আসন্ন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ২৬ সদস্যের শক্তিশালী চূড়ান্ত দল ঘোষণা করেছেন স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তবে ঘোষিত এই স্কোয়াডে সবচেয়ে বড় চমক হিসেবে উঠে এসেছে নিয়মিত অধিনায়ক ও অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার আলভারো মোরাতার নাম না থাকা। সদ্য সমাপ্ত ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে শিরোপা জেতালেও, বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে তাঁকে
আসন্ন ২০২৬ ফিফা বিশ্বকাপকে সামনে রেখে ২৬ সদস্যের শক্তিশালী চূড়ান্ত দল ঘোষণা
করেছেন স্প্যানিশ কোচ লুইস দে লা ফুয়েন্তে। তবে ঘোষিত এই স্কোয়াডে সবচেয়ে বড় চমক
হিসেবে উঠে এসেছে নিয়মিত অধিনায়ক ও অভিজ্ঞ স্ট্রাইকার আলভারো মোরাতার নাম না থাকা।
সদ্য সমাপ্ত ইউরো চ্যাম্পিয়নশিপে দলকে সামনে থেকে নেতৃত্ব দিয়ে শিরোপা জেতালেও,
বিশ্বকাপের মতো বড় আসরে তাঁকে দলের বাইরে রাখার সিদ্ধান্ত নিয়েছেন কোচ। মূলত
আক্রমণভাগে তরুণ ফুটবলারদের ওপর অধিক ভরসা রাখতে গিয়েই দে লা ফুয়েন্তে এই কঠিন ও
সাহসী পদক্ষেপ নিয়েছেন বলে মনে করা হচ্ছে।
দলের অভিজ্ঞ খেলোয়াড়দের অনুপস্থিতির পাশাপাশি ইনজুরি সমস্যাও স্প্যানিশ শিবিরে
কিছুটা অস্বস্তি তৈরি করেছে। বার্সেলোনার তরুণ তারকা ফের্মিন লোপেজ পায়ের হাড় ভেঙে
যাওয়ায় এবং পরবর্তী অস্ত্রোপচারের কারণে বিশ্বকাপ থেকে ছিটকে গেছেন। তবে আরেক
বিস্ময় বালক লামিনে ইয়ামালকে নিয়ে ঝুঁকি নিয়েছে টিম ম্যানেজমেন্ট। চোট থাকা
সত্ত্বেও তাঁকে ২৬ সদস্যের তালিকায় রাখা হয়েছে, যদিও ফিটনেস সমস্যার কারণে কেপ
ভার্দের বিপক্ষে স্পেনের উদ্বোধনী ম্যাচে সম্ভবত তাঁকে মাঠের বাইরেই থাকতে হচ্ছে।
ইয়ামালকে টুর্নামেন্টের পরের দিকের ম্যাচগুলোর জন্য প্রস্তুত রাখতেই এমন সিদ্ধান্ত
নেওয়া হয়েছে।
স্পেনের এবারের মাঝমাঠকে অত্যন্ত ভারসাম্যপূর্ণ ও শক্তিশালী হিসেবে বিবেচনা করা
হচ্ছে। ব্যালন ডি’অর জয়ী তারকা রদ্রিগো হার্নান্দেজ বা রদ্রির নেতৃত্বে মাঝমাঠে
থাকছেন তরুণ ও প্রতিভাবান গাভি এবং পেদ্রি। রদ্রির অভিজ্ঞতা এবং গাভি-পেদ্রির
সৃজনশীলতা স্পেনের আক্রমণকে নতুন মাত্রা দেবে বলে ক্রীড়া বিশ্লেষকরা ধারণা করছেন।
এছাড়া রক্ষণভাগ সাজানো হয়েছে আইমেরিক লাপোর্তে ও পাউ কুবারসির মতো নির্ভরযোগ্য
খেলোয়াড়দের নিয়ে। গোলপোস্ট সামলানোর দায়িত্ব থাকছে উনাই সিমন, ডেভিড রায়া ও জোয়ান
গার্সিয়ার ওপর।
ঘোষিত স্কোয়াডে আক্রমণভাগের দায়িত্ব সামলাবেন নিকো উইলিয়ামস, দানি অলমো এবং ফেররান
তোরেসের মতো ক্ষিপ্রগতির ফরোয়ার্ডরা। মোরাতার অনুপস্থিতিতে গোল করার প্রধান দায়িত্ব
থাকবে তাদের কাঁধে। এছাড়া দলে জায়গা পেয়েছেন ইয়েরেমি পিনো ও বোর্হা ইগলেসিয়াসের
মতো খেলোয়াড়রা, যারা স্পেনের আক্রমণভাগকে আরও বৈচিত্র্যময় করে তুলবেন। কোচ দে লা
ফুয়েন্তে মূলত তারুণ্য এবং গতির সমন্বয়ে একটি আক্রমণাত্মক ফুটবল খেলার পরিকল্পনা
করছেন, যা প্রতিপক্ষের রক্ষণভাগকে চাপে রাখতে সক্ষম হবে।
স্পেন আগামী ১৪ জুন কেপ ভার্দের বিপক্ষে ম্যাচ দিয়ে তাদের বিশ্বকাপ মিশন শুরু করবে।
গ্রুপ ‘এইচ’-এ তাদের অন্য দুই প্রতিপক্ষ হচ্ছে সৌদি আরব এবং সাবেক বিশ্ব চ্যাম্পিয়ন
উরুগুয়ে। কেপ ভার্দের বিপক্ষে সহজ জয়ের লক্ষ্য নিয়ে শুরু করলেও উরুগুয়ে ও সৌদি
আরবের বিপক্ষে লড়াইটি বেশ চ্যালেঞ্জিং হবে বলে মনে করা হচ্ছে। ইউরো জয়ের
আত্মবিশ্বাস পুঁজি করে তারুণ্যনির্ভর এই স্প্যানিশ দলটি বিশ্বমঞ্চে কতদূর যেতে
পারে, সেটিই এখন ফুটবল বিশ্বের বড় কৌতূহলের বিষয়।











