ভারতের টেস্টে আম্পায়ারের দায়িত্বে শরফুদ্দৌলা সৈকত

ভারতের টেস্টে আম্পায়ারের দায়িত্বে শরফুদ্দৌলা সৈকত

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আম্পায়ারিংয়ে নিজের দক্ষতা ও নিরপেক্ষতার ধারাবাহিকতা বজায় রেখে পুনরায় আলোচনায় এসেছেন বাংলাদেশের শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত। বর্তমানে তিনি আফগানিস্তানের বিপক্ষে ভারতের একমাত্র টেস্ট ম্যাচে অনফিল্ড আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করছেন। আইসিসির এলিট প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর থেকে বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ক্রিকেট দল ভারতের ম্যাচগুলোতে শরফুদ্দৌলার সরব উপস্থিতি এখন নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বড়

আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে আম্পায়ারিংয়ে নিজের দক্ষতা ও নিরপেক্ষতার ধারাবাহিকতা বজায়

রেখে পুনরায় আলোচনায় এসেছেন বাংলাদেশের শরফুদ্দৌলা ইবনে শহীদ সৈকত। বর্তমানে তিনি

আফগানিস্তানের বিপক্ষে ভারতের একমাত্র টেস্ট ম্যাচে অনফিল্ড আম্পায়ার হিসেবে

দায়িত্ব পালন করছেন। আইসিসির এলিট প্যানেলে অন্তর্ভুক্ত হওয়ার পর থেকে বিশ্বের

অন্যতম প্রভাবশালী ক্রিকেট দল ভারতের ম্যাচগুলোতে শরফুদ্দৌলার সরব উপস্থিতি এখন

নিয়মিত ঘটনায় পরিণত হয়েছে। বড় ম্যাচে স্নায়ুচাপ সামলে সঠিক সিদ্ধান্ত প্রদানের

সক্ষমতাই তাঁকে আন্তর্জাতিক আঙিনায় এক অনন্য উচ্চতায় নিয়ে গেছে।

ভারতের গুরুত্বপূর্ণ সিরিজগুলোতে শরফুদ্দৌলার আম্পায়ারিং নতুন কিছু নয়। এর আগে তিনি

মর্যাদাপূর্ণ বোর্ডার-গাভাস্কার ট্রফি, ভারত-ইংল্যান্ড ওয়ানডে ও টেস্ট সিরিজ এবং

ভারত-নিউজিল্যান্ড সিরিজের মতো হাই-ভোল্টেজ ম্যাচগুলো সফলভাবে পরিচালনা করেছেন।

আইসিসির নিরপেক্ষ আম্পায়ার নীতি অনুযায়ী, শীর্ষ পর্যায়ের দলগুলোর লড়াইয়ে নির্ভুল

সিদ্ধান্ত নিশ্চিত করতে তাঁর ওপর বারবার আস্থা রাখছে বিশ্ব ক্রিকেটের নিয়ন্ত্রক

সংস্থা। বিশেষ করে মাঠের খেলায় কোনো বিতর্কের সুযোগ না রেখে প্রযুক্তি ও অভিজ্ঞতার

সঠিক সমন্বয়ে তিনি নিজের আম্পায়ারিং ক্যারিয়ারকে সমৃদ্ধ করে চলেছেন।

শরফুদ্দৌলার ক্যারিয়ারের অন্যতম আলোচিত ঘটনা ছিল ২০২৪ সালের বোর্ডার-গাভাস্কার

ট্রফিতে টিভি আম্পায়ার হিসেবে তাঁর একটি সাহসী সিদ্ধান্ত। ভারতের ব্যাটার যশস্বী

জয়সওয়ালের একটি আউটের আবেদনে আল্ট্রা-এজ বা স্নিকো প্রযুক্তিতে কোনো স্পষ্ট সংকেত

না থাকলেও বলের গতিপথ ও ব্যাট-বলের অবস্থান নিবিড়ভাবে পর্যবেক্ষণ করে তিনি আউটের

সিদ্ধান্ত দেন। যদিও শুরুতে এটি নিয়ে কিছুটা বিতর্ক তৈরি হয়েছিল, তবে পরবর্তীতে

প্রখ্যাত ক্রিকেট ধারাভাষ্যকার হার্শা ভোগলেসহ অন্যান্য বিশ্লেষকরা তাঁর এই প্রখর

দূরদৃষ্টির প্রশংসা করেন এবং বিষয়টিকে আম্পায়ারিংয়ের একটি উঁচু মানদণ্ড হিসেবে

অভিহিত করেন।

টেস্ট ক্রিকেটের আভিজাত্যের লড়াই ‘অ্যাশেজ’-এর মতো বড় মঞ্চেও প্রথম বাংলাদেশি

আম্পায়ার হিসেবে ইতিহাস গড়েছেন শরফুদ্দৌলা সৈকত। সবশেষ ভারত-নিউজিল্যান্ড সিরিজে

তিনি টিভি আম্পায়ার হিসেবে দায়িত্ব পালন করলেও আফগানিস্তানের বিপক্ষে চলতি টেস্টে

তাঁকে মূল মাঠের দায়িত্ব দেওয়া হয়েছে। একজন বাংলাদেশি হিসেবে নিয়মিতভাবে ভারত,

অস্ট্রেলিয়া বা ইংল্যান্ডের মতো দেশগুলোর ম্যাচ পরিচালনা করা তাঁর পেশাদারিত্বের এক

বড় স্বীকৃতি। এর মাধ্যমে আন্তর্জাতিক ক্রিকেটে বাংলাদেশের ভাবমূর্তি যেমন উজ্জ্বল

হচ্ছে, তেমনি নতুন প্রজন্মের আম্পায়ারদের জন্যও তিনি অনন্য এক মাইলফলক হিসেবে

নিজেকে প্রতিষ্ঠিত করেছেন।

আইসিসির নিয়ম অনুযায়ী এলিট প্যানেলের সদস্যরা নিরপেক্ষ আম্পায়ার হিসেবে যেকোনো দুই

দেশের দ্বিপাক্ষিক সিরিজে দায়িত্ব পালন করতে পারেন। শরফুদ্দৌলা সৈকতের এই ধারাবাহিক

সাফল্য প্রমাণ করে যে, বাংলাদেশ কেবল খেলোয়াড় তৈরিতেই নয়, বরং খেলা পরিচালনার

ক্ষেত্রেও বিশ্বমানের নেতৃত্ব দিতে সক্ষম। আম্পায়ারিংয়ের প্রতিটি ক্ষেত্রে তাঁর

নির্ভুলতা এবং আধুনিক প্রযুক্তির প্রয়োগ তাঁকে বর্তমান সময়ের অন্যতম সেরা ম্যাচ

কর্মকর্তাদের তালিকায় স্থান দিয়েছে। ভারতের চলমান টেস্ট ম্যাচেও তাঁর প্রতিটি

সিদ্ধান্ত ক্রিকেট মহলে বিশেষ কৌতূহল ও গুরুত্বের সাথে পর্যবেক্ষণ করা হচ্ছে।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos