কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে একটি মাদ্রাসা ও হিফজ কেন্দ্রের ওপর পাহাড় ধসে আটজন শিক্ষার্থীর প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এদিকে চট্টগ্রামে ভারী বৃষ্টিতে পৃথক দুটি পাহাড় ধসে প্রাণ গেছে আরও দুই শিশুর। এর আগে গত দুই দিনে পাহাড় ধসে প্রাণ হারিয়েছেন ১১ জন। মোট নিহতে সংখ্যা দাঁড়াল ২১ জনে। উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে স্থানীয়দের দাবি, নিহতের সংখ্যা অন্তত
কক্সবাজারের উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে একটি মাদ্রাসা ও হিফজ কেন্দ্রের ওপর পাহাড়
ধসে আটজন শিক্ষার্থীর প্রাণহানির ঘটনা ঘটেছে। এদিকে চট্টগ্রামে ভারী বৃষ্টিতে পৃথক
দুটি পাহাড় ধসে প্রাণ গেছে আরও দুই শিশুর। এর আগে গত দুই দিনে পাহাড় ধসে প্রাণ
হারিয়েছেন ১১ জন। মোট নিহতে সংখ্যা দাঁড়াল ২১ জনে।
উখিয়ার রোহিঙ্গা আশ্রয়শিবিরে স্থানীয়দের দাবি, নিহতের সংখ্যা অন্তত আটজন।
ধ্বংসস্তূপের নিচে আরও শিক্ষার্থী আটকে থাকতে পারে বলে আশঙ্কা করা হচ্ছে।
বুধবার (৮ জুলাই) দুপুর প্রায় ২টার দিকে উখিয়ার ক্যাম্প-৫ এর ব্লক এ-৩ এলাকায় এ
দুর্ঘটনা ঘটে। টানা ভারী বর্ষণের মধ্যে হঠাৎ পাহাড়ের একটি বড় অংশ ধসে পাশের
মাদ্রাসার ওপর পড়ে যায়। ঘটনাস্থলে মুহূর্তেই শুরু হয় আতঙ্ক।
নিহত ৮ জনের মধ্যে এখন পর্যন্ত চারজনের পরিচয় পাওয়া গেছে। তারা হলো—রাশিদা বেগম
(১৩), উম্মে নেজাতুল (১৩), উম্মে সালমা (১২) ও উমাইসা বিবি (১৩)। উম্মে নেজাতুল ও
উম্মে সালমা সহোদর বোন, তারা রোহিঙ্গা ক্যাম্প-৩ এর বাসিন্দা। অপর দুজন ক্যাম্প-৫
এর বাসিন্দা। নিহত বাকি চারজনের পরিচয় শনাক্তের চেষ্টা চলছে বলে জানিয়েছে ক্যাম্প
প্রশাসন।
প্রত্যক্ষদর্শীরা জানান, দুর্ঘটনার সময় মাদ্রাসায় কয়েক ডজন শিক্ষার্থী কোরআন শিক্ষা
নিচ্ছিল। কারও মতে সেখানে ৩০ থেকে ৫০ জন, আবার কয়েকটি সূত্রের দাবি ৮০ থেকে ১০০ জন
পর্যন্ত শিশু উপস্থিত ছিল। তবে ঠিক কতজন ভেতরে ছিল, তা এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি।
পাহাড় ধসের সঙ্গে সঙ্গে কয়েকজন শিক্ষার্থী দৌড়ে বাইরে বেরিয়ে আসতে সক্ষম হলেও
অনেকেই কাদা ও মাটির নিচে চাপা পড়ে যায় বলে জানান স্থানীয়রা। প্রাথমিকভাবে অন্তত ১০
জনকে নিরাপদে বের করে আনার তথ্য পাওয়া গেছে।
ঘটনার পর স্থানীয় বাসিন্দা ও রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবকরা হাত দিয়ে মাটি সরিয়ে
উদ্ধারকাজ শুরু করেন। পরে ফায়ার সার্ভিসের দুটি ইউনিট ঘটনাস্থলে পৌঁছে উদ্ধার
অভিযান জোরদার করে। উদ্ধারকারীদের ধারণা, ধ্বংসস্তূপের নিচে এখনো আরও শিক্ষার্থী
আটকে থাকতে পারে।
উখিয়া উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা (ইউএনও) পান্না আক্তার বলেন, ‘এখন পর্যন্ত তিন
শিশুর মরদেহ উদ্ধারের তথ্য নিশ্চিত হয়েছে। ফায়ার সার্ভিস উদ্ধার অভিযান পরিচালনা
করছে এবং প্রশাসনের পক্ষ থেকেও পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে। তবে স্থানীয় কয়েকজন
রোহিঙ্গা স্বেচ্ছাসেবক আটজন শিশুর মৃত্যুর দাবি করেছেন।’
প্রতিবেদন লেখা পর্যন্ত শরণার্থী ত্রাণ ও প্রত্যাবাসন কমিশনার (আরআরআরসি) কার্যালয়
বা সংশ্লিষ্ট সংস্থাগুলোর পক্ষ থেকে হতাহতদের চূড়ান্ত কোনো তালিকা প্রকাশ করা হয়নি।
এদিকে চট্টগ্রামে ভারী বৃষ্টিতে পৃথক দুটি পাহাড় ধসে প্রাণ গেছে আরও দুই শিশুর। আহত
অন্তত দুজন। বুধবার (৮ জুলাই) বেলা ১১টার দিকে বিকট শব্দে ধসে পড়ে চট্টগ্রাম নগরীর
পাঁচলাইশের মুক্তিযোদ্ধা পাহাড়ের একাংশের মাটি। আর তাতে চাপা পড়ে পাহাড়ের পাদদেশে
থাকা ঘরের ১০ বছর বয়সি শিশু সামিয়া। আহত হয় আরও অন্তত ২ জন। ঘটনার পরই ছুটে আসেন
স্থানীয়রা। পরে ফায়ার সার্ভিসের সহায়তায় উদ্ধার করা হয় নিহত ও আহতদের। এর আগে,
সীতাকুন্ডের জঙ্গল সলিমপুরের ৬নং সমাজে কাঁচা ঘরে পাহাড় ধসে পড়ে মৃত্যু হয় ১০ মাস
বয়সি আরেক শিশুর।
এর আগে গত দুই দিনে পাহাড় ধসে প্রাণ হারিয়েছেন ১১ জন এবং ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছেন ১৫
হাজার ৮১৩ জন রোহিঙ্গা শরণার্থী। এ নিয়ে গত দুই দিনে জেলায় পাহাড় ধসে মোট ১১ জনের
মৃত্যু হলো। নিহতদের মধ্যে আটজনই রোহিঙ্গা।











