অর্থনীতির গতি ফেরাতে বিনিয়োগ রোড শোর উদ্যোগ সরকারের

অর্থনীতির গতি ফেরাতে বিনিয়োগ রোড শোর উদ্যোগ সরকারের

বৈশ্বিক যুদ্ধাবস্থা ও নানা অস্থিরতায় দেশের অর্থনীতি পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে পারেনি। অনেকটাই নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে চলছে সামস্টিক অর্থনীতি। অর্থনীতিকে সচল করতে সরকার বন্ধ শিল্পকারখানা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এক্ষেত্রে স্বল্প সুদে মূলধনের যোগান দেওয়া, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে রোডশোসহ নানা কর্মকরিকল্পনা গ্রহণ করেছে সরকার। এদিকে, অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনতে এবং কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্যে ৬০ হাজার

বৈশ্বিক যুদ্ধাবস্থা ও নানা অস্থিরতায় দেশের অর্থনীতি পুরোপুরি ঘুরে দাঁড়াতে

পারেনি। অনেকটাই নাজুক পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে চলছে সামস্টিক অর্থনীতি। অর্থনীতিকে

সচল করতে সরকার বন্ধ শিল্পকারখানা চালুর উদ্যোগ নিয়েছে। এক্ষেত্রে স্বল্প সুদে

মূলধনের যোগান দেওয়া, দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে রোডশোসহ নানা কর্মকরিকল্পনা

গ্রহণ করেছে সরকার। এদিকে, অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে আনতে এবং কর্মসংস্থান বাড়ানোর

লক্ষ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের ঘোষণা দিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। এরই মধ্যে

২০ হাজার কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বিনিয়োগ আকৃষ্ট করতে শিগগিরই রোড শোর আয়োজন: কারখানাগুলোতে দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ

আকৃষ্ট করতে শিগগিরই রোড শোর আয়োজন করবে সরকার। এ লক্ষ্যে চলতি মাসের মধ্যেই

প্রয়োজনীয় প্রস্তুতি সম্পন্ন করার নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে। গত বৃহস্পতিবার (৪ জুন)

বাংলাদেশ সচিবালয়ের মন্ত্রিপরিষদ বিভাগে প্রধানমন্ত্রীর কার্যালয়ে ‘শিল্প

মন্ত্রণালয়ের আওতাধীন বন্ধ কারখানা চালু ও ব্যবস্থাপনা’ বিষয়ক এক সভায় এমন

সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়।

সভায় বন্ধ ও অলাভজনক কারখানাগুলোর বর্তমান অবস্থা, সমস্যা, সম্ভাবনা এবং করণীয়

বিষয়ে বিস্তারিত তুলে ধরা হয়। সভায় প্রধানমন্ত্রী তারেক রহমান বন্ধ কারখানাগুলো

দ্রুত চালু এবং অলাভজনক কারখানাগুলো লাভজনক করার কার্যকর উপায় খুঁজে বের করতে

সংশ্লিষ্টদের নির্দেশ দিয়েছেন। একই সঙ্গে তিনি এসব কারখানায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগ

আকর্ষণের ওপর বিশেষ গুরুত্বারোপ করেন। সভায় বন্ধ কারখানা চালু এবং অলাভজনক

কারখানাগুলো লাভজনক করে তুলতে বিশেষজ্ঞ কমিটির সুপারিশ নেওয়া হচ্ছে।

৬০ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের: গত ২৩ মে অর্থনীতিতে গতি ফিরিয়ে

আনতে এবং কর্মসংস্থান বাড়ানোর লক্ষ্যে ৬০ হাজার কোটি টাকার তহবিল গঠনের ঘোষণা

দিয়েছেন কেন্দ্রীয় ব্যাংকের গভর্নর মোস্তাকুর রহমান। নতুন এই ২০ হাজার কোটি টাকার

তহবিল সেই উদ্যোগেরই অংশ। ‘বন্ধ শিল্প ও সেবা খাত-সহায়ক প্রাক্‌-অর্থায়ন স্কিম’

শীর্ষক নীতিমালা জারি করে কেন্দ্রীয় ব্যাংক এ তথ্য জানিয়েছে।

একক প্রতিষ্ঠান ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে পারবে:

দেশের বন্ধ ও আংশিক সচল শিল্পপ্রতিষ্ঠানগুলোকে পুনরায় উৎপাদনে ফিরিয়ে আনতে ২০ হাজার

কোটি টাকার বিশেষ তহবিল গঠন করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক। এ তহবিল থেকে ৭ শতাংশ সুদে ঋণ

নিতে পারবে বড় শিল্প ও সেবা খাতের প্রতিষ্ঠানগুলো। এর আওতায় কোনো একক প্রতিষ্ঠান

বা গ্রুপ সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ সুবিধা পাবে।

নীতিমালা অনুযায়ী, একটি কোম্পানি বা গ্রুপ সর্বোচ্চ ২০০ কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিতে

পারবে। গ্রাহক পর্যায়ে সুদের হার হবে সর্বোচ্চ ৭ শতাংশ, যেখানে বর্তমানে বাণিজ্যিক

ব্যাংকগুলোর ঋণের সুদ ১৪ শতাংশেরও বেশি। চলতি মূলধন নেওয়া কোম্পানিতে প্রতিনিধি

বসাতে পারবে ব্যাংক। বাংলাদেশ ব্যাংকের সেই তহবিল থেকে ৪ শতাংশ সুদে টাকা নিয়ে ঋণ

দিতে পারবে ব্যাংকগুলো। দেশের সব ব্যাংক এই তহবিল থেকে টাকা নিতে পারবে।

এই স্কিমের আওতায় জাতীয় শিল্প নীতিমালা অনুযায়ী বৃহৎ শিল্প ও সেবা খাতের এমন

প্রতিষ্ঠান ঋণ সুবিধা পাবে, যারা আংশিক বা সম্পূর্ণ বন্ধ থাকলেও প্রয়োজনীয়

কার্যকরী মূলধন পেলে পুনরায় উৎপাদন বা সেবা কার্যক্রম শুরু করতে সক্ষম। একই সঙ্গে

যেসব প্রতিষ্ঠান সচল থাকলেও মূলধনের অভাবে পূর্ণ সক্ষমতায় পরিচালিত হতে পারছে না,

তারাও এ সুবিধার আওতায় আসবে।

ঋণখেলাপি ও অর্থপাচারকারী তহবিলের আওতায় আসবে না: রপ্তানিমুখী ও প্রচ্ছন্ন

রপ্তানিকারক প্রতিষ্ঠানগুলোকে অগ্রাধিকার দেওয়া হবে। পাশাপাশি কোনো দক্ষ প্রতিষ্ঠান

যদি বন্ধ কারখানা অধিগ্রহণ বা ইজারা নিয়ে পুনরায় চালু করতে চায়, তারাও এ সুবিধা

পাবে। তবে ঋণগ্রহীতা প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ঋণ খেলাপি, অর্থ পাচার বা ঋণের অর্থ

অপব্যবহারের রেকর্ড থাকলে তারা এ তহবিলের আওতায় আসতে পারবে না।

ঋণের মেয়াদ হবে সর্বোচ্চ এক বছর এবং প্রয়োজন অনুযায়ী তা নবায়নের সুযোগ থাকবে। এছাড়া

ঋণগ্রহীতারা প্রথম ছয় মাস গ্রেস পিরিয়ড সুবিধা পাবেন। অর্থাৎ, ছয় মাস পর থেকে সুদ

পরিশোধ শুরু করতে হবে। এই ঋণের অর্থ শ্রমিক-কর্মচারীদের সর্বোচ্চ চার মাসের

বেতন-ভাতা, বিদ্যুৎ-গ্যাসসহ বিভিন্ন ইউটিলিটি বিল এবং উৎপাদনের জন্য প্রয়োজনীয়

কাঁচামাল কেনায় ব্যয় করা যাবে। শ্রমিকদের বেতন সরাসরি ব্যাংক হিসাব বা মোবাইল

ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে পরিশোধ করতে হবে। নগদ অর্থ লেনদেনের সুযোগ থাকবে না। এছাড়া এই

অর্থ ব্যবহার করে পুরনো কোনো ঋণ পরিশোধ বা সমন্বয় করা যাবে না।

ঋণের যথাযথ ব্যবহার নিশ্চিত করতে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকগুলো নিয়মিত তদারকি করবে। প্রতি

তিন মাস অন্তর কারখানা পরিদর্শন করে প্রতিবেদন তৈরি করতে হবে। পাশাপাশি বাংলাদেশ

ব্যাংকও যে কোনো সময় সরেজমিনে পরিদর্শন করতে পারবে। নির্ধারিত সময়ে ঋণ পরিশোধে

ব্যর্থ হলে সংশ্লিষ্ট ব্যাংকের হিসাব থেকে অর্থ কেটে নেওয়ার পাশাপাশি অতিরিক্ত ২

শতাংশ দণ্ড সুদ আরোপ করা হবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের মতে, এই তহবিলের মূল লক্ষ্য হলো বন্ধ শিল্পপ্রতিষ্ঠান পুনরায়

চালু করে উৎপাদন বৃদ্ধি, রপ্তানি সম্প্রসারণ এবং নতুন কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা।

অর্থনীতিবিদ ও উদ্যোক্তাদের মতে, ২০ হাজার কোটি টাকার এই তহবিল স্বচ্ছভাবে

বাস্তবায়ন করা গেলে দেশের রপ্তানিমুখী শিল্পে তারল্য সংকট কাটিয়ে কয়েকশ বন্ধ বা

আংশিক বন্ধ কারখানা পুনরায় উৎপাদনে ফিরতে পারে। এতে লক্ষাধিক কর্মসংস্থানের সুযোগ

এবং রপ্তানি আয় বৃদ্ধির মাধ্যমে অর্থনীতিতে নতুন গতি সঞ্চার সম্ভব হবে। তবে এর

সাফল্য নির্ভর করবে প্রকৃত যোগ্য প্রতিষ্ঠান নির্বাচন, ঋণ বিতরণে স্বচ্ছতা এবং

বৈশ্বিক বাজার পরিস্থিতির ওপর।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos