কেশবপুরে রক্তিম কৃষ্ণচূড়ার অপরূপ সৌন্দর্য, আগুনরঙা উৎসবে সেজেছে গ্রামবাংলা

কেশবপুরে রক্তিম কৃষ্ণচূড়ার অপরূপ সৌন্দর্য, আগুনরঙা উৎসবে সেজেছে গ্রামবাংলা

গ্রীষ্মের দাবদাহ আর তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যেও যশোরের কেশবপুর উপজেলা যেন প্রকৃতির এক রঙিন ক্যানভাসে পরিণত হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ জনপদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান, সড়কের ধারে এবং বসতবাড়ির আশপাশজুড়ে রক্তিম কৃষ্ণচূড়ার অপরূপ সৌন্দর্য মুগ্ধ করছে পথচারী ও প্রকৃতিপ্রেমীদের। টুকটুকে লাল, কমলা ও হলুদ আভায় ভরা কৃষ্ণচূড়ার ফুলে চারদিক যেন আগুনরঙা সাজে সেজে উঠেছে। দূর থেকে তাকালেই মনে

গ্রীষ্মের দাবদাহ আর তীব্র তাপপ্রবাহের মধ্যেও যশোরের কেশবপুর উপজেলা যেন প্রকৃতির

এক রঙিন ক্যানভাসে পরিণত হয়েছে। উপজেলার বিভিন্ন গ্রামীণ জনপদ, শিক্ষা প্রতিষ্ঠান,

সড়কের ধারে এবং বসতবাড়ির আশপাশজুড়ে রক্তিম কৃষ্ণচূড়ার অপরূপ সৌন্দর্য মুগ্ধ করছে

পথচারী ও প্রকৃতিপ্রেমীদের। টুকটুকে লাল, কমলা ও হলুদ আভায় ভরা কৃষ্ণচূড়ার ফুলে

চারদিক যেন আগুনরঙা সাজে সেজে উঠেছে।

দূর থেকে তাকালেই মনে হয়, সবুজের বুক চিরে আগুন জ্বলে উঠেছে প্রকৃতির বুকে।

গ্রীষ্মের খরতাপ উপেক্ষা করেও কৃষ্ণচূড়ার এই অপরূপ রূপ যেন মানুষকে কিছুক্ষণের জন্য

থমকে দাঁড়াতে বাধ্য করছে। বিশেষ করে কেশবপুর সরকারি ডিগ্রি কলেজ চত্বরের বিশাল

কৃষ্ণচূড়া গাছগুলো এখন সৌন্দর্যপিপাসু মানুষের অন্যতম আকর্ষণ। ফুলে ফুলে ভরা

গাছগুলোতে পাতার উপস্থিতি যেন খুঁজেই পাওয়া যায় না।

উপজেলার বিভিন্ন গ্রামের রাস্তার দু’পাশে সারিবদ্ধ কৃষ্ণচূড়া গাছ প্রকৃতিকে দিয়েছে

নতুন মাত্রা। গ্রামের মেঠোপথ, খোলা মাঠ কিংবা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের প্রাঙ্গণে

দাঁড়িয়ে থাকা এই বৃক্ষগুলো শুধু সৌন্দর্যই ছড়াচ্ছে না, দিচ্ছে প্রশান্তির ছায়াও।

তীব্র রোদের মধ্যে কৃষ্ণচূড়ার নিচে দাঁড়ালে যেন এক অন্যরকম শীতলতার অনুভূতি জাগে।

কবিগুরু রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর থেকে শুরু করে অসংখ্য কবি-সাহিত্যিক তাঁদের কবিতা ও গানে

কৃষ্ণচূড়াকে প্রেম, সৌন্দর্য ও আবেগের প্রতীক হিসেবে তুলে ধরেছেন। বাংলার প্রকৃতির

সঙ্গে মিশে থাকা এই ফুল যেন ঋতুবৈচিত্র্যের এক অনন্য ভাষা। গ্রীষ্ম এলেই কৃষ্ণচূড়ার

রক্তিম আভা জানান দেয় ঋতুর আগমনী বার্তা।

কেশবপুর কৃষি অফিসার আব্দুল্ল্যাহ আল মামুন বলেন, প্রচণ্ড গরমের মধ্যেও কৃষ্ণচূড়া

গাছের নিচে এক ধরনের শীতলতা অনুভূত হয়। ক্লান্ত পথচারীরা এই গাছের ছায়ায় কিছুটা

স্বস্তি খুঁজে পান। পাশাপাশি প্রকৃতির সৌন্দর্যও বহুগুণে বৃদ্ধি পায়।

জানা গেছে, কৃষ্ণচূড়া তুলনামূলকভাবে মাঝারি উচ্চতার বৃক্ষ হলেও এর শাখা-প্রশাখা

অনেক দূর পর্যন্ত বিস্তৃত হয়। গ্রীষ্মকালে পত্রঝরা এই গাছে যখন ফুল ফোটে, তখন পুরো

গাছজুড়ে সৃষ্টি হয় লাল রঙের বিশাল এক ছাউনি। প্রতিটি ফুলের চারটি বড় পাপড়ি থাকে এবং

এর উজ্জ্বল লাল রঙ সহজেই মানুষের নজর কাড়ে। কৃষ্ণচূড়ার পাতাগুলো উজ্জ্বল সবুজ এবং

জটিল গঠনের হওয়ায় গাছটি আরও দৃষ্টিনন্দন হয়ে ওঠে। কেশবপুর উপজেলা নির্বাহী অফিসার

রেকসোনা খাতুন বলেন, কৃষ্ণচূড়া শুধু একটি সৌন্দর্যবর্ধক বৃক্ষ নয়, এটি পরিবেশের

ভারসাম্য রক্ষাতেও গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে। প্রকৃতির এই অপার সৌন্দর্য রক্ষায়

সবাইকে এগিয়ে আসতে হবে। নির্বিচারে গাছ কাটার প্রবণতা বন্ধ না হলে ভবিষ্যতে

প্রকৃতির ভারসাম্য মারাত্মকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হবে।

প্রকৃতির রাণীখ্যাত কৃষ্ণচূড়া এখন কেশবপুরের গ্রামবাংলাকে রাঙিয়ে তুলেছে এক

অপার্থিব সৌন্দর্যে। শহরের ব্যস্ততা আর যান্ত্রিক জীবনের ক্লান্তি ভুলে মানুষ খুঁজে

নিচ্ছে প্রকৃতির নির্মল প্রশান্তি। রক্তিম কৃষ্ণচূড়ার এই সৌন্দর্য যেন জানান দিচ্ছে

প্রকৃতি এখনো তার আপন রূপে বেঁচে আছে বাংলার গ্রামে-গঞ্জে।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos