চলে গেলেন মালয়ালম অভিনেতা ও মিম কিং সেলিম কুমার

চলে গেলেন মালয়ালম অভিনেতা ও মিম কিং সেলিম কুমার

ভারতের জনপ্রিয় মালয়ালম অভিনেতা সেলিম কুমার আর নেই। গত ৭ জুন রাতে কোচিতে একটি বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে লিভারের জটিলতায় ভুগছিলেন এবং কয়েক বছর আগে তাঁর লিভার প্রতিস্থাপনও করা হয়েছিল। তাঁর এই আকস্মিক প্রয়াণে ভারতের দক্ষিণী চলচ্চিত্র অঙ্গনসহ

ভারতের জনপ্রিয় মালয়ালম অভিনেতা সেলিম কুমার আর নেই। গত ৭ জুন রাতে কোচিতে একটি

বেসরকারি হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তিনি শেষনিঃশ্বাস ত্যাগ করেন। মৃত্যুকালে

তাঁর বয়স হয়েছিল ৫৬ বছর। হাসপাতাল সূত্রে জানা গেছে, তিনি দীর্ঘদিন ধরে লিভারের

জটিলতায় ভুগছিলেন এবং কয়েক বছর আগে তাঁর লিভার প্রতিস্থাপনও করা হয়েছিল। তাঁর এই

আকস্মিক প্রয়াণে ভারতের দক্ষিণী চলচ্চিত্র অঙ্গনসহ সারা দেশের অভিনয় জগতে শোকের

ছায়া নেমে এসেছে। তাঁর সাবলীল অভিনয় আর হাস্যরসের ধরন কয়েক দশক ধরে দর্শকদের হৃদয়ে

বিশেষ জায়গা করে নিয়েছিল।

সেলিম কুমারের বর্ণিল ক্যারিয়ারের শুরুটা হয়েছিল মঞ্চে একজন মিমিক্রি শিল্পী

হিসেবে। ১৯৬৯ সালে কেরালার নর্থ পারাভুরে জন্মগ্রহণ করা এই শিল্পী ছাত্রজীবন থেকেই

অভিনয়ের প্রতি প্রবল আগ্রহী ছিলেন। কেরালা তথা দক্ষিণ ভারতের বিখ্যাত সাংস্কৃতিক

প্রতিষ্ঠান কালাভবনের হয়ে মঞ্চে পারফর্ম করার মাধ্যমে তিনি দ্রুত পরিচিতি লাভ করেন।

মিমিক্রি করার সময় তাঁর চমৎকার কমিক টাইমিং এবং উপস্থিত বুদ্ধির কারণে তিনি

দর্শকদের পছন্দের শীর্ষে চলে আসেন। মঞ্চের এই আকাশচুম্বী জনপ্রিয়তাই শেষ পর্যন্ত

১৯৯৭ সালে তাঁকে বড় পর্দার পথে নিয়ে যায়।

১৯৯৭ সালে ইস্তামানুর নুরু ভাত্তাম চলচ্চিত্রের মাধ্যমে অভিষেক হওয়ার পর সেলিম

কুমারকে আর পেছনে ফিরে তাকাতে হয়নি। ২০০০ সালে মুক্তি পাওয়া সত্যমেবা জায়তি ছবিতে

মাট্টানচেরি মাম্মাথু চরিত্রটি করার পর তিনি মালয়ালম সিনেমার অপরিহার্য কৌতুক

অভিনেতা হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হন। একসময় এমন পরিস্থিতি তৈরি হয়েছিল যে, সে দেশের

চলচ্চিত্রে কৌতুক দৃশ্যের কথা ভাবলেই পরিচালকদের প্রথম পছন্দ ছিলেন সেলিম কুমার। শত

শত চলচ্চিত্রে অভিনয় করে তিনি নিজেকে এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গিয়েছিলেন এবং সাধারণ

মানুষের যাপিত জীবনের আবেগ-অনুভূতির এক জাদুকরী মুখপাত্র হয়ে উঠেছিলেন।

সেলিম কুমার কেবল কৌতুক অভিনেতা হিসেবেই সীমাবদ্ধ থাকেননি, বরং গম্ভীর ও জীবনঘনিষ্ঠ

চরিত্রে অভিনয় করেও তাঁর সামর্থ্যের প্রমাণ দিয়েছেন। ২০১০ সালে মুক্তি পাওয়া

আদামিনতে মাকান আবু চলচ্চিত্রে একজন বৃদ্ধ মুসলিম ব্যক্তির চরিত্রে তাঁর

হৃদয়স্পর্শী অভিনয় চলচ্চিত্র মহলে ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি করে। এই অসাধারণ কাজের

স্বীকৃতিস্বরূপ তিনি সেই বছর শ্রেষ্ঠ অভিনেতা হিসেবে ভারতের মর্যাদাপূর্ণ জাতীয়

চলচ্চিত্র পুরস্কার অর্জন করেন। ভারতীয় চলচ্চিত্রের ইতিহাসে কৌতুক অভিনেতার ইমেজ

ভেঙে জাতীয় পুরস্কার জয় করার মতো বিরল কীর্তি হাতেগোনা যে কয়েকজন অভিনেতার রয়েছে,

সেলিম কুমার ছিলেন তাঁদের অন্যতম।

ডিজিটাল যুগে এসে সেলিম কুমার এক নতুন প্রজন্মের কাছে মিম কিং হিসেবে পরিচিতি পান।

তাঁর সিনেমার বিভিন্ন অভিব্যক্তি এবং সংলাপ সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে মিম ও রাজনৈতিক

ব্যঙ্গ হিসেবে ব্যাপক জনপ্রিয়তা লাভ করে। তাঁর প্রতিটি মুভমেন্ট যেন নেটিজেনদের

কাছে কোনো না কোনো অনুভূতির ভাষা হয়ে দাঁড়িয়েছিল। ব্যক্তিগত জীবনে তিনি ছিলেন

অত্যন্ত স্পষ্টভাষী এবং সত্যনিষ্ঠ মানুষ। স্ত্রী সুনীতা এবং দুই ছেলে চন্দু ও

অরোমলকে নিয়ে ছিল তাঁর সংসার। তাঁর বিদায়ে কেবল একটি প্রাণবন্ত মানুষেরই সমাপ্তি

ঘটেনি, বরং ভারতীয় চলচ্চিত্র তার একজন দক্ষ ও বৈচিত্র্যময় অভিনেতা হারাল।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos