সমুদ্রে টুনা মাছ আহরণে বছরে ৩০ কোটি ডলার আয়ের সম্ভাবনা

সমুদ্রে টুনা মাছ আহরণে বছরে ৩০ কোটি ডলার আয়ের সম্ভাবনা

গভীর সমুদ্রে টুনা মাছসহ মৎস্য সম্পদের বিশাল ভাণ্ডার থাকলেও সেটিকে এখনো পুরোপুরি কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ ও সঠিক অবকাঠামো নিশ্চিত করতে পারলে এই খাত থেকেই বছরে অন্তত ৩০ কোটি মার্কিন ডলার বা প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা আয় করা সম্ভব। রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে মহেশখালী সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (মিডা) ও

গভীর সমুদ্রে টুনা মাছসহ মৎস্য সম্পদের বিশাল ভাণ্ডার থাকলেও সেটিকে এখনো পুরোপুরি

কাজে লাগাতে পারেনি বাংলাদেশ। বিশেষজ্ঞরা বলছেন, শুধু প্রয়োজনীয় বিনিয়োগ ও সঠিক

অবকাঠামো নিশ্চিত করতে পারলে এই খাত থেকেই বছরে অন্তত ৩০ কোটি মার্কিন ডলার বা

প্রায় সাড়ে ৩ হাজার কোটি টাকা আয় করা সম্ভব। রাজধানীর সোনারগাঁও হোটেলে মহেশখালী

সমন্বিত উন্নয়ন কর্তৃপক্ষ (মিডা) ও জাপান আন্তর্জাতিক সাহায্য সংস্থা (জাইকা)

আয়োজিত ‘বাংলাদেশের মৎস্য ও সামুদ্রিক অর্থনীতিতে বিনিয়োগ সম্ভাবনা’ শীর্ষক এক

সেমিনারে এসব তথ্য জানানো হয়।

সেমিনারে মূল প্রবন্ধে এসিআই অ্যাগ্রো লিংকের বিজনেস ডিরেক্টর সৈয়দ মো. ইশতিয়াক

উল্লেখ করেন যে, ২৫ থেকে ৫০টি অত্যাধুনিক গভীর সমুদ্রগামী জাহাজ মোতায়েন করা গেলে

বছরে ৩০ থেকে ৫০ হাজার টন উচ্চমানের টুনা মাছ আহরণ করা সম্ভব। বর্তমানে জাপানি ও

ইউরোপীয় বাজারে এই মাছের ব্যাপক চাহিদা রয়েছে। তিনি জানান, “এই মাছ দেশে

প্রক্রিয়াজাত করা গেলে এই আয়ের পরিমাণ আরও তিন গুণ বাড়ানো সম্ভব হবে।” তবে এই

সম্ভাবনাকে বাস্তবে রূপ দিতে প্রয়োজনীয় জলযান বা ফ্লিট গড়ে তোলাই এখন প্রধান

চ্যালেঞ্জ। তার মতে, ১০টি মাঝারি বোটের একটি বহর নিয়ে কাজ শুরু করলে বছরে প্রায় ৭৮

কোটি টাকা আয় করা সম্ভব, যার জন্য প্রাথমিক বিনিয়োগ প্রয়োজন হবে ১৫০ কোটি টাকার

মতো।

সুনীল অর্থনীতির সম্ভাবনা নিয়ে আলোচনায় রিয়ার অ্যাডমিরাল (অব.) মো. খোরশেদ আলম

জানান, বাংলাদেশের বিশাল সমুদ্রসীমা থাকলেও বর্তমানের ছোট নৌকা বা ট্রলারগুলো দিয়ে

গভীর সমুদ্রে যাওয়া সম্ভব হচ্ছে না। তিনি বলেন, “বাংলাদেশের নিজস্ব সমুদ্রসীমা সাড়ে

৬০০ কিলোমিটারের বেশি। এর মধ্যে আমরা বিদ্যমান মাছ ধরার যান নিয়ে শুধু ৪০ মিটার

গভীরতা পর্যন্ত যেতে পারি। জাহাজের আকার বড় হলে ৭০-৮০ কিলোমিটার পর্যন্ত যাওয়া যায়।

অর্থাৎ সমুদ্রে বড় মাছ আহরণের বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে। এ জন্য বড় আকারের মাছ ধরার

ট্রলার ও জাহাজ তৈরিতে বিনিয়োগ বাড়াতে হবে।”

সেমিনারে চিংড়িশিল্পের আধুনিকায়নের ওপর গুরুত্বারোপ করে মিডার নির্বাহী সদস্য কমোডর

তানজিম ফারুক জানান, দেশে চাষযোগ্য জমির পরিমাণ বিশাল হলেও সনাতন পদ্ধতির কারণে

উৎপাদন অনেক কম। এই সংকট কাটাতে তিনি একটি বিশেষায়িত ‘চিংড়ি অর্থনৈতিক অঞ্চল’ গড়ে

তোলার প্রস্তাব দেন। মিডার নির্বাহী চেয়ারম্যান আশিক চৌধুরীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত

এই সেমিনারে মৎস্য ও প্রাণিসম্পদ সচিব মো. দেলোয়ার হোসেন, জাইকার প্রতিনিধি

তাকাহাশি জুনকো এবং জাপানি দূতাবাসের প্রতিনিধি তাকাহাশি নাওকি উপস্থিত ছিলেন।

সমাপনী বক্তব্যে আশিক চৌধুরী বঙ্গোপসাগরকে দেশের অর্থনৈতিক উন্নয়নের মূল

চালিকাশক্তি হিসেবে ব্যবহারের আহ্বান জানিয়ে বলেন, “বঙ্গোপসাগরকে জাতীয় অর্থনৈতিক

পরিকল্পনার সঙ্গে যুক্ত করে আমাদের উন্নয়ন কৌশল নতুনভাবে সাজাতে হবে। অব্যবহৃত

সামুদ্রিক সম্পদ কাজে লাগিয়ে লাখ লাখ কর্মসংস্থান তৈরির সুযোগ রয়েছে। এ জন্য মৎস্য

খাতকে কেবল শুরু হিসেবে দেখা উচিত।” সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, সরকারি ও বেসরকারি

সমন্বিত প্রচেষ্টায় মৎস্য খাত দেশের বৈদেশিক মুদ্রা অর্জনের অন্যতম প্রধান উৎস হয়ে

উঠতে পারে।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos