অভ্যন্তরীণ নৌপথে চার্জ বৃদ্ধি, বাড়তে পারে নিত্যপণ্যের দাম

অভ্যন্তরীণ নৌপথে চার্জ বৃদ্ধি, বাড়তে পারে নিত্যপণ্যের দাম

আগামী ১ জুলাই থেকে অভ্যন্তরীণ ও উপকূলীয় নৌপথে চলাচলকারী সব ধরনের যাত্রী ও পণ্যবাহী নৌযানের বিভিন্ন চার্জ ও সেবামূলক ফি সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে যাচ্ছে সরকার। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তের ফলে খাদ্যপণ্য থেকে শুরু করে বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পরিবহন ব্যয় এক লাফে অনেক বেড়ে যাবে বলে আশঙ্কা করছেন খাত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও

আগামী ১ জুলাই থেকে অভ্যন্তরীণ ও উপকূলীয় নৌপথে চলাচলকারী সব ধরনের যাত্রী ও

পণ্যবাহী নৌযানের বিভিন্ন চার্জ ও সেবামূলক ফি সর্বোচ্চ ১০০ শতাংশ পর্যন্ত বাড়াতে

যাচ্ছে সরকার। নৌপরিবহন মন্ত্রণালয়ের এই সিদ্ধান্তের ফলে খাদ্যপণ্য থেকে শুরু করে

বিভিন্ন নির্মাণসামগ্রী ও নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের পরিবহন ব্যয় এক লাফে অনেক বেড়ে

যাবে বলে আশঙ্কা করছেন খাত সংশ্লিষ্ট ব্যবসায়ী ও উদ্যোক্তারা। তাদের মতে, দীর্ঘদিন

ধরে দেশে চলা উচ্চ মূল্যস্ফীতির মাঝে এই ব্যয় বৃদ্ধি সাধারণ ভোক্তাদের ওপর নতুন করে

আর্থিক চাপ সৃষ্টি করবে।

সর্বশেষ ২০১৯ সালে সরকার নৌপথের এই ফি বৃদ্ধি করেছিল। দীর্ঘ ৭ বছর পর গত মাসে

সংশোধিত প্রজ্ঞাপন জারি করে বাংলাদেশ অভ্যন্তরীণ নৌপরিবহন কর্তৃপক্ষ

(বিআইডব্লিউটিএ)। নতুন নিয়ম অনুযায়ী, আগামী অর্থবছর থেকে কার্গো জাহাজ, বাল্কহেড ও

মাছ ধরার নৌকার সংরক্ষণ ফি (কনজারভেন্সি চার্জ) প্রতি গ্রস টনে বর্তমানের ৪০ টাকা

থেকে বাড়িয়ে ১০০ টাকা করা হয়েছে। একইভাবে লঞ্চ মালিকদের জন্য বার্ষিক সংরক্ষণ ফি ৩০

শতাংশ বাড়িয়ে ১১৫ টাকা থেকে ১৫০ টাকা করা হয়েছে এবং প্রতি আট ঘণ্টার জন্য পাইলটেজ

ফি ৫০০ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৭৫০ টাকা করা হয়েছে।

এই সিদ্ধান্তের ফলে যাত্রী ও পণ্যবাহী উভয় খাতের মালিকরাই বড় ধরনের লোকসানের আশঙ্কা

করছেন। ঢাকা-বরিশাল রুটের সুন্দরবনস নেভিগেশন কোম্পানির পরিচালক আক্তার হোসেন

জানান, পদ্মা সেতু চালু হওয়ার পর থেকেই তারা যাত্রী সংকটে ভুগছেন এবং টিকে থাকতে

সরকার নির্ধারিত ভাড়ার চেয়েও কম নিচ্ছেন। এই অবস্থায় নতুন চার্জ তাদের ক্ষতির মুখে

ফেলবে। অন্যদিকে, বাংলাদেশ কোস্টাল শিপ ওনার্স অ্যাসোসিয়েশনের জ্যেষ্ঠ সহসভাপতি

নাজমুল হোসেন হামদু বলেন, চট্টগ্রাম বন্দর দিয়ে আমদানি হওয়া সিমেন্টের কাঁচামাল,

গম, ডাল, তেল ও লবণ লাইটার জাহাজের মাধ্যমে সারা দেশে যায়। নৌপথের খরচ বাড়লে তাদের

বাধ্য হয়েই জাহাজের ভাড়া বাড়াতে হবে, যা পুরো সাপ্লাই চেইনকে প্রভাবিত করবে।

ব্যবসায়িক বিশ্লেষণে দেখা গেছে, দেশের মোট নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের প্রায় ৯০ শতাংশই

অভ্যন্তরীণ নৌপথে পরিবহন করা হয়। নাবিল গ্রুপ অব ইন্ডাস্ট্রিজের হিসাব অনুযায়ী,

নতুন ফির কারণে গম, সয়াবিন ও ভুট্টার মতো পণ্য পরিবহনের খরচ প্রতি টনে ৩৬ টাকা

পর্যন্ত বাড়বে। এছাড়া আবাসন ও সিমেন্ট খাতের সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, ক্লিংকার ও

ফ্লাই অ্যাশের মতো কাঁচামাল পরিবহনে বাড়তি খরচের কারণে প্রতি বস্তা সিমেন্টের

উৎপাদন ব্যয় ৩ টাকারও বেশি বৃদ্ধি পাবে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধের প্রভাবে এমনিতেই

জ্বালানি ও কাঁচামালের দাম ঊর্ধ্বমুখী, তার ওপর দেশের নৌপথের এই বাড়তি ব্যয়ের

চূড়ান্ত বোঝা সাধারণ ভোক্তাদের পকেট থেকেই মেটাতে হবে।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos