কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোকাররম হোসেন খোকাকে সাংগঠনিক শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। প্রাথমিক সদস্যপদসহ সংগঠনের সব ধরনের পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে। শনিবার (১৯ জুলাই) কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রাহাত ইসলাম সাগর স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জেলা ছাত্রদলের সভাপতি শরিফুল
কিশোরগঞ্জের মিঠামইন উপজেলা ছাত্রদলের আহ্বায়ক মোকাররম হোসেন খোকাকে সাংগঠনিক
শৃঙ্খলা ভঙ্গের সুনির্দিষ্ট অভিযোগে দল থেকে বহিষ্কার করা হয়েছে। প্রাথমিক
সদস্যপদসহ সংগঠনের সব ধরনের পদ থেকে তাকে অব্যাহতি দেওয়া হয়েছে।
শনিবার (১৯ জুলাই) কিশোরগঞ্জ জেলা ছাত্রদলের সাংগঠনিক সম্পাদক রাহাত ইসলাম সাগর
স্বাক্ষরিত এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়। বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, জেলা
ছাত্রদলের সভাপতি শরিফুল ইসলাম নিশাদ ও সাধারণ সম্পাদক রাফিউল ইসলাম নওশাদ এ
সিদ্ধান্ত অনুমোদন করেছেন।
[https://www.dainikbangla.com.bd/images/db/2026/07/20/WhatsApp_Image_2026-07-20_at_12.30.09_PM.jpeg]
এর আগে গত ১৫ জুলাই রাতে মিঠামইন উপজেলা বিএনপির সভাপতি জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীর নিজ
বাড়ির সামনে সশস্ত্র হামলায় নিহত হন। ঘটনার সময় স্থানীয় লোকজন একজন সন্দেহভাজনকে
চাপাতিসহ আটক করেন। পরে পুলিশ অভিযান চালিয়ে আরও দুই সন্দেহভাজনকে গ্রেপ্তার করে।
তদন্তসংশ্লিষ্ট সূত্রগুলোর দাবি, মাত্র এক মিনিটের পরিকল্পিত হামলায় হত্যাকাণ্ডটি
সংঘটিত হয়। অভিযোগ রয়েছে, হামলায় অংশ নেওয়া তিন ব্যক্তি ঢাকা থেকে তিন দিন আগে
মিঠামইনে এসে অবস্থান নেন। তারা জাহাঙ্গীরের বাড়ি থেকে প্রায় ৫০০ ফুট দূরের একটি
বাড়িতে অতিথি হিসেবে ছিলেন। অভিযোগ অনুযায়ী, বাড়িটি বহিষ্কৃত ছাত্রদল নেতা মোকাররম
হোসেন খোকার বড় ভাইয়ের।
নিহতের স্বজন ও স্থানীয় বিএনপির নেতাদের অভিযোগ, হত্যাকাণ্ডে জড়িত ব্যক্তিদের
কাশিমপুর কারাগার থেকে জামিনে বের করে আনা হয়েছিল। তাদের দাবি, মোকাররম হোসেন
খোকাকে গ্রেপ্তার করা গেলে হত্যার পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা ও সহযোগীদের সম্পর্কে
গুরুত্বপূর্ণ তথ্য পাওয়া যেতে পারে। তবে ঘটনার পর থেকেই খোকা ও তার পরিবারের
সদস্যরা আত্মগোপনে রয়েছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।
এ ঘটনায় শুক্রবার দিবাগত রাত সাড়ে ১২টার দিকে নিহতের স্ত্রী তসলিমা আক্তার চৌধুরী
বাদী হয়ে মিঠামইন থানায় মামলা করেন। মামলায় তিনজনের নাম উল্লেখসহ ১৫ জনকে আসামি করা
হয়।
মামলার এজাহারে নাম উল্লেখ করা তিন আসামি হলেন বরগুনার বামনা উপজেলার চাকাতাসুনিয়া
গ্রামের মৃত সুলতান মীরনের ছেলে মো. হেলাল (২৪), লক্ষ্মীপুরের রামগঞ্জ উপজেলার
সুধামপুর গ্রামের নূর হোসেনের ছেলে মহিন উদ্দিন (৩২) এবং একই উপজেলার মধ্যপাড়া
গ্রামের রহমত উল্লাহ খোকনের ছেলে মো. শাহিন আলম (শাকিল) (২৭)।
পুলিশ জানিয়েছে, ঘটনার রাতে স্থানীয় লোকজন মো. হেলালকে আটক করেন। পরে অভিযান চালিয়ে
একই রাতে মহিন উদ্দিন ও শাহিন আলম (শাকিল)কে গ্রেপ্তার করা হয়। পরে মিঠামইন উপজেলার
ঘাগড়া শেখেরহাটি গ্রামের ইমাম হোসেনের ছেলে জাকির হোসেন (৪০) এবং কাজীপাড়া গ্রামের
মৃত চান্দা আলীর ছেলে আব্দুর রউফ (৬৭)কে গ্রেপ্তার করা হয়। বর্তমানে গ্রেপ্তার পাঁচ
আসামিই কারাগারে রয়েছেন।
এদিকে, জাহেদুল আলম জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঁচ আসামির পাঁচ
দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেছেন আদালত। রবিবার বিকেলে কিশোরগঞ্জের জ্যেষ্ঠ বিচারিক
হাকিম আদালত-৪ এর বিচারক সঙ্গিতা ভট্টাচার্য এ আদেশ দেন।
মামলার তদন্তকারী কর্মকর্তা ও মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা (ওসি) মনোয়ার
হোসেন বলেন, প্রত্যেক আসামির সাত দিনের রিমান্ড আবেদন করা হয়েছিল। শুনানি শেষে
আদালত পাঁচ দিনের রিমান্ড মঞ্জুর করেন।
মামলার এজাহারে বাদী উল্লেখ করেন, গত বুধবার রাত পৌনে ১০টার দিকে মিঠামইন উপজেলা
সদরের বেড়িবাঁধ এলাকায় নিজ বাসভবনে প্রবেশের সময় আগে থেকে ওত পেতে থাকা একদল
সন্ত্রাসী ধারালো চাপাতি, কিরিচ, কুড়াল ও রামদাসহ দেশীয় অস্ত্র নিয়ে তার স্বামীর
ওপর অতর্কিত হামলা চালায়। এতে তিনি গুরুতর আহত হন। পরে তাকে উদ্ধার করে হাসপাতালে
নেওয়া হলে চিকিৎসকেরা মৃত ঘোষণা করেন।
এদিকে, জাহাঙ্গীর হত্যা মামলায় জড়িতদের দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির আশ্বাস দিয়েছেন
বস্ত্র ও পাট প্রতিমন্ত্রী শরীফুল আলম। তিনি বলেন, হামলায় সরাসরি অংশ নেওয়া
ব্যক্তিদের পাশাপাশি পরিকল্পনাকারী, অর্থদাতা ও মদদদাতাদেরও আইনের আওতায় আনা হবে।
কিশোরগঞ্জের পুলিশ সুপার মোহাম্মদ মিজানুর রহমান জানিয়েছেন, মামলার তদন্ত অব্যাহত
রয়েছে।











