বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক

বিশ্বের প্রথম ট্রিলিয়নিয়ার ইলন মাস্ক

রকেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স শেয়ারবাজারে যাত্রা শুরুর পরপরই বিশ্বের প্রথম ‘ট্রিলিয়নিয়ার’ বা লাখ কোটিপতি হওয়ার ঐতিহাসিক গৌরব অর্জন করেছেন ইলন মাস্ক। গত শুক্রবারের আগপর্যন্ত ‘ট্রিলিয়ন’ সংখ্যাটি কেবল গুটিকয় বড় অর্থনীতির জিডিপি কিংবা বিশাল ঋণের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হতে দেখা যেত, তবে এখন তা একজন ব্যক্তির একক সম্পদে পরিণত হয়েছে। প্রযুক্তি খাতের এই মহাতারকার সম্পদ যেভাবে লাফিয়ে

রকেট নির্মাতা প্রতিষ্ঠান স্পেসএক্স শেয়ারবাজারে যাত্রা শুরুর পরপরই বিশ্বের প্রথম

‘ট্রিলিয়নিয়ার’ বা লাখ কোটিপতি হওয়ার ঐতিহাসিক গৌরব অর্জন করেছেন ইলন মাস্ক। গত

শুক্রবারের আগপর্যন্ত ‘ট্রিলিয়ন’ সংখ্যাটি কেবল গুটিকয় বড় অর্থনীতির জিডিপি কিংবা

বিশাল ঋণের ক্ষেত্রেই ব্যবহৃত হতে দেখা যেত, তবে এখন তা একজন ব্যক্তির একক সম্পদে

পরিণত হয়েছে। প্রযুক্তি খাতের এই মহাতারকার সম্পদ যেভাবে লাফিয়ে বাড়ছে, তা আধুনিক

বিশ্ব অর্থনীতিতে এক নতুন অধ্যায়ের সূচনা করেছে।

মার্কিন সাময়িকী ফোর্বসের হিসাব অনুযায়ী, স্পেসএক্সের দুর্দান্ত অভিষেকের পর

মাস্কের মোট সম্পদের পরিমাণ এখন ১ লাখ ১০ হাজার কোটি (১.১ ট্রিলিয়ন) ডলারে

দাঁড়িয়েছে। ২০২৬ সালের জুনের বিনিময় হার অনুযায়ী, বাংলাদেশি মুদ্রায় এর পরিমাণ

প্রায় ১২৩ লাখ কোটি টাকা। অথচ একই সময়ে বিশ্বজুড়ে সাধারণ মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয়

মেটাতে হিমশিম খাওয়ার পরিস্থিতি তৈরি হওয়ায়, প্রথম কোনো ব্যক্তির ট্রিলিয়নিয়ার

হওয়ার এই ঘটনাকে অনেকে বৈষম্যের চরম উদাহরণ হিসেবে দেখছেন।

এক লাখ কোটি বা এক ট্রিলিয়ন সংখ্যাটি কল্পনা করাও সাধারণ মানুষের জন্য কঠিন। ১

ট্রিলিয়ন লিখতে ১-এর পর ১২টি শূন্য দিতে হয়। যদি এক ট্রিলিয়ন ডলারের কাগজের নোট

একটার পর একটা লম্বালম্বিভাবে সাজানো হয়, তবে তা প্রায় ১৫ কোটি ৬০ লাখ কিলোমিটার

পর্যন্ত বিস্তৃত হবে। এটি পৃথিবী থেকে চাঁদে ২০০ বারের বেশি যাতায়াতের সমান দূরত্ব

এবং পৃথিবী ও সূর্যের মধ্যবর্তী দূরত্বকেও ছাড়িয়ে যাবে।

ইউএস সেনসাস ব্যুরোর পরিসংখ্যান অনুযায়ী, বর্তমানে পৃথিবীতে প্রায় ৮২০ কোটি মানুষ

বাস করছে। এই এক ট্রিলিয়ন ডলার যদি বিশ্বের প্রতিটি মানুষের মধ্যে সমানভাবে ভাগ করে

দেওয়া হয়, তবে প্রত্যেকে প্রায় ১২২ ডলার বা ১৫ হাজার টাকা করে পাবেন। এছাড়া এই

বিশাল সম্পদ মাস্কের জন্মভূমি দক্ষিণ আফ্রিকার বার্ষিক জিডিপির দ্বিগুণেরও বেশি।

আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) তথ্যমতে, বর্তমানে বিশ্বের মাত্র ২১টি দেশ এক

ট্রিলিয়ন ডলার জিডিপির গণ্ডি পার করতে পেরেছে।

যুক্তরাষ্ট্রের আবাসন বাজারের চিত্র অনুযায়ী, মাস্কের এই সম্পদ দিয়ে বর্তমানে

দেশটিতে প্রায় ২৫ লাখ মাঝারি মানের বাড়ি একবারে কেনা সম্ভব। জ্বালানি তেলের বাজারেও

এর প্রভাব ব্যাপক। বর্তমান চড়া দামেও এক ট্রিলিয়ন ডলার দিয়ে প্রায় ২৪ হাজার ৩০০

কোটি গ্যালন তেল কেনা যাবে, যা দিয়ে পুরো যুক্তরাষ্ট্রের সব গাড়ি প্রায় দুই বছর

চালানো সম্ভব। উল্লেখ্য, ইরান-ইসরায়েল যুদ্ধের প্রভাবে বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে

তেলের দাম প্রতি গ্যালন ৪ ডলার ছাড়িয়েছে।

সম্পদের দৌড়ে মাস্ক তার নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীদের চেয়ে যোজন যোজন এগিয়ে গেছেন।

ফোর্বসের তালিকায় দ্বিতীয় অবস্থানে থাকা গুগলের সহ-প্রতিষ্ঠাতা ল্যারি পেজের চেয়ে

মাস্ক এখন প্রায় ৭০ হাজার ৬০০ কোটি ডলার এগিয়ে। এমনকি তালিকার পরবর্তী চারজন শীর্ষ

ধনীর—ল্যারি পেজ, সের্গেই ব্রিন, জেফ বেজোস ও ল্যারি এলিসন—মোট সম্পদ একত্রে যোগ

করলেও তা মাস্কের একক সম্পদের কাছাকাছি পৌঁছাবে।

শেয়ারবাজারের ওঠানামার কারণে এই সম্পদের পরিমাণ যেকোনো সময় পরিবর্তন হতে পারে। ২০২৪

সালে মাস্কের সম্পত্তি যেখানে ছিল মাত্র ১৯ হাজার ৫০০ কোটি ডলার, স্পেসএক্সের আইপিও

আসার সুবাদে তা এখন রকেটের গতিতে বেড়ে এক ট্রিলিয়ন ডলারে গিয়ে ঠেকেছে। ব্যক্তিগত এই

বিশাল প্রাচুর্য একদিকে যেমন প্রযুক্তির জয়জয়কার ঘোষণা করছে, অন্যদিকে বৈশ্বিক

অর্থনৈতিক বৈষম্য নিয়ে নতুন করে বিতর্কের জন্ম দিয়েছে।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos