মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত নিরসন ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মার্কিন প্রশাসনের করণীয় সফল করার জন্য শেষ মুহূর্তের কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। জানা গেছে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছাবেন। এই সফরে অংশ নিচ্ছেন সঙ্গে আরও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা, যেমন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উয়াটকফ ও ট্রাম্পের প্রভাবশালী জামাতা
মধ্যপ্রাচ্যের দীর্ঘস্থায়ী সংঘাত নিরসন ও শান্তি প্রতিষ্ঠার লক্ষ্যে মার্কিন প্রশাসনের করণীয় সফল করার জন্য শেষ মুহূর্তের কূটনৈতিক তৎপরতা শুরু হয়েছে। জানা গেছে, মার্কিন ভাইস প্রেসিডেন্ট জেডি ভ্যান্স আজ মঙ্গলবার (২১ এপ্রিল) পাকিস্তানের রাজধানী ইসলামাবাদে পৌঁছাবেন। এই সফরে অংশ নিচ্ছেন সঙ্গে আরও গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিরা, যেমন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের বিশেষ দূত স্টিভ উয়াটকফ ও ট্রাম্পের প্রভাবশালী জামাতা জ্যারেড কুশনার। এই উচ্চপর্যায়ের সফরটির মাধ্যমে আন্তর্জাতিক সমাজের মধ্যে ব্যাপক আলোচনা ও কৌতূহল সৃষ্টি হয়েছে, কারণ এই আলোচনার ফলাফল নির্ধারিত করবে মধ্যপ্রাচ্যের নিরাপত্তা ও স্থিতিশীলতা কতটা পরিবর্তিত হতে পারে।
জেডি ভ্যান্সের এই পাকিস্তান সফরটি এমন এক সময়ে হচ্ছে যখন ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান সাময়িক যুদ্ধবিরতির মেয়াদ দ্রুত শেষের পথে। এর আগে, মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প কঠোর হুঁশিয়ারি দিয়েছেন, যদি নির্ধারিত সময়ের মধ্যে কার্যকর কোনো চুক্তি সম্পন্ন না হয়, তবে মার্কিন সেনারা ইরানের গুরুত্বপূর্ণ সেতু ও বিদ্যুৎ প্লান্টে বড় ধরনের বিমান হামলা চালাবে। তবে বিশেষজ্ঞেরা মনে করছেন, এত অল্প সময়ে একটি জটিল শান্তি চুক্তি সম্ভব নয়; তবে যদি আলোচনায় উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি দেখা যায়, তাহলে ট্রাম্প হয়তো সময়সীমা আরও কিছুটা বাড়াতে পারেন।
বিশ্লেষকদের মতে, ট্রাম্প ইতিমধ্যে যুদ্ধবিরতির মেয়াদ মূলত একদিন বাড়িয়ে গত সোমবার ঘোষণা করেছেন, যা আগের নির্ধারিত মঙ্গলবার শেষ হওয়ার কথা ছিল। কাউন্টার এই সিদ্ধান্ত মূলত আলোচনার জন্য অতিরিক্ত সময় জোগাড়ের জন্য। তবে ইরানের পক্ষ থেকে এই আলোচনায় যোগ দেওয়ার বিষয়টি নিয়ে সোমবার পুরো দিন নাটকীয়তা ও অনিশ্চয়তা বিরাজ করে। মার্কিন সংস্থাগুলোর দীর্ঘ দিনের প্রত্যাশা ছিল, ইরান নিজেদের আলোচক দলকে ইসলামাবাদে পাঠাবে কি না।
ভেতরের সূত্র বলছে, ইরানের শীর্ষ নেতাদের মধ্যে আলোচনা নিয়ে মতপার্থক্য দেখা দিয়েছিল। বিশেষ করে ইরানের প্রভাবশালী সামরিক শক্তি আইআরজিসির পক্ষ থেকে চাপ ছিল, যাতে তারা পারস্য উপসাগরে মার্কিন নৌ-অবরোধ প্রত্যাহার না হওয়া পর্যন্ত কোনো আলোচনা করবে না। এই অচলাবস্থার অবসান ঘটানোর জন্য পাকিস্তান, মিশর ও তুরস্কের মতো মধ্যস্থতাকারী দেশগুলো তেহরানের ওপর কূটনৈতিক চাপ বাড়ায়। শেষ পর্যন্ত, গভীর রাতে ইরানের সর্বোচ্চ নেতার কাছ থেকে আলোচনায় যোগ দেওয়ার অনুমতি পেয়ে পরিস্থিতি কিছুটা স্বাভাবিক হয়।
বিশ্ব এখন ধর্মঘটের কেন্দ্রে, কারণ সবাই নজর রেখেছে ইসলামাবাদের দিকে। জানা গেছে, ভাইস প্রেসিডেন্ট ভ্যান্স আজ ভোরে ওয়াশিংটন ছাড়বেন, যদিও কিছু সূত্র বলছে, তিনি রবিবার রাতে যাত্রা শুরু করেছেন। মার্কিন এই উচ্চপর্যায়ের প্রতিনিধিদলের উপস্থিতি এবং ইরানের নমনীয়তার আভাস মধ্যপ্রাচ্যে নতুন আশার আলো দেখাচ্ছে। এখন প্রশ্ন, বুধবারের চূড়ান্ত সময়সীমার আগে দুই পক্ষ কী কোনো ঐতিহাসিক সমঝোতা করতে পারবে কি না। না হলে, আবারও মধ্যপ্রাচ্য তো যুদ্ধের গর্জন ও বারুদ গন্ধে ভরে উঠার বিপদ রয়েছে। বিশেষজ্ঞরা মনে করছেন, এই কূটনৈতিক আলোচনা আধুনিক বিশ্ব রাজনীতির ইতিহাসে এক গুরুত্বপূর্ণ মাইলফলক হয়ে উঠতে পারে।











