ভারতীয় ক্রিকেট দলে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে বিসিসিআই। আসন্ন আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফরের জন্য ঘোষিত টি-টোয়েন্টি দলে অধিনায়কের দায়িত্ব পেয়েছেন শ্রেয়াস আইয়ার। এই পরিবর্তনের মাঝে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে প্রথমবারের মতো জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন মাত্র ১৫ বছর বয়সী বিস্ময়বালক বৈভব সূর্যবংশী। অন্যদিকে, দল থেকে বাদ পড়েছেন বর্তমান অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। বিসিসিআই-এর এই সাহসী
ভারতীয় ক্রিকেট দলে বড় ধরনের পরিবর্তনের ঘোষণা দিয়েছে বিসিসিআই। আসন্ন
আয়ারল্যান্ড ও ইংল্যান্ড সফরের জন্য ঘোষিত টি-টোয়েন্টি দলে অধিনায়কের দায়িত্ব
পেয়েছেন শ্রেয়াস আইয়ার। এই পরিবর্তনের মাঝে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে প্রথমবারের
মতো জাতীয় দলে ডাক পেয়েছেন মাত্র ১৫ বছর বয়সী বিস্ময়বালক বৈভব সূর্যবংশী।
অন্যদিকে, দল থেকে বাদ পড়েছেন বর্তমান অধিনায়ক সূর্যকুমার যাদব। বিসিসিআই-এর এই
সাহসী সিদ্ধান্ত ভারতের ভবিষ্যৎ ক্রিকেট পরিকল্পনায় এক নতুন মোড় হিসেবে দেখা
হচ্ছে, যেখানে তারুণ্য এবং নেতৃত্ব দেওয়ার অভিজ্ঞতাকে প্রাধান্য দেওয়া হয়েছে।
নেতৃত্ব হারানো সূর্যকুমার যাদবের জন্য এই বাদ পড়া বড় এক ধাক্কা। ২০২৬ টি-টোয়েন্টি
বিশ্বকাপে প্রত্যাশিত পারফরম্যান্সের অভাব এবং সাম্প্রতিক আইপিএলে ধারাবাহিক
ব্যর্থতার কারণেই তাঁকে নির্বাচকরা স্কোয়াড থেকে সরিয়ে দিয়েছেন। অন্যদিকে, প্রায়
তিন বছর পর জাতীয় দলে ফিরে সরাসরি অধিনায়কের দায়িত্ব পেলেন ৩১ বছর বয়সী শ্রেয়াস
আইয়ার। আইপিএলে কলকাতা নাইট রাইডার্সকে শিরোপা জেতানো এবং বিভিন্ন দলকে ফাইনালে
তোলার সফল অভিজ্ঞতার ওপর ভিত্তি করেই তাঁর ওপর এই বড় আস্থা রেখেছে ভারতীয় ক্রিকেট
বোর্ড। আইয়ার সর্বশেষ ২০২৩ সালের ডিসেম্বরে ভারতের জার্সিতে টি-টোয়েন্টি খেলেছিলেন।
স্কোয়াডের সবচেয়ে আলোচিত নাম ১৫ বছরের বৈভব সূর্যবংশী। আইপিএলে অবিশ্বাস্য
পারফরম্যান্সের সুবাদে তিনি ভারতের ভবিষ্যৎ টি-টোয়েন্টি পরিকল্পনা এবং ২০২৮
অলিম্পিকের প্রস্তুতির অংশ হিসেবে দলে ডাক পেয়েছেন। এই নির্বাচনের মাধ্যমে তিনি
ভারতের সর্বকনিষ্ঠ ক্রিকেটার হিসেবে টি-টোয়েন্টি দলে জায়গা করে নেওয়ার অনন্য রেকর্ড
গড়লেন। তবে মূল জাতীয় দলে খেলার আগে তিনি ভারতের ‘এ’ দলের হয়ে শ্রীলঙ্কা ও
আফগানিস্তানের বিপক্ষে একটি ত্রিদেশীয় সিরিজে অংশ নেবেন। নির্বাচকরা মনে করছেন, বড়
মঞ্চে নামার আগে এই অভিজ্ঞতা তাঁকে আন্তর্জাতিক চাপের সাথে খাপ খাইয়ে নিতে সাহায্য
করবে।
ভারতের এই নতুন সফরসূচি অনুযায়ী আগামী ২৬ ও ২৮ জুন আয়ারল্যান্ডের বিপক্ষে দুটি
টি-টোয়েন্টি ম্যাচ অনুষ্ঠিত হবে। এরপর ১ থেকে ১১ জুলাই পর্যন্ত ইংল্যান্ডের বিপক্ষে
পাঁচটি টি-টোয়েন্টি ম্যাচের একটি পূর্ণাঙ্গ সিরিজ খেলবে ভারত। ঘোষিত এই শক্তিশালী
স্কোয়াডে তিলক ভার্মাকে সহ-অধিনায়কের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। দলে অভিষেক শর্মা, সঞ্জু
স্যামসন ও ইশান কিষানের মতো তারকাদের পাশাপাশি মোহাম্মদ সিরাজ, অর্শদীপ সিং এবং
হর্ষিত রানাদের নিয়ে বোলিং আক্রমণ সাজানো হয়েছে। এছাড়া নতুন মুখ হিসেবে সুযোগ
পেয়েছেন নীতিশ কুমার রেড্ডি ও প্রিন্স যাদব।
ভারতের এই ১৫ সদস্যের নতুন স্কোয়াড মূলত আগামী বিশ্বকাপের প্রস্তুতির একটি বড়
পরীক্ষা হিসেবে বিবেচিত হচ্ছে। অভিজ্ঞ শ্রেয়াস আইয়ারের নেতৃত্বে এই তরুণ দলটি
বিদেশের মাটিতে কেমন পারফরম্যান্স করে, তার ওপর নির্ভর করছে ভারতের আগামীর
টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের স্থিতিশীলতা। ক্রিকেট বিশ্লেষকদের মতে, সূর্যকুমারকে বাদ
দেওয়া এবং ১৫ বছরের বৈভবকে দলে নেওয়ার মাধ্যমে ভারত একটি নতুন প্রজন্মের দিকে
যাত্রা শুরু করল। ভক্তদের নজর এখন বিশেষ করে কনিষ্ঠতম সদস্য বৈভবের দিকে, যার
প্রতিভা নিয়ে ক্রিকেট বিশ্বে ইতিপূর্বেই ব্যাপক আলোড়ন সৃষ্টি হয়েছে।











