বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে সাম্প্রতিক সময়ে নারী, শিশু, প্রবীণসহ বহু মানুষকে জোরপূর্বক পুশ-ইনের (ঠেলে পাঠানো) ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইন ও সালিশ কেন্দ্র (আসক)। সংগঠনটি দুই দেশের প্রতি বিষয়টির মানবাধিকারসম্মত সমাধানের আহ্বান জানিয়েছে। বৃহস্পতিবার (১১ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই আহ্বান জানায় আসক। বিশেষ করে নারী, শিশু ও প্রবীণ ব্যক্তিদের এ ধরনের ঘটনার শিকার হওয়ার বিষয়টি
বাংলাদেশ-ভারত সীমান্তে সাম্প্রতিক সময়ে নারী, শিশু, প্রবীণসহ বহু মানুষকে
জোরপূর্বক পুশ-ইনের (ঠেলে পাঠানো) ঘটনায় গভীর উদ্বেগ প্রকাশ করেছে আইন ও সালিশ
কেন্দ্র (আসক)। সংগঠনটি দুই দেশের প্রতি বিষয়টির মানবাধিকারসম্মত সমাধানের আহ্বান
জানিয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১১ জুন) এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এই আহ্বান জানায় আসক। বিশেষ করে নারী,
শিশু ও প্রবীণ ব্যক্তিদের এ ধরনের ঘটনার শিকার হওয়ার বিষয়টি নিয়ে উদ্বেগ জানিয়েছে
সংগঠনটি।
সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে আসক বলেছে, গণমাধ্যমে প্রকাশিত খবর অনুযায়ী সীমান্তের বিভিন্ন
পয়েন্টে বহু মানুষকে বাংলাদেশের দিকে ঠেলে দেওয়ার চেষ্টা করা হয়েছে। অনেক ক্ষেত্রে
তাদের জাতীয়তা ও পরিচয় যথাযথভাবে যাচাই করা হয়নি। আইনসম্মত ও স্বচ্ছ প্রক্রিয়া
অনুসরণ না করেই তাদের বাংলাদেশে প্রবেশে বাধ্য করার চেষ্টা করা হয়েছে বলে
প্রতিবেদনে উঠে এসেছে।
আসক বলেছে, কোনো ব্যক্তিকে অন্য দেশের নাগরিক বলে সন্দেহ করা হলেও তার সঙ্গে
অমানবিক বা অবমাননাকর আচরণ করা গ্রহণযোগ্য নয়। মানুষের মৌলিক অধিকার তার জাতীয়তা,
ধর্ম, ভাষা বা অভিবাসন অবস্থার ওপর নির্ভর করে না। প্রত্যেক মানুষ মানবিক মর্যাদা
পাওয়ার অধিকার রাখে।
সংগঠনটি বলেছে, আন্তর্জাতিক মানবাধিকার নীতিমালা অনুযায়ী কাউকে এমন পরিস্থিতিতে
ফেলা যাবে না, যেখানে তার জীবন, নিরাপত্তা, স্বাস্থ্য বা মর্যাদা ঝুঁকির মুখে পড়ে।
সীমান্তে থাকা ব্যক্তিদের পরিচয় ও আইনি অবস্থান যাচাইয়ের জন্য রাষ্ট্রগুলোর কাছে
কূটনৈতিক ও প্রশাসনিক ব্যবস্থা রয়েছে। সেই প্রক্রিয়া অনুসরণ করেই বিষয়গুলোর সমাধান
হওয়া উচিত।
আসক আরও বলেছে, সাম্প্রতিক ঘটনায় অনেক মানুষকে দিনের পর দিন শূন্যরেখায় অবস্থান
করতে হয়েছে। সেখানে খাদ্য, বিশুদ্ধ পানি, চিকিৎসা ও নিরাপদ আশ্রয়ের মতো মৌলিক
সুবিধা থেকে তারা বঞ্চিত হয়েছেন। এ ধরনের পরিস্থিতি মানবিক মূল্যবোধের পরিপন্থী।
অনেক ক্ষেত্রে এটি নিষ্ঠুর ও অমানবিক আচরণ হিসেবেও বিবেচিত হতে পারে।
সংগঠনটি মনে করে, কোনো ব্যক্তি কোন দেশের নাগরিক—এ প্রশ্নের সমাধান স্বচ্ছ,
আইনসম্মত ও পারস্পরিকভাবে স্বীকৃত প্রক্রিয়ার মাধ্যমে হওয়া উচিত। এ জন্য দুই দেশের
মধ্যে তথ্যবিনিময়, পরিচয় যাচাই এবং প্রয়োজনীয় কূটনৈতিক উদ্যোগ নেওয়া প্রয়োজন।
আসক বাংলাদেশ ও ভারতের সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের প্রতি আহ্বান জানিয়েছে মানবাধিকার,
আইনের শাসন ও মানবিক মূল্যবোধকে গুরুত্ব দিয়ে পরিস্থিতি মোকাবিলা করতে। একই সঙ্গে
সীমান্তে অবস্থানরত মানুষের নিরাপত্তা, মর্যাদা ও মানবিক সুরক্ষা নিশ্চিত করারও
আহ্বান জানিয়েছে সংগঠনটি।











