ম্যাচের একেবারে অন্তিম মুহূর্তে এক অবিশ্বাস্য রোমাঞ্চের সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব। নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা চতুর্থ মিনিটে হিরাকাওয়ার লম্বা ক্রস থেকে বল পেয়েছিলেন ব্রাইন। তবে মিডলসবোরোর গোলরক্ষক বলটি সঠিকভাবে তালুবন্দী করতে ব্যর্থ হলে সুযোগটি লুফে নেন অলি ম্যাকবার্নি। তাঁর করা সেই ৯৪তম মিনিটের নাটকীয় গোলেই মিডলসবোরোকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে দীর্ঘ এক দশক পর আবারও
ম্যাচের একেবারে অন্তিম মুহূর্তে এক অবিশ্বাস্য রোমাঞ্চের সাক্ষী হলো ফুটবল বিশ্ব।
নির্ধারিত সময়ের পর যোগ করা চতুর্থ মিনিটে হিরাকাওয়ার লম্বা ক্রস থেকে বল
পেয়েছিলেন ব্রাইন। তবে মিডলসবোরোর গোলরক্ষক বলটি সঠিকভাবে তালুবন্দী করতে ব্যর্থ
হলে সুযোগটি লুফে নেন অলি ম্যাকবার্নি। তাঁর করা সেই ৯৪তম মিনিটের নাটকীয় গোলেই
মিডলসবোরোকে ১-০ ব্যবধানে হারিয়ে দীর্ঘ এক দশক পর আবারও ইংলিশ প্রিমিয়ার লিগে
ফেরার গৌরব অর্জন করেছে হাল সিটি। গুরুত্বপূর্ণ এই গোলের মাধ্যমে ক্লাবটির
দীর্ঘদিনের অপেক্ষার অবসান ঘটে।
এবারের চ্যাম্পিয়নশিপের প্রমোশনাল ফাইনাল প্লে-অফটি ছিল নানা নাটকীয়তায় ভরপুর।
মূলত ‘স্পাইগেট কেলেঙ্কারি’র কারণে সাউদাম্পটন বহিষ্কৃত হওয়ায় আকস্মিকভাবে এই
ফাইনালে খেলার সুযোগ পেয়েছিল মিডলসবোরো। তবে প্রস্তুতির অভাব এবং বড় ম্যাচের
স্নায়ুচাপ সামলাতে না পারায় মাঠের পারফরম্যান্সে তাদের যথেষ্ট দুর্বলতা লক্ষ্য
করা গেছে। অন্যদিকে হাল সিটি শুরু থেকেই ম্যাচ জয়ের নেশায় মরিয়া হয়ে লড়াই
চালিয়ে যায় এবং শেষ মুহূর্তের সুযোগটি কাজে লাগিয়ে জয়ের বন্দরে পৌঁছে যায়।
হাল সিটির জন্য প্রিমিয়ার লিগে ফেরার এই পথচলা মোটেও সহজ ছিল না। ২০১৬-১৭ মৌসুমে
প্রিমিয়ার লিগ থেকে অবনমনের পর ক্লাবটি এক ভয়াবহ অস্থিরতার মধ্য দিয়ে সময়
অতিবাহিত করেছে। এমনকি অবনমন হতে হতে এক পর্যায়ে তারা তৃতীয় স্তরের ফুটবল লিগ বা
‘লিগ ওয়ানে’ও নেমে গিয়েছিল। ক্লাবের মালিকানা পরিবর্তন, অভ্যন্তরীণ সংকট এবং
মাঠের হতাশাজনক পারফরম্যান্সের কারণে প্রতিবারই শীর্ষ লিগে ফেরার স্বপ্ন অধরা থেকে
যাচ্ছিল। সমর্থকদের জন্য এটি ছিল এক দীর্ঘ ও বেদনার প্রতীক্ষা।
তবে কোচ সার্গেজ জাকিরোভিচের আগমনে হাল সিটি নতুন করে প্রাণ ফিরে পায়। বিগত
২০২৪-২৫ মৌসুমে দলটি কোনোমতে রেলিগেশন এড়াতে পারলেও এবারের মৌসুমে তারা সম্পূর্ণ
ভিন্ন রূপে আবির্ভূত হয়। লড়াকু মানসিকতার পরিচয় দিয়ে তারা চ্যাম্পিয়নশিপে ষষ্ঠ
স্থান অর্জন করে প্লে-অফ নিশ্চিত করে। সেমিফাইনালে মিলওয়ালকে দুই লেগ মিলিয়ে ২-০
ব্যবধানে হারিয়ে তারা ফাইনালের মঞ্চে নিজেদের অবস্থান সুসংহত করেছিল। জাকিরোভিচের
কৌশলী পরিকল্পনাই মূলত দলটিকে আজ এই সাফল্যের চূড়ায় নিয়ে এসেছে।
পরিশেষে, অলি ম্যাকবার্নির সেই জয়সূচক গোলটি হাল সিটির ফুটবল ইতিহাসে একটি নতুন
অধ্যায় হিসেবে স্বর্ণাক্ষরে লেখা থাকবে। দীর্ঘ ১০ বছরের বিরতি কাটিয়ে বিশ্বের
সবচেয়ে জনপ্রিয় ও ব্যয়বহুল লিগে ফেরার এই অর্জন ক্লাবটির আর্থিক ও পেশাদার
ভবিষ্যৎ আমূল বদলে দেবে। নতুন মৌসুমে প্রিমিয়ার লিগের বড় দলগুলোর বিপক্ষে লড়াই
করার চ্যালেঞ্জ নিতে এখন থেকেই মানসিকভাবে প্রস্তুতি শুরু করেছে হাল সিটি। এই
নাটকীয় প্রত্যাবর্তনের গল্পটি ক্লাবটির সমর্থকদের মাঝে দীর্ঘকাল আনন্দের খোরাক হয়ে
থাকবে।











