মালিতে সশস্ত্র হামলায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিহত

মালিতে সশস্ত্র হামলায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী নিহত

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালির বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় একযোগে চালানো হামলায় প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল সাদিও কামারা নিহত হয়েছেন। রোববার দেশটির একাধিক সূত্র ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করেছেন। এর আগে, গত শনিবার দেশটির কাটি শহরে সাদিও কামারার বাসভবনে জঙ্গিগোষ্ঠী আল-কায়েদার সহযোগী সংগঠন এবং তুয়ারেগ বিদ্রোহীরা হামলা চালান। শহরের বিভিন্ন সরকারি ও সামরিক স্থাপনায় চালানো

পশ্চিম আফ্রিকার দেশ মালির বিভিন্ন সামরিক স্থাপনায় একযোগে চালানো হামলায়

প্রতিরক্ষামন্ত্রী জেনারেল সাদিও কামারা নিহত হয়েছেন। রোববার দেশটির একাধিক সূত্র

ফরাসি বার্তা সংস্থা এএফপিকে প্রতিরক্ষামন্ত্রীর প্রাণহানির তথ্য নিশ্চিত করেছেন।

এর আগে, গত শনিবার দেশটির কাটি শহরে সাদিও কামারার বাসভবনে জঙ্গিগোষ্ঠী আল-কায়েদার

সহযোগী সংগঠন এবং তুয়ারেগ বিদ্রোহীরা হামলা চালান। শহরের বিভিন্ন সরকারি ও সামরিক

স্থাপনায় চালানো ওই হামলায় প্রতিরক্ষামন্ত্রীর বাসভবনও লক্ষ্যবস্তু করেন জঙ্গিরা।

মালিতে ২০২০ এবং ২০২১ সালে পরপর সংঘটিত দুটি অভ্যুত্থানের মাধ্যমে ক্ষমতা দখলকারী

সামরিক সরকারের অন্যতম প্রধান নেতা ছিলেন কামারা। মালি থেকে দীর্ঘদিন সংবাদ সংগ্রহ

করা আল-জাজিরার নিকোলাস হক বলেন, ‘তিনি ক্ষমতাসীন সামরিক নেতাদের মধ্যে অন্যতম

প্রভাবশালী ব্যক্তি ছিলেন এবং কেউ কেউ তাকে মালির সম্ভাব্য ভবিষ্যৎ নেতা হিসেবে

দেখতেন।’

হক বলেন, ‘হামলাকারীরা কাটি শহরে কামারার বাসভবনে একটি আত্মঘাতী গাড়ি বোমা বিস্ফোরণ

ঘটিয়েছে। রাজধানী বামাকো থেকে প্রায় ১৫ কিলোমিটার (৯ মাইল) উত্তর-পশ্চিমে অবস্থিত

ওই দুর্গসম সামরিক শহরে অন্তর্বর্তীকালীন প্রেসিডেন্ট আসিমি গোইতাও বসবাস করেন।’

তিনি আরও বলেন, ‘কাটিকে দেশের অন্যতম সুরক্ষিত স্থান হিসেবে বিবেচনা করা হয়। তা

সত্ত্বেও আল-কায়েদা সংশ্লিষ্ট জামাত নুসরাত আল-ইসলাম ওয়াল-মুসলিমিন (জেএমআইএন) এবং

আজাওয়াদ লিবারেশন ফ্রন্টের (এফএলএ) তুয়ারেগ যোদ্ধারা সেখানে হামলা চালিয়েছেন।’

তিনি বলেন, প্রেসিডেন্ট গোইতা একটি সুরক্ষিত স্থানে নিরাপদে আছেন। হামলা শুরু হওয়ার

সময় তাকে নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নেওয়া হয়। ফলে তিনি সামরিক বাহিনীর কমান্ডে বহাল

রয়েছেন।’ সশস্ত্র জঙ্গিরা মালির রাজধানী বামাকো ছাড়াও উত্তরের গাও ও কিদাল এবং

মধ্যাঞ্চলীয় শহর সেভারেসহ আরও বেশ কিছু স্থানে হামলা চালিয়েছে।

স্থানীয় বাসিন্দারা বলেছেন, রোববারও কিদালে ব্যাপক গোলাগুলি ও বিকট বিস্ফোরণের শব্দ

শোনা গেছে। হক বলেন, ‘অভিযান শুরুর ২৪ ঘণ্টারও বেশি সময় পার হলেও এখনো গোলাগুলি

চলছে।’

বিশ্লেষক বুলামা বুকার্তি বলেন, ‘সম্ভবত আগামী দিনগুলোতে মালিতে বিভিন্ন অঞ্চল ও

কৌশলগত সব অবস্থানের নিয়ন্ত্রণ নিতে আরও লড়াই দেখা যাবে।’ তিনি আরও বলেন, ‘যেসব

সশস্ত্র গোষ্ঠী আগে একে অপরের বিরুদ্ধে লড়ত, তারা এখন তাদের সাধারণ শত্রু মালির

রাষ্ট্রীয় বাহিনীর বিরুদ্ধে ঐক্যবদ্ধ হয়েছে।’

বুকার্তি আল-জাজিরাকে বলেন, ‘এই দুটি গোষ্ঠী ভিন্ন ভিন্ন উদ্দেশ্য নিয়ে লড়াই করছে।

কিন্তু গত বছর তারা একজোট হয়ে ভবিষ্যতে একসঙ্গে কাজ করবে বলে ঘোষণা দেয়। গত কয়েক

দিনে আমরা যা দেখছি, তা মূলত সেই চুক্তিরই বাস্তবায়ন।’

মালিতে এই হামলার ঘটনার নিন্দা জানিয়েছে আফ্রিকান ইউনিয়ন, ওআইসির মহাসচিব এবং

যুক্তরাষ্ট্রের ব্যুরো অব আফ্রিকান অ্যাফেয়ার্স।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos