ভিসা জটিলতায় ইরানের বিশ্বকাপ যাত্রা নিয়ে অনিশ্চয়তা

ভিসা জটিলতায় ইরানের বিশ্বকাপ যাত্রা নিয়ে অনিশ্চয়তা

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের পর্দা ওঠার আর দুই সপ্তাহও বাকি নেই, অথচ মধ্যপ্রাচ্যের রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা ইস্যুর কারণে এখনও ভিসা অনিশ্চয়তায় ভুগছে ইরান জাতীয় ফুটবল দল। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে হতে যাওয়া এই আসরে অংশ নিতে ইরান ফুটবল ফেডারেশন এখন সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে। ফেডারেশনের প্রধান মেহদি তাজ জানিয়েছেন, তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী দলটি

২০২৬ ফুটবল বিশ্বকাপের পর্দা ওঠার আর দুই সপ্তাহও বাকি নেই, অথচ মধ্যপ্রাচ্যের

রাজনৈতিক উত্তেজনা ও নিরাপত্তা ইস্যুর কারণে এখনও ভিসা অনিশ্চয়তায় ভুগছে ইরান জাতীয়

ফুটবল দল। যুক্তরাষ্ট্র, মেক্সিকো ও কানাডার যৌথ আয়োজনে হতে যাওয়া এই আসরে অংশ নিতে

ইরান ফুটবল ফেডারেশন এখন সময়ের সঙ্গে পাল্লা দিচ্ছে। ফেডারেশনের প্রধান মেহদি তাজ

জানিয়েছেন, তাদের পরিকল্পনা অনুযায়ী দলটি আগামী শনিবার স্পেনের উদ্দেশে রওনা হবে

এবং সেখান থেকে সরাসরি মেক্সিকোর তিজুয়ানায় পৌঁছাবে। তারা আশা করছেন, আগামী

মঙ্গলবারের মধ্যে মেক্সিকোর এবং শুক্রবারের মধ্যে যুক্তরাষ্ট্রের ভিসা হাতে আসবে।

নিরাপত্তাঝুঁকির কথা বিবেচনা করে ইরানের ট্রেনিং বেজ বা প্রশিক্ষণ শিবির নিয়ে বড়

ধরনের পরিবর্তন আনা হয়েছে। প্রথমে যুক্তরাষ্ট্রের অ্যারিজোনা অঙ্গরাজ্যের টাকসনে

তাদের ঘাঁটি হওয়ার কথা থাকলেও ইরানি ফেডারেশনের অনুরোধে তা সরিয়ে মেক্সিকোর

তিজুয়ানাতে নেওয়া হয়েছে। এই পরিবর্তনের কারণেই মূলত মেক্সিকোর ভিসার প্রয়োজনীয়তা

দেখা দিয়েছে, যা দলটির জন্য নতুন এক প্রশাসনিক চ্যালেঞ্জ তৈরি করেছে। বর্তমানে ইরান

দল তুরস্কের আনতালিয়া শহরে তাদের শেষ মুহূর্তের প্রস্তুতি সারছে, যেখান থেকে তারা

উত্তর আমেরিকার পথে রওনা হবে।

ইরানের বিশ্বকাপে অংশগ্রহণ নিয়ে রাজনৈতিক জলঘোলা শুরু হয় চলতি বছরের ফেব্রুয়ারিতে,

যখন যুক্তরাষ্ট্র ও ইসরায়েল ইরানে যৌথ হামলা চালায়। এরপর থেকেই ‘টিম মেলি’র

বিশ্বমঞ্চে খেলা নিয়ে আন্তর্জাতিক মহলে নানা জল্পনা তৈরি হয়। তবে ফিফা শুরু থেকেই

বলে আসছে যে, ইরান এই টুর্নামেন্টে পুরোদমে অংশ নেবে। তা সত্ত্বেও ভিসা সংক্রান্ত

জটিলতা এপ্রিলে নতুন মোড় নেয়, যখন ইরানি ফেডারেশনের প্রধান মেহদি তাজের কানাডায়

প্রবেশের ভিসা বাতিল করা হয়। কারণ হিসেবে অতীতে ইরানের রেভল্যুশনারি গার্ডের

(আইআরজিসি) সাথে তাঁর সম্পর্কের অভিযোগ তোলা হয়েছে, যে সংস্থাকে উত্তর আমেরিকার

দেশগুলো সন্ত্রাসী সংগঠন হিসেবে গণ্য করে।

যুক্তরাষ্ট্রের পররাষ্ট্রমন্ত্রী মার্কো রুবিও এই ভিসা প্রক্রিয়ার বিষয়ে একটি কড়া

বার্তা দিয়েছেন। তিনি এক শুনানিতে জানিয়েছেন, ইরানি অ্যাথলেট বা খেলোয়াড়দের নিয়ে

তাদের কোনো সমস্যা নেই, তবে প্রতিনিধি দলের ভেতরে এমন কাউকে ঢুকিয়ে দেওয়া কোনোভাবেই

মেনে নেওয়া হবে না যাদের সঙ্গে খেলাধুলার কোনো সম্পর্ক নেই এবং যাদের আইআরজিসি বা

সমজাতীয় সংস্থার সাথে সম্পৃক্ততা রয়েছে। মার্কিন প্রশাসন ইরানি প্রতিনিধি দলের

প্রতিটি সদস্যের ওপর অত্যন্ত কড়া নজরদারি চালিয়ে যাওয়ার ঘোষণা দিয়েছে, যাতে

নিরাপত্তা ও কূটনৈতিক নীতির কোনো লঙ্ঘন না ঘটে।

মাঠের লড়াইয়ে ইরান তাদের প্রথম ম্যাচে ১৫ জুন ক্যালিফোর্নিয়ার ইঙ্গলউডে

নিউজিল্যান্ডের মুখোমুখি হবে। এরপর ২১ জুন বেলজিয়াম এবং ২৬ জুন সিয়াটলে মিসরের

বিপক্ষে তাদের পরবর্তী ম্যাচগুলো অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা রয়েছে। রাজনৈতিক বৈরিতা এবং

যুদ্ধাবস্থার কারণে ইরানের ঘরোয়া পেশাদার ফুটবল বর্তমানে বন্ধ থাকলেও খেলোয়াড়রা

বিদেশের মাটিতে কঠোর অনুশীলনের মাধ্যমে নিজেদের ফিটনেস ধরে রেখেছেন। এখন কেবল

নির্ধারিত সময়ে ভিসা পাওয়া এবং নিরাপদে ভেন্যুতে পৌঁছানোর ওপরেই নির্ভর করছে ইরানের

এবারের বিশ্বকাপ ভাগ্য।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos