ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের প্রথম দিনে ক্রেতা সংকটে বেক্সিমকো ও ইসলামী ব্যাংক

ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের প্রথম দিনে ক্রেতা সংকটে বেক্সিমকো ও ইসলামী ব্যাংক

পুঁজিবাজারে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বহুল আলোচিত দুই প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো লিমিটেড ও ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির শেয়ারের ওপর থেকে ফ্লোর প্রাইস বা সর্বনিম্ন মূল্যস্তর প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার প্রথম দিনেই মঙ্গলবার (৯ জুন) কোম্পানি দুটি তীব্র ক্রেতা সংকটের মুখে পড়েছে। লেনদেন শুরু হওয়ার পর

পুঁজিবাজারে দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর বহুল আলোচিত দুই প্রতিষ্ঠান বেক্সিমকো লিমিটেড ও

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির শেয়ারের ওপর থেকে ফ্লোর প্রাইস বা সর্বনিম্ন

মূল্যস্তর প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে নিয়ন্ত্রক সংস্থা বাংলাদেশ সিকিউরিটিজ অ্যান্ড

এক্সচেঞ্জ কমিশনের (বিএসইসি) এই সিদ্ধান্ত কার্যকর হওয়ার প্রথম দিনেই মঙ্গলবার (৯

জুন) কোম্পানি দুটি তীব্র ক্রেতা সংকটের মুখে পড়েছে। লেনদেন শুরু হওয়ার পর থেকেই

বাজারে বড় ধরনের বিক্রির চাপ তৈরি হলেও সে তুলনায় ক্রেতা না থাকায় অধিকাংশ

বিনিয়োগকারী তাদের শেয়ার বিক্রি করতে ব্যর্থ হয়েছেন।

বাজারের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা যায়, মঙ্গলবার লেনদেনের শুরুতেই উভয় কোম্পানির কয়েক

লাখ শেয়ার দিনের সর্বনিম্ন দামে বিক্রির প্রস্তাব এলেও ক্রয়ের ঘর ছিল প্রায় শূন্য।

ক্রেতা সংকটের কারণে পুরো দিনে বেক্সিমকোর মাত্র ৮ হাজার ২৬টি এবং ইসলামী ব্যাংকের

৪০ হাজার ৪১৬টি শেয়ার লেনদেন সম্ভব হয়েছে। বেক্সিমকোর শেয়ারের ফ্লোর প্রাইস ১১০

টাকা ১০ পয়সায় দীর্ঘদিন আটকে থাকার পর মঙ্গলবার তা সর্বনিম্ন ৯৯ টাকা ১০ পয়সা দরে

বিক্রির আদেশ দিলেও ক্রেতা খুঁজে পাওয়া যায়নি। অন্যদিকে, ইসলামী ব্যাংকের শেয়ারের

ক্ষেত্রেও একই পরিস্থিতি তৈরি হয়, যার ফলে মাত্র ১১ লাখ ৯০ হাজার টাকার শেয়ার

হাতবদল হয়েছে।

শেয়ারবাজারের লাগাতার পতন রোধে গত পাঁচ বছরে কয়েক দফায় ফ্লোর প্রাইস আরোপ করেছিল

বিএসইসি। সর্বশেষ রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধের প্রভাবে বাজার অস্থিতিশীল হলে ২০২২ সালের

জুলাইয়ে দ্বিতীয় দফায় এই বিধিনিষেধ কার্যকর করা হয়। অধিকাংশ শেয়ারের ওপর থেকে ধাপে

ধাপে ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়া হলেও বেক্সিমকো ও ইসলামী ব্যাংকের ক্ষেত্রে তা এতদিন

বহাল ছিল। বিএসইসির নতুন নেতৃত্ব দায়িত্ব গ্রহণের পর গত সোমবার কোম্পানি দুটির

ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের সিদ্ধান্ত নেয়, যা মঙ্গলবার থেকে কার্যকর হয়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্টরা মনে করছেন, কোম্পানি দুটির শেয়ারের এই দরপতন মূলত একটি

দীর্ঘমেয়াদী স্থবিরতা কাটানোর অংশ। দীর্ঘদিন ধরে কৃত্রিমভাবে শেয়ারের দাম আটকে

রাখায় তা প্রকৃত বাজারদর প্রতিফলিত করছিল না। ফলে ফ্লোর প্রাইস তুলে নেওয়ার পর

বিনিয়োগকারীদের মধ্যে শেয়ার বিক্রির এক ধরণের তাড়াহুড়ো দেখা দিয়েছে, যা শুরুতে

দরপতনের কারণ হয়ে দাঁড়িয়েছে। তবে এই প্রক্রিয়ার মাধ্যমে শেয়ারের দাম একটি

যুক্তিযুক্ত ও গ্রহণযোগ্য পর্যায়ে পৌঁছাবে বলে আশা করা হচ্ছে। এটি বাজারের

স্বাভাবিক মূল্য আবিষ্কার প্রক্রিয়াকে স্বচ্ছ ও গতিশীল করতে সহায়ক হবে।

ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন (ডিবিএ) এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছে যে,

ফ্লোর প্রাইস প্রত্যাহারের ফলে পুঁজিবাজারে দীর্ঘদিনের স্থবিরতা দূর হবে এবং

বিনিয়োগকারীদের আস্থা ফিরে আসবে। তাদের মতে, ফ্লোর প্রাইসের কারণে মার্জিন

ঋণগ্রহীতাদের ঝুঁকি বাড়ছিল এবং আন্তর্জাতিক বিনিয়োগকারীদের কাছে দেশের পুঁজিবাজার

সম্পর্কে নেতিবাচক বার্তা যাচ্ছিল। এই সিদ্ধান্তের ফলে বাজারভিত্তিক মূল্য নির্ধারণ

ব্যবস্থা কার্যকর হবে এবং বাজারের গতিশীলতা বাড়বে। স্বল্পমেয়াদে এই দরপতন অস্থিরতা

তৈরি করলেও দীর্ঘমেয়াদে এটি সুস্থ ও স্বচ্ছ শেয়ারবাজার গড়ে তোলার জন্য একটি

অপরিহার্য পদক্ষেপ। মূলত প্রকৃত চাহিদা ও জোগানের ভিত্তিতে বাজার পরিচালিত হওয়ার পথ

সুগম হওয়ায় পুঁজিবাজারের গভীরতা আরও বাড়বে বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos