পাকিস্তানের অর্থনীতিতে ভয়াবহ বাণিজ্য ঘাটতি দেখা দিয়েছে। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬ অর্থবছরে দেশটির বাণিজ্য ঘাটতি ৩৯ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ২১ দশমিক ৫৭ শতাংশ বেশি। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) পাকিস্তান ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকস (পিবিএস) এই তথ্য প্রকাশ করেছে। স্থানীয় বাজার বিশ্লেষকরা বলছেন, গত চার বছরের মধ্যে পাকিস্তানের এটিই সর্বোচ্চ বাণিজ্য ঘাটতি,
পাকিস্তানের অর্থনীতিতে ভয়াবহ বাণিজ্য ঘাটতি দেখা দিয়েছে। সদ্য সমাপ্ত ২০২৫-২৬
অর্থবছরে দেশটির বাণিজ্য ঘাটতি ৩৯ দশমিক ৪৭ বিলিয়ন মার্কিন ডলারে পৌঁছেছে, যা
পূর্ববর্তী বছরের তুলনায় ২১ দশমিক ৫৭ শতাংশ বেশি। বৃহস্পতিবার (২ জুলাই) পাকিস্তান
ব্যুরো অব স্ট্যাটিস্টিকস (পিবিএস) এই তথ্য প্রকাশ করেছে। স্থানীয় বাজার বিশ্লেষকরা
বলছেন, গত চার বছরের মধ্যে পাকিস্তানের এটিই সর্বোচ্চ বাণিজ্য ঘাটতি, যা দেশটির
সামগ্রিক আর্থিক স্থিতিশীলতার ওপর বড় ধরনের ঝুঁকি তৈরি করছে।
পরিসংখ্যান অনুযায়ী, ২০২৫-২৬ অর্থবছরে পাকিস্তানের মোট আমদানি ব্যয় ৮ শতাংশ বৃদ্ধি
পেয়ে প্রায় ৭০ বিলিয়ন ডলারে ঠেকেছে। এর বিপরীতে রপ্তানি আয় ৬ শতাংশ কমে মাত্র ৩০
দশমিক ১৩ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। বিশেষ করে বিদায়ী জুন মাসে এই ঘাটতি আরও প্রকট
হয়ে ওঠে; মে মাসের তুলনায় জুন মাসে বাণিজ্য ঘাটতি প্রায় ৬৪ শতাংশ বেড়েছে। রপ্তানি
আয়ের এই বড় পতন এবং আমদানির খরচ বৃদ্ধি পাওয়ায় দেশটির বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভের
ওপর চরম চাপ সৃষ্টি হয়েছে।
অর্থনীতিবিদদের মতে, এই সংকটের পেছনে একাধিক কারণ দায়ী। একেডি সিকিউরিটিজের গবেষণা
পরিচালক মুহাম্মদ আওয়াইস আশরাফ জানান, মধ্যপ্রাচ্যে বিশেষ করে ইরান-যুক্তরাষ্ট্র
উত্তেজনার ফলে আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের মূল্যবৃদ্ধি পাকিস্তানের আমদানি
বিল বাড়িয়ে দিয়েছে। এ ছাড়া যুদ্ধের কারণে সমুদ্রপথে পণ্য পরিবহনের বিমা খরচও বহুগুণ
বেড়েছে। অভ্যন্তরীণভাবে তুলা উৎপাদন কমে যাওয়ায় তুলা আমদানিতে অতিরিক্ত অর্থ ব্যয়
করতে হয়েছে। অন্যদিকে, বিশ্ববাজারে ভারতের সস্তা চালের আধিপত্য এবং আফগানিস্তান ও
ইরানের সাথে সীমান্ত জটিলতার কারণে পাকিস্তানের চাল ও সবজি রপ্তানি মারাত্মকভাবে
ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে।
পাকিস্তানের ব্রোকারেজ হাউসগুলো সতর্ক করে দিয়ে বলেছে যে, রপ্তানি বাড়ানোর কার্যকর
উদ্যোগ না নিলে এবং আমদানির ওপর নির্ভরতা না কমালে এই ঘাটতি পরিস্থিতি আরও
নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যেতে পারে। একদিকে কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নীতি সুদহার কমায়
অভ্যন্তরীণ উৎপাদন সচল হওয়ার সম্ভাবনা তৈরি হলেও, ভূ-রাজনৈতিক অস্থিরতা ও
আন্তর্জাতিক মন্দা পাকিস্তানের রপ্তানি বাজারকে সংকুচিত করে তুলছে। এই বিশাল
বাণিজ্য ঘাটতি মেটাতে পাকিস্তানকে এখন আন্তর্জাতিক ঋণদাতা সংস্থাগুলোর দিকে আরও
বেশি মুখাপেক্ষী হতে হবে।











