চাহিদার ধস ও উৎপাদন ব্যয়ের চাপে সংকটে সিমেন্ট শিল্প

চাহিদার ধস ও উৎপাদন ব্যয়ের চাপে সংকটে সিমেন্ট শিল্প

দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন ও নির্মাণ খাতের অন্যতম প্রধান ভিত্তি সিমেন্ট শিল্প বর্তমানে গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধি, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদার তীব্র পতনের কারণে দেশের অন্যতম বৃহৎ উৎপাদন খাতটি অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে। সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একদিকে উৎপাদন ব্যয় ক্রমাগত বাড়ছে, অন্যদিকে নির্মাণ খাতের

দেশের অবকাঠামো উন্নয়ন ও নির্মাণ খাতের অন্যতম প্রধান ভিত্তি সিমেন্ট শিল্প

বর্তমানে গভীর সংকটের মধ্য দিয়ে যাচ্ছে। আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের

মূল্যবৃদ্ধি, ডলারের বিপরীতে টাকার অবমূল্যায়ন, জ্বালানি ও পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি এবং

অভ্যন্তরীণ বাজারে চাহিদার তীব্র পতনের কারণে দেশের অন্যতম বৃহৎ উৎপাদন খাতটি

অস্তিত্ব সংকটে পড়েছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, একদিকে উৎপাদন ব্যয় ক্রমাগত বাড়ছে, অন্যদিকে নির্মাণ খাতের

দীর্ঘস্থায়ী মন্দা, সরকারি উন্নয়ন প্রকল্পের ধীরগতি এবং বেসরকারি বিনিয়োগে

স্থবিরতার কারণে সিমেন্টের বাজার সঙ্কুচিত হয়ে পড়েছে। ফলে উৎপাদন সক্ষমতার বড় অংশ

অব্যবহৃত থাকলেও কারখানাগুলোকে বহন করতে হচ্ছে পরিচালন ব্যয়, ঋণের সুদ ও অন্যান্য

স্থায়ী খরচ।

খাতসংশ্লিষ্ট তথ্য অনুযায়ী, দেশে বর্তমানে ৪০টি সিমেন্ট কারখানার মোট বার্ষিক

উৎপাদন সক্ষমতা প্রায় ৮৬ মিলিয়ন টন। কিন্তু ২০২৫ সালে মোট সিমেন্ট বিক্রি হয়েছে

মাত্র ৩৯ দশমিক ৭৯ মিলিয়ন টন। অর্থাৎ শিল্পটির উৎপাদন সক্ষমতার অর্ধেকেরও বেশি

বর্তমানে অব্যবহৃত রয়েছে।

শিল্প বিশ্লেষকদের মতে, উৎপাদন সক্ষমতা ও বাজার চাহিদার এই বিশাল ব্যবধান

উদ্যোক্তাদের আর্থিক ঝুঁকি বাড়িয়ে তুলেছে। অব্যবহৃত সক্ষমতার বিপরীতে নিয়মিত

পরিচালন ব্যয় ও ব্যাংক ঋণের কিস্তি পরিশোধ করতে গিয়ে অনেক প্রতিষ্ঠান লোকসানের মুখে

পড়ছে।

পরিস্থিতিকে আরও উদ্বেগজনক করে তুলেছে চলতি বছরের প্রথম পাঁচ মাসে সিমেন্ট বিক্রিতে

প্রায় ৩ শতাংশ পতন।

আমদানিনির্ভর শিল্পে ব্যয়ের লাগামহীন ঊর্ধ্বগতি

বাংলাদেশের সিমেন্ট শিল্প মূলত আমদানিনির্ভর। সিমেন্ট উৎপাদনের প্রধান কাঁচামাল

ক্লিংকার, স্ল্যাগ, চুনাপাথর, ফ্লাই অ্যাশ ও জিপসামের প্রায় পুরোটাই বিদেশ থেকে

আমদানি করতে হয়।

বিশ্ববাজারে এসব কাঁচামালের মূল্যবৃদ্ধির পাশাপাশি ডলার সংকট আমদানি ব্যয়কে আরও

বাড়িয়ে দিয়েছে। এর সঙ্গে মধ্যপ্রাচ্যের চলমান ভূরাজনৈতিক অস্থিরতা এবং সমুদ্রপথে

পণ্য পরিবহনে অনিশ্চয়তার কারণে জাহাজ ভাড়া ও বিমা ব্যয়ও উল্লেখযোগ্যভাবে বেড়েছে।

অন্যদিকে বিদ্যুৎ ও জ্বালানির মূল্যবৃদ্ধি উৎপাদন খরচ বাড়িয়েছে। ফলে কারখানা থেকে

ডিলার পর্যায়ে পণ্য পৌঁছানো পর্যন্ত পুরো সরবরাহ ব্যবস্থার ব্যয় অস্বাভাবিকভাবে

বৃদ্ধি পেয়েছে।

নির্মাণ খাতের মন্দায় কমছে চাহিদা

বিশ্লেষকদের মতে, উচ্চ মূল্যস্ফীতি, ব্যাংক ঋণের বাড়তি সুদহার এবং নির্মাণসামগ্রীর

মূল্যবৃদ্ধির কারণে ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান উভয় পর্যায়েই নতুন নির্মাণকাজ কমে গেছে।

একই সঙ্গে সরকারি বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচি (এডিপি) বাস্তবায়নের গতি শ্লথ হয়ে পড়ায়

বড় অবকাঠামো প্রকল্পগুলোতেও সিমেন্টের চাহিদা কমেছে। ফলে বাজারে বিক্রি কমে যাওয়ায়

উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠানগুলো বাড়তি চাপের মুখে পড়েছে।

সংশ্লিষ্টরা জানান, সিমেন্ট দীর্ঘদিন মজুত রাখার সুযোগ সীমিত। ফলে উৎপাদিত পণ্য

বিক্রি না হলে তা কোম্পানিগুলোর আর্থিক ক্ষতি আরও বাড়িয়ে দেয়।

নীতিগত সহায়তা চান উদ্যোক্তারা

বর্তমান সংকট থেকে উত্তরণে সরকারের কার্যকর নীতিগত সহায়তা প্রয়োজন বলে মনে করছেন

খাতসংশ্লিষ্ট উদ্যোক্তারা।

তাদের মতে, কাঁচামাল আমদানিতে অগ্রিম আয়কর (এআইটি) যৌক্তিক পর্যায়ে কমিয়ে আনা,

বিক্রয় পর্যায়ে করের চাপ হ্রাস করা এবং নির্মাণ ও অবকাঠামো খাতে বিনিয়োগ উৎসাহিত

করতে বিশেষ প্রণোদনা দেওয়া জরুরি।

এছাড়া সরকারি উন্নয়ন প্রকল্প বাস্তবায়নে গতি ফিরিয়ে আনা এবং আবাসন খাতে

বিনিয়োগবান্ধব পরিবেশ তৈরি করা গেলে সিমেন্টের চাহিদা পুনরুদ্ধার হতে পারে।

খাতসংশ্লিষ্টদের আশঙ্কা, দ্রুত কার্যকর উদ্যোগ গ্রহণ না করা হলে দেশের অন্যতম বৃহৎ

এই উৎপাদন খাত দীর্ঘমেয়াদি ক্ষতির মুখে পড়তে পারে, যার প্রভাব পড়বে সামগ্রিক

শিল্পায়ন ও অবকাঠামো উন্নয়নের ওপরও।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos