‘সেদিন ছিল ২৮ জুন, সোমবার রাত ১১টা। হঠাৎ আমাদের বাড়ির উঠানের চারদিকে গোলাগুলির শব্দ শুরু হয়। ভয়ে পুরো শরীর কাঁপছিল। ছোট মেয়েকে নিয়ে প্রথমে আলমারির পেছনে লুকিয়ে থাকি। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে থেমে থেমে গোলাগুলি চলতে থাকে। একপর্যায়ে আমার বাড়ির সামনের দরজায় তিন রাউন্ড গুলি করে এবং দরজায় লাথি মারে। আমি ভয়ে শুধু আল্লাহকে ডাকছিলাম।
‘সেদিন ছিল ২৮ জুন, সোমবার রাত ১১টা। হঠাৎ আমাদের বাড়ির উঠানের চারদিকে গোলাগুলির
শব্দ শুরু হয়। ভয়ে পুরো শরীর কাঁপছিল। ছোট মেয়েকে নিয়ে প্রথমে আলমারির পেছনে
লুকিয়ে থাকি। প্রায় আধা ঘণ্টা ধরে থেমে থেমে গোলাগুলি চলতে থাকে। একপর্যায়ে আমার
বাড়ির সামনের দরজায় তিন রাউন্ড গুলি করে এবং দরজায় লাথি মারে। আমি ভয়ে শুধু
আল্লাহকে ডাকছিলাম।
বাইরে অস্ত্রধারীদের চিৎকার-চেঁচামেচির শব্দ শুনতে পাচ্ছিলাম। প্রায় এক ঘণ্টা পর
গুলির শব্দ কমে আসে। পরদিন সকাল সাতটায় বাড়ি থেকে বের হয়ে দেখি, আমার কোনো
প্রতিবেশী বাড়িতে নেই। সবার বাড়িতে তালা ঝুলছে। ভয়ে সবাই আত্মীয়-স্বজনের
বাড়িতে চলে গেছে। এরপর আমিও বাচ্চাকে নিয়ে অস্ত্রধারী অপহরণকারীদের ভয়ে টেকনাফের
মহেশখালী পাড়ায় আমার বোনের বাড়িতে চলে আসি।’
কথাগুলো টেকনাফের বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালী জুম্মাপাড়া এলাকার পাহাড়সংলগ্ন
বাড়ির বাসিন্দা খালেদা বেগমের। গত তিন সপ্তাহ ধরে এলাকাজুড়ে এমন আতঙ্কজনক
পরিস্থিতি বিরাজ করছে।
সর্বশেষ গত ২৮ জুন প্রকাশ্য দিনের বেলায় অস্ত্রের মুখে অপহরণ করা হয় পল্লী চিকিৎসক
কামাল উদ্দিনকে। পরে তিনি মুক্তিপণ দিয়ে ফিরে আসেন। এর মধ্যে গত ১৭ জুলাই ফের একটি
শিশু অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। ওই দিন বিকেলে বাহারছড়া ইউনিয়নের ২ নম্বর ওয়ার্ডের উত্তর
নয়াপাড়া এলাকার পাহাড়ের পাদদেশে এ ঘটনা ঘটে। ওই এলাকার আবদুল মাবুদের শিশুপুত্র
আরাফাত (১২) মহিষ আনতে গেলে সন্ত্রাসীরা তাকে অপহরণ করে ১২ লাখ টাকা মুক্তিপণ দাবি
করে। গত সোমবার চার লাখ টাকা মুক্তিপণ দিয়ে তাকে উদ্ধার করা হয়।
স্থানীয় লোকজন জানায়, বাহারছড়া এলাকার অন্তত ২০০ পরিবারের সদস্যরা প্রাণভয়ে বাড়িঘর
ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। এসব পরিবারের অনেক সদস্য এখনো নিজ বাড়িতে ফেরার সাহস
পাচ্ছে না।
বাহারছড়া ইউনিয়নের জুম্মাপাড়া এলাকায় আজ ( ২২ জুলাই ) বুধবার সরেজমিনে গিয়ে দেখা
গেছে, পুরো এলাকায় আতঙ্ক বিরাজ করছে। জুম্মাপাড়ার পাহাড়সংলগ্ন এলাকায় এগোতে চাইলে
স্থানীয় এক ব্যক্তি সতর্ক করে দিয়ে বলেন, ‘ভাই, কোথায় যাচ্ছেন? ওদিকে গেলে আপনাকেও
ধরে নিয়ে যেতে পারে।’
পরে স্থানীয় পরিচিত দুই যুবককে সঙ্গে নিয়ে কিছুটা সামনে এগিয়ে দেখা যায়, পাহাড়ের
পাদদেশের বাড়িগুলো জনশূন্য। চারদিকে সুনসান নীরবতা।
ফেরার পথে দেখা মেলে একজন নারীর। তিনি নিজের বাড়ির দিকে যাচ্ছেন। তার কাছে জানতে
চাইলে তিনি বলেন, ‘বাড়ি থেকে কিছু মালপত্র নিয়ে আসতে যাচ্ছি।’
কোথা থেকে এসেছেন জানতে চাইলে তিনি বলেন, ‘তিন সপ্তাহ ধরে এক আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয়
নিয়েছি। জরুরি কিছু জিনিস নিতে এসেছি।’
কেন নিজের বাড়ি ছেড়ে অন্যত্র যেতে হয়েছে, জানতে চাইলে রুবী আক্তার নামের ওই নারী
বলেন, ‘রাতে প্রায় প্রতিদিনই সশস্ত্র লোকজন এসে আমাদের পাড়ায় গুলি চালায়। ঘরের দরজা
ভাঙচুর করে, লুটপাট চালিয়ে চলে যায়। এমন আতঙ্ক নিয়ে কিভাবে থাকি? শেষে নিজের বাড়িঘর
ছেড়ে আত্মীয়ের বাড়িতে আশ্রয় নিতে বাধ্য হয়েছি।’
এর আগে গত ১৬ জুলাইয়ের কথা। এশার নামাজের আগে অজু করতে ঘরের বাইরে বের হয়েছিলেন
জুম্মাপাড়া এলাকার নাজমা আক্তার। পাহাড়সংলগ্ন এলাকা থেকে কিছুটা দূরে তার বাড়ি।
স্বামী প্রবাসে। দুই সন্তান নিয়ে তার বসবাস।
নাজমা আক্তার বলেন, ‘অজু করছিলাম। হালকা বৃষ্টি হচ্ছিল। হঠাৎ বাড়ির উঠানের পাশে
গোলাগুলির শব্দ শুরু হয়। আতঙ্কে দৌড়ে ঘরের দরজা বন্ধ করে দিই। প্রায় ১০ মিনিট ধরে
চলে গোলাগুলি। ওরা দেখতে চাচ্ছিল কেউ ঘর থেকে বের হয় কি না। এখন মাঝেমধ্যেই
অস্ত্রধারীরা আমাদের এলাকায় আসে। অনেক বাড়িতে মানুষ না থাকায় আমরা আতঙ্কে আছি।’
মুক্তিপণ দিয়ে ফিরলেন পল্লী চিকিৎসক : গত ২৮ জুন জুম্মাপাড়া এলাকা থেকে
অস্ত্রধারীরা পল্লী চিকিৎসক কামাল মাস্টারকে অপহরণ করে। দুই লাখ টাকা মুক্তিপণের
বিনিময়ে আট দিন পর গত ৬ জুলাই রাতে তাকে মৌচনী এলাকায় রেখে যাওয়া হয়। তার পরিবারের
সদস্যদের দাবি, অপহরণের পর নির্যাতনের কারণে কামাল মাস্টার এখনো অসুস্থ।
এ ঘটনায় টেকনাফ মডেল থানার ওসি মো. সাইফুল ইসলাম বলেন, ‘মুক্তিপণ আদায়ের তথ্য পাওয়া
গেছে। জড়িতদের শনাক্ত করে গ্রেপ্তারে দ্রুতই যৌথ অভিযান চালানো হবে।’
অপহরণ আতঙ্কে জুম্মাপাড়া এলাকার যে বাসিন্দারা এখনো বাড়ি ফেরেনি তাদের মধ্যে রয়েছেন
মোহাম্মদ হোসেন, জাহেদ হোসেন, মোহাম্মদ রফিক, মুজিব উল্লাহ, নব্বী হোসেন, লিয়াকত
আলী, ফেরদৌস, মোহাম্মদ শফিক, ছৈয়দ আলম, মোহাম্মদ আয়ুব, খালেদা বেগম, মাহফুজ আক্তার,
রুবী আক্তার, আবুল হাশিম, মুজিবুল্লাহ প্রমুখ। তারা বলছেন, অপহরণের ভয়ে নিজ বাড়িতে
ফিরতে সাহস পাচ্ছেন না তারা।
টেকনাফ উপজেলা সদর থেকে বাহারছড়া ইউনিয়নের জুম্মাপাড়ার দূরত্ব প্রায় ২০ কিলোমিটার।
আর বাহারছড়া পুলিশ তদন্ত কেন্দ্র থেকে এলাকাটির দূরত্ব প্রায় ১০ কিলোমিটার। অপহরণ
কিংবা সশস্ত্র হামলার খবর পাওয়ার পর পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছতে আধাঘণ্টা সময় লেগে যায়।
এই সময়ের মধ্যে সন্ত্রাসীরা তাদের কাজ সেরে সটকে পড়ে।
অপহরণে জড়িত রেদওয়ান, বুলেট ও আবুল গ্রুপ :
বাহারছড়া ইউনিয়নের বাসিন্দাদের অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের বিষয়ে স্থানীয় লোকজনের
অভিযোগ, রোহিঙ্গা ও বাঙালি সন্ত্রাসীদের সমন্বয়ে গড়ে ওঠা অন্তত তিনটি সশস্ত্র গ্রুপ
এ অপহরণকাণ্ডে সক্রিয়। এই গ্রুপগুলো হলো রেদওয়ান গ্রুপ, বুলেট গ্রুপ ও আবুল গ্রুপ।
অপহরণের পর ভুক্তভোগীদের বাহারছড়ার দুর্গম পাহাড়ি আস্তানায় আটকে রেখে পরিবারের কাছ
থেকে মুক্তিপণ আদায় করা হয়। তবে এসব অপহরণের ঘটনায় কারা জড়িত, তা নিশ্চিত করতে
পারেনি পুলিশ।
অনুসন্ধানে জানা যায়, আবুল গ্রুপকে সবচেয়ে শক্তিশালী গোষ্ঠী হিসেবে বিবেচনা করেন
স্থানীয়রা। এ গোষ্ঠীর বিরুদ্ধে রোহিঙ্গা অপহরণের অভিযোগও রয়েছে।
পুলিশকে জানালে নেমে আসে নির্যাতন : জুম্মাপাড়া এলাকার নোয়াখালী কচ্ছপিয়া পাহাড়
থেকে ১০০ মিটার দূরে মো. ইমরানের বাড়ি। গত মে মাসে তিনি অস্ত্রধারীদের হাতে অপহরণের
শিকার হন। পরিবারের সদস্যরা দুই লাখ টাকা মুক্তিপণ নিয়ে তাকে মুক্ত করে আনে।
ইমরান বলেন, ‘অপহরণের পর আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনী যদি উদ্ধারের জন্য পাহাড়ে অভিযান
চালায় তখন হাত-পা, চোখ-মুখ বেঁধে আমাদের মারধর করা হয়। মুক্তিপণ আদায়ে যত ধরনের
নির্যাতন আছে, সব প্রয়োগ করে সন্ত্রাসীরা।’
অপহরণকারী গ্রুপের নেতা কে এই রেদওয়ান?
বাহারছড়া এলাকার অপহরণচক্রের অন্যতম নেতৃত্বে রয়েছেন ২৭ বছর বয়সি রেদওয়ান। তার বাবা
আব্দুল মালেক, যিনি এলাকায় ‘বেলুম ডাকাত’ নামে পরিচিত ছিলেন। স্থানীয়দের ভাষ্য
অনুযায়ী, আব্দুল মালেক দীর্ঘদিন ডাকাতির সঙ্গে জড়িত ছিলেন। ২০০৬ সালে ডাকাতির একটি
মামলায় গ্রেপ্তারের পর থানায় নেওয়ার পথে পুলিশের গাড়ি থেকে পালানোর চেষ্টা করলে তার
মৃত্যু হয়।
স্থানীয়দের দাবি, বাবার মৃত্যুর পর বড় হওয়া রেদওয়ান ছোটবেলা থেকেই বাবার অপরাধজগতের
নানা গল্প শুনে বেড়ে ওঠেন। পরে তিনি একই পথে জড়িয়ে পড়েন।
যাদের টার্গেট করে অপহরণ করা হচ্ছে : বাহারছড়া ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া ও জুম্মাপাড়া
এলাকা দীর্ঘদিন ধরে মানবপাচার ও অপহরণের ঝুঁকিপূর্ণ এলাকা হিসেবে পরিচিত। জানা
গেছে, আগে মানবপাচারের সঙ্গে জড়িত কয়েকটি চক্র এখন অপহরণ করে মুক্তিপণ আদায়ের সঙ্গে
যুক্ত হয়েছে।
স্থানীয় বাসিন্দাদের অভিযোগ, এসব চক্রের একটি তথ্যদাতা নেটওয়ার্ক রয়েছে। কোন
পরিবারের আর্থিক অবস্থা ভালো, কার স্বজন প্রবাসে আছে বা কাকে অপহরণ করলে দ্রুত
মুক্তিপণ পাওয়া যাবে—এমন তথ্য সংগ্রহ করে তারা পরিকল্পিত অপহরণ করে। এ কারণে
প্রবাসী পরিবারের সদস্যরা বেশি ঝুঁকিতে রয়েছে বলে জানায় স্থানীয় বাসিন্দারা।
যা জানা গেছে : স্থানীয় বাসিন্দা, ভুক্তভোগী পরিবারের সদস্য এবং আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা
বাহিনীর সূত্রের সঙ্গে কথা বলে জানা গেছে, রোহিঙ্গা ক্যাম্প থেকে বেরিয়ে আসা কিছু
ব্যক্তি এবং স্থানীয় বেকার যুবকের সমন্বয়ে অন্তত তিনটি সশস্ত্র গোষ্ঠী অপহরণকাণ্ডে
সক্রিয়। এসব গোষ্ঠীর সদস্যরা বাহারছড়া ইউনিয়নের কচ্ছপিয়া, জুম্মাপাড়া পাহাড়, হ্নীলা
ইউনিয়নের উনচিপ্রাংয়ের জুম পাহাড়, মিজ্জির পাহাড়সহ দুর্গম পাহাড়ি এলাকায় অবস্থান
নিয়ে সেখান থেকে তাদের সন্ত্রাসী কার্যক্রম পরিচালনা করছে।
অপহরণের শিকার ব্যক্তিদের প্রথমে জুম্মাপাড়া পাহাড়ে নিয়ে যাওয়া হয়। সেখান থেকে পরে
হ্নীলার জুম পাহাড়ে স্থানান্তর করা হয়। স্থানীয় বাসিন্দাদের ভাষ্য, এই জুম পাহাড়ে
বসেই ভুক্তভোগীর পরিবারের কাছে কত টাকা মুক্তিপণ দাবি করা হবে, কিংবা মুক্তিপণ না
পেলে কী করা হবে, সেসব সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়। এসব কর্মকাণ্ডে তারা আধুনিক
তথ্য-প্রযুক্তি ও ভারী অস্ত্র ব্যবহার করছে।
পুলিশ ও স্থানীয় সূত্রের তথ্যমতে, এসব গোষ্ঠীর সদস্য হিসেবে যাদের নাম উঠে এসেছে,
তাঁদের মধ্যে রয়েছেন মো. মুহিন, আব্দুর রহিম, সালাহউদ্দিন, এনামুল হাসান
(রোহিঙ্গা), আবুল কালাম, নুরু মুহাম্মদ, শফি উল্লাহ, সিরাজুল মাঝি ওরফে বার্মাইয়া
সিরাজ, আবু হুরায়রা, শহিদ উল্লাহ, আয়াতুল মজিদ, ফরিদ আহমদ, মিজানুর রহমান, নুর
মোহাম্মদ, মনির আহাম্মদ, আবুল বশর, মকবুল আহমদ, মো. রুবেল (২২), মো. রিয়াজসহ আরও
অনেকে।
পুলিশ জানিয়েছে, অভিযোগে নাম আসা ব্যক্তিদের অবস্থান শনাক্ত করে গ্রেপ্তারের চেষ্টা
চলছে।
তিন বছরে অপহৃত ২৯৫ জন : আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা বাহিনীর তথ্য অনুযায়ী, ২০২৩ থেকে ২০২৫
সাল—এই তিন বছরে টেকনাফের বাহারছড়া এলাকাসহ আরো কয়েকটি এলাকায় অন্তত ২৯৫ জন অপহরণের
শিকার হয়েছে। আর চলতি বছর এ পর্যন্ত আরো অন্তত ২০টি অপহরণের ঘটনা ঘটেছে। একই সময়ে
ওই এলাকায় হত্যা ও সশস্ত্র সহিংসতার ঘটনাও বেড়েছে।
গত ৩ মে নোয়াখালীপাড়ার ব্রিজ এলাকায় অপহরণের চেষ্টাকালে শহিদ উল্লাহ (১৯) নামের এক
তরুণ গুলিবিদ্ধ হন। এর আগে এপ্রিল মাসে সন্ত্রাসীদের গুলিতে সুমাইয়া নামের এক তরুণী
নিহত হন। একই মাসে পাহাড়ি এলাকা থেকে বস্তাবন্দি অজ্ঞাতপরিচয় এক ব্যক্তির মরদেহের
খণ্ডাংশসহ আরো তিনজনের রক্তাক্ত মরদেহ উদ্ধার করে পুলিশ।
যৌথ অভিযান পরিচালনার প্রস্তুতি
গত (৪ জুলাই) টেকনাফে জেলার ও উপজেলার আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর শীর্ষ কর্মকর্তাদের
অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত চার ঘণ্টাব্যাপী বিশেষ আইনশৃঙ্খলা কমিটির সভায় সিদ্ধান্ত আসে
অপহরণপ্রবণ (হটস্পট) এলাকায় পুলিশ চৌকি স্থাপন, চট্টগ্রামের সীতাকুণ্ডের সলিমপুর
পাহাড়ে পরিচালিত অভিযানের আদলে বিশেষ যৌথ অভিযান চালানোর সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
স্থানীয়দের ভাষ্য, ধারাবাহিক অপহরণ, হত্যা ও সহিংসতার পর অবশেষে আইনশৃঙ্খলা বাহিনী
সক্রিয় হওয়ার উদ্যোগ নিয়েছে। তারা আশা করছেন, ঘোষিত পদক্ষেপগুলো দ্রুত
বাস্তবায়ন করা হবে এবং এলাকায় কার্যকর নিরাপত্তা নিশ্চিত হলে বাড়িঘর ছেড়ে চলে
যাওয়া পরিবারগুলো আবার নিজ বাড়িতে ফিরতে পারবে।
বাহারছড়া ইউনিয়নের নোয়াখালী জুম্মাপাড়া এলাকার ইউপি সদস্য ইলিয়াস বলেন, ‘আমরা
দ্রুত যৌথ অভিযান চাই। অপহরণকারী চক্রের আস্তানা গুঁড়িয়ে দিতে হবে। আমার
ওয়ার্ডের দুই শতাধিক পরিবার ভয়ে বাড়িঘর ছেড়ে অন্যত্র আশ্রয় নিয়েছে। এলাকায়
নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হলে তারা আবার নিজ বাড়িতে ফিরে আসবে।’
বাহারছড়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান আমজাদ হোসেন খোকন বলেন, ‘বিশেষ আইনশৃঙ্খলা
বাহিনীর সভায় বাহারছড়াবাসীকে অপহরণ থেকে মুক্ত করতে যৌথ অভিযান চালানোর প্রস্তাব
দিয়েছি। তারা দ্রুত যৌথ অভিযান এবং একটি চৌকি করার কথা জানিয়েছেন।
উখিয়া-টেকনাফ আসনের সংসদ সদস্য শাহজাহান চৌধুরী বলেন, ‘টেকনাফকে নিরাপদ ও
অপরাধমুক্ত করতে আমরা কাজ করছি। এ লক্ষ্যে সব আইন-শৃঙ্খলা বাহিনী সমন্বিতভাবে কাজ
করতে একমত হয়েছে। প্রথমে যেসব মানুষ আতঙ্কে বাড়িঘর ছেড়ে চলে গেছেন, তাদের
ফিরিয়ে এনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। ইনশাআল্লাহ, খুব
শিগগিরই পরিস্থিতির উন্নতি হবে।’
এ বিষয়ে জানতে কক্সবাজার জেলা প্রশাসক মো. আব্দুল মান্নান বলেন, টেকনাফে মাদক ও
অপহরণ প্রতিরোধে গুরুত্বপূর্ণ কিছু সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে। আইন-শৃঙ্খলা রক্ষা
বাহিনীকে প্রয়োজনীয় সব প্রস্তুতি নিতে নির্দেশ দেওয়া হয়েছে। একই সঙ্গে যেসব এলাকায়
অপহরণের ঘটনা বেশি ঘটছে, সেখানে টহল জোরদারের নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।’
কক্সবাজারের পুলিশ সুপার সাজেদুর রহমান বলেন, ‘গত ৪ জুলাই বিশেষ আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর
সভায় সীদ্ধান্ত হয়েছে। যৌথ অভিযান পরিচালনার কিন্তু টানা বৃষ্টির কারণে এটি সম্ভব
হয়নি। এখন দ্রুত যৌথ অভিযান পরিচালনার জন্য আমরা প্রস্তুতি নিচ্ছি। সবার সহযোগিতা
না পেলে কার্যকরভাবে অভিযান পরিচালনা করা কঠিন হয়ে পড়বে।











