অলরাউন্ড নৈপুণ্যে প্রত্যাবর্তন রাঙালেন মোসাদ্দেক

অলরাউন্ড নৈপুণ্যে প্রত্যাবর্তন রাঙালেন মোসাদ্দেক

দীর্ঘ ১৪০৪ দিন পর জাতীয় দলের ওয়ানডে একাদশে ফিরেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেন অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ব্যাট ও বল হাতে তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দলের জন্য বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখা দিয়েছে। ৩০ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারের জন্য এই ম্যাচটি ছিল নিজেকে নতুন করে চেনার এবং দলে নিজের প্রয়োজনীয়তা প্রমাণের এক

দীর্ঘ ১৪০৪ দিন পর জাতীয় দলের ওয়ানডে একাদশে ফিরেই নিজের সামর্থ্যের প্রমাণ দিলেন

অলরাউন্ডার মোসাদ্দেক হোসেন সৈকত। অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে সিরিজের প্রথম ম্যাচে ব্যাট

ও বল হাতে তাঁর দুর্দান্ত পারফরম্যান্স দলের জন্য বড় প্রাপ্তি হিসেবে দেখা দিয়েছে।

৩০ বছর বয়সী এই ক্রিকেটারের জন্য এই ম্যাচটি ছিল নিজেকে নতুন করে চেনার এবং দলে

নিজের প্রয়োজনীয়তা প্রমাণের এক বড় পরীক্ষা। সেই পরীক্ষায় তিনি কেবল উত্তীর্ণই হননি,

বরং দীর্ঘ চার বছরের বিরতির কোনো ছাপও নিজের খেলায় পড়তে দেননি।

ব্যাট হাতে যখন বাংলাদেশ দল বিপর্যয়ের মুখে পড়েছিল, তখন অত্যন্ত ধৈর্য ও দক্ষতার

সাথে দলের হাল ধরেন মোসাদ্দেক। শুরুতে দায়িত্বশীল ব্যাটিংয়ের পর ইনিংসের শেষ দিকে

আগ্রাসী রূপ ধারণ করে তিনি ৮৬ রানের একটি অনবদ্য অপরাজিত ইনিংস উপহার দেন। ৭টি চার

ও ৩টি ছক্কায় সাজানো এই ইনিংসটি বাংলাদেশকে একটি লড়াকু পুঁজিতে পৌঁছে দিতে প্রধান

ভূমিকা রাখে। বিশেষ করে স্লগ ওভারে লেজের সারির ব্যাটারদের নিয়ে তিনি যেভাবে

ইনিংসটি টেনে নিয়েছেন, তা দলের আত্মবিশ্বাস বহুগুণ বাড়িয়ে দিয়েছে।

ব্যাটিংয়ের পর বল হাতেও সমান কার্যকর ছিলেন এই অফ-স্পিনিং অলরাউন্ডার। নিজের

নির্ধারিত ১০ ওভারে মাত্র ৩৭ রান খরচ করে তিনি শিকার করেন ২ উইকেট। অস্ট্রেলিয়ার

শক্তিশালী ব্যাটিং লাইনআপের বিপক্ষে রান আটকে রাখার পাশাপাশি গুরুত্বপূর্ণ সময়ে

ব্রেকথ্রু এনে দিয়ে তিনি দলের ভারসাম্য বজায় রাখেন। নিয়ন্ত্রিত বোলিং আর

বুদ্ধিদীপ্ত ফিল্ডিংয়ের মাধ্যমে মোসাদ্দেক প্রমাণ করেছেন যে, দীর্ঘ সময় দলের বাইরে

থাকলেও তাঁর ধার কমেনি।

উল্লেখ্য, ঘরোয়া ক্রিকেটে নিয়মিত ভালো খেলেও জাতীয় দলে ব্রাত্য ছিলেন মোসাদ্দেক।

তাঁর দলে সুযোগ পাওয়া নিয়ে নির্বাচক মহলে বেশ কিছু বিতর্ক ছিল। সাবেক নির্বাচক গাজী

আশরাফ লিপুর একটি মন্তব্য ক্রিকেট পাড়ায় আলোচনার জন্ম দিয়েছিল, যেখানে মোসাদ্দেককে

অন্য অলরাউন্ডারদের ছায়া হিসেবে দেখা হয়েছিল। তবে হতাশা ও আক্ষেপকে দূরে সরিয়ে

ডিপিএল ও বিসিএলে টানা পারফরম্যান্স করে নির্বাচকদের নজরে ফেরেন তিনি। আজকের এই

অলরাউন্ড নৈপুণ্য মূলত তাঁর দীর্ঘদিনের পরিশ্রম আর ধৈর্যরই সার্থক প্রতিফলন।

২০২২ সালের আগস্টে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে সর্বশেষ ওয়ানডে খেলেছিলেন মোসাদ্দেক। চার

বছরের ব্যবধানে অভিজ্ঞতার ভাণ্ডার সমৃদ্ধ করে তিনি যখন পুনরায় লাল-সবুজ জার্সিতে

নামলেন, তখন মাঠের পারফরম্যান্স দিয়েই সব সমালোচনার জবাব দিলেন। দলের একজন সিনিয়র

সদস্য হিসেবে কঠিন মুহূর্তে দায়িত্ব নেওয়ার মানসিকতা তাঁকে পুনরায় বাংলাদেশের

অপরিহার্য সদস্য হিসেবে প্রতিষ্ঠিত করল। তাঁর এই সফল প্রত্যাবর্তন আসন্ন

সিরিজগুলোতে বাংলাদেশ দলের রণকৌশলে নতুন মাত্রা যোগ করবে বলে মনে করছেন ক্রীড়া

বিশ্লেষকরা।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos