদেশের পরাজয় তখনই সময়ের ব্যাপার হয়ে দাঁড়ায়।

২৭০ রানে পিছিয়ে থেকে দ্বিতীয় ইনিংসে ব্যাটিংয়ে নেমে আবারও একই ব্যাটিং ট্র্যাজেডির

পুনরাবৃত্তি ঘটায় বাংলাদেশ। টপঅর্ডার থেকে শুরু করে মিডলঅর্ডার—ব্যাট হাতে কেউই

ক্রিজে ন্যূনতম প্রতিরোধ গড়তে পারেননি। উল্টো উইকেট বিলিয়ে দেওয়ার মিছিলে যোগ দিতে

ব্যাটারদের মধ্যে যেন এক অলিখিত প্রতিযোগিতা চলছিল। শেষ পর্যন্ত দ্বিতীয় ইনিংসে ১৮৫

রানে সব উইকেট হারিয়ে ইনিংস ও ৮৫ রানের এক চরম লজ্জাজনক পরাজয় বরণ করে বাংলাদেশ।

নিজেদের ২৬ বছরের টেস্ট ইতিহাসে বাংলাদেশ এর আগে ইনিংস ব্যবধানে কম হারেনি। কিন্তু

ক্রিকেটের পুঁচকে দল জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে ইনিংস ব্যবধানে হারার রেকর্ড এটি মাত্র

দ্বিতীয়বার। এর আগে সবশেষ ২০০১ সালে জিম্বাবুয়ের সঙ্গে প্রথম দ্বিপাক্ষিক দেখায়

ইনিংস ব্যবধানে হেরেছিল টাইগাররা। দীর্ঘ ২৫ বছর পর আবারও রোডেশিয়ানদের বিপক্ষে এমন

শোচনীয় হারের স্বাদ পেল বাংলাদেশ। আর এই নজিরবিহীন পরাজয়ে টেস্ট র‍্যাঙ্কিংয়ের

সুখের দিনটা এক ঝটকায় শেষ হয়ে গেল শান্তদের।

এর আগে গত মে মাসে পাকিস্তানের মাটিতে গিয়ে স্বাগতিকদের ২-০ ব্যবধানে টেস্টে

ধবলধোলাই করার এক অবিশ্বাস্য কীর্তি গড়েছিল লাল-সবুজের দল। সেই ঐতিহাসিক সিরিজ জয়ের

পুরস্কার হাতেনাতে পেয়ে আইসিসির হালনাগাদ টেস্ট র‌্যাঙ্কিংয়ে দুই ধাপ এগিয়ে

প্রথমবারের মতো সপ্তম স্থানে উঠেছিল বাংলাদেশ। দীর্ঘদিন ধরে ৯ নম্বরে আটকে থাকা

বাংলাদেশ ক্রিকেট দল এক ধাক্কায় পাকিস্তান ও ওয়েস্ট ইন্ডিজের মতো পরাশক্তিদের পেছনে

ফেলে দিয়েছিল।

কিন্তু মাত্র এক মাসের ব্যবধানে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে এক ম্যাচ হেরেই ৫ রেটিং পয়েন্ট

হারিয়েছে বাংলাদেশ। পাকিস্তানকে হোয়াইটওয়াশ করার পর বাংলাদেশের রেটিং পয়েন্ট

দাঁড়িয়েছিল ৭৮। তবে জিম্বাবুয়ের কাছে ম্যাচটি হেরে বর্তমানে বাংলাদেশের ঝুলিতে

রয়েছে ৭৩ পয়েন্ট, যার ফলে র‍্যাঙ্কিংয়ে তাদের অবস্থান এখন অষ্টম। অন্যদিকে, কোনো

ম্যাচ না খেলেই লাভবান হওয়া পাকিস্তান ৭৫ রেটিং পয়েন্ট নিয়ে পুনরায় সপ্তম স্থানে

আরোহণ করেছে। জিম্বাবুয়ের কাছে এই অপ্রত্যাশিত পরাজয় বাংলাদেশের টেস্ট ক্রিকেটের

ধারাবাহিকতা নিয়ে আবারও বড় ধরনের প্রশ্ন তুলে দিল।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos