টি-টোয়েন্টিতে অনন্য বিশ্বরেকর্ড: এক ম্যাচেই হলো ৬টি হাফসেঞ্চুরি

টি-টোয়েন্টিতে অনন্য বিশ্বরেকর্ড: এক ম্যাচেই হলো ৬টি হাফসেঞ্চুরি

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) চলতি আসরে রেকর্ড ও রোমাঞ্চের এক নতুন দৃষ্টান্ত স্থাপিত হয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স ও গুজরাট টাইটান্সের মধ্যকার ম্যাচে। গত শনিবার কলকাতার ইডেন গার্ডেনে অনুষ্ঠিত এই লড়াইয়ে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো এক ম্যাচে ছয়টি হাফসেঞ্চুরির অনন্য এক বিশ্বরেকর্ড দেখা গেছে। হাই-ভোল্টেজ এই ম্যাচে গুজরাট টাইটান্সকে ২৯ রানে হারিয়ে জয় তুলে নিয়েছে

ইন্ডিয়ান প্রিমিয়ার লিগের (আইপিএল) চলতি আসরে রেকর্ড ও রোমাঞ্চের এক নতুন দৃষ্টান্ত

স্থাপিত হয়েছে কলকাতা নাইট রাইডার্স ও গুজরাট টাইটান্সের মধ্যকার ম্যাচে। গত শনিবার

কলকাতার ইডেন গার্ডেনে অনুষ্ঠিত এই লড়াইয়ে টি-টোয়েন্টি ফরম্যাটের ইতিহাসে

প্রথমবারের মতো এক ম্যাচে ছয়টি হাফসেঞ্চুরির অনন্য এক বিশ্বরেকর্ড দেখা গেছে।

হাই-ভোল্টেজ এই ম্যাচে গুজরাট টাইটান্সকে ২৯ রানে হারিয়ে জয় তুলে নিয়েছে স্বাগতিক

কলকাতা। প্রথমে ব্যাট করে কলকাতা ২ উইকেটে ২৪৭ রানের বিশাল সংগ্রহ দাঁড় করায়, যার

জবাবে গুজরাট টাইটান্স ২১৮ রান করতে সক্ষম হয়। দুই দল মিলিয়ে এই ম্যাচে মোট ৪৬৫ রান

সংগৃহীত হয়।

ম্যাচটিতে হাফসেঞ্চুরির এই বিরল নজির শুরু হয় কলকাতার ব্যাটারদের হাত ধরে। দলটির

পক্ষে ফিন অ্যালেন ৩৫ বলে সর্বোচ্চ ৯৩ রান করেন, এছাড়া অঙ্ক্রিশ রঘুবংশী ৪৪ বলে ৮২

এবং ক্যামেরন গ্রিন ২৮ বলে ৫২ রানের বিধ্বংসী ইনিংস খেলেন। বিশাল লক্ষ্য তাড়া করতে

নেমে গুজরাটের হয়েও তিন ব্যাটার পঞ্চাশোর্ধ্ব রান সংগ্রহ করেন। অধিনায়ক শুভমান গিল

৪৯ বলে ৮৫, জস বাটলার ৩৫ বলে ৫৭ এবং সাই সুদর্শন ২৮ বলে ৫৩ রান করেন। টি-টোয়েন্টি

ক্রিকেটে এর আগে কখনো কোনো ম্যাচে ব্যক্তিগত সেঞ্চুরি ছাড়াই ছয়টি হাফসেঞ্চুরি হওয়ার

ঘটনা ঘটেনি, যা এই ম্যাচটিকে ইতিহাসের পাতায় আলাদা স্থান করে দিয়েছে।

ব্যাটিংয়ের এই মহোৎসবের দিনে বল হাতে চরম বিপর্যয়ের শিকার হয়েছেন বিশ্বের অন্যতম

সেরা লেগ-স্পিনার রশিদ খান। গুজরাটের এই আফগান তারকা তাঁর নির্ধারিত ৪ ওভারে

উইকেটশূন্য থেকে খরচ করেন ৫৭ রান, যা আইপিএলে তাঁর ক্যারিয়ারের সবচেয়ে ব্যয়বহুল

বোলিং স্পেল। অন্যদিকে, ব্যক্তিগত অর্জনে নতুন এক মাইলফলক স্পর্শ করেছেন সাই

সুদর্শন। তিনি মাত্র ৭৮ ইনিংসে ৩০০০ টি-টোয়েন্টি রান পূর্ণ করে দ্রুততম ব্যাটার

হিসেবে শন মার্শকে (৮৫ ইনিংস) পেছনে ফেলে দিয়েছেন। পাশাপাশি শুভমান গিল অধিনায়ক

হিসেবে টানা দ্বিতীয় আসরে ৫০০ রানের গণ্ডি পেরিয়ে শচীন টেন্ডুলকার ও বিরাট কোহলিদের

মতো কিংবদন্তিদের পাশে নিজের নাম লিখিয়েছেন।

রেকর্ড ভাঙা-গড়ার এই ম্যাচে কলকাতা নাইট রাইডার্স তাঁদের ক্লাব ইতিহাসের তৃতীয়

সর্বোচ্চ দলীয় সংগ্রহের পাশাপাশি ইনিংসে ২২টি ছক্কা হাঁকিয়েছে, যা আইপিএলে যৌথভাবে

দ্বিতীয় সর্বোচ্চ। বিপরীতে গুজরাট টাইটান্সের ফিল্ডাররা চারটি ক্যাচ মিস করে

বিব্রতকর এক রেকর্ডের ভাগীদার হয়েছে। উল্লেখ্য যে, এই আসরের ৬০তম ম্যাচেই

টুর্নামেন্টে মোট ৫২ বার দুইশোর্ধ্ব দলীয় ইনিংস হওয়ার রেকর্ড স্পর্শ হয়েছে, যা ২০২৫

সালের গত আসরের সর্বোচ্চ রেকর্ডের সমান। টুর্নামেন্টে এখনও ১৪টি ম্যাচ বাকি থাকায়

এই সংখ্যা যে বড় ব্যবধানে বাড়বে, তা নিশ্চিতভাবেই বলা যায়।

ইডেন গার্ডেনের এই রুদ্ধশ্বাস লড়াই আধুনিক টি-টোয়েন্টি ক্রিকেটে ব্যাটারদের আগ্রাসী

মনোভাব ও বোলারদের কঠিন চ্যালেঞ্জের বিষয়টি পুনরায় সামনে নিয়ে এসেছে। কলকাতার সুনীল

নারিন বল হাতে গুরুত্বপূর্ণ ২ উইকেট নিয়ে গুজরাটের জয়ের পথ কঠিন করে তোলেন। এই জয়ের

ফলে কলকাতা পয়েন্ট টেবিলে নিজেদের অবস্থান আরও শক্তিশালী করেছে, আর গুজরাটকে তাঁদের

বোলিং ও ফিল্ডিংয়ের ত্রুটিগুলো নিয়ে নতুন করে ভাবার অবকাশ তৈরি করে দিয়েছে।

ক্রিকেটপ্রেমীদের জন্য এই ম্যাচটি কেবল একটি প্রতিযোগিতাই ছিল না, বরং ছিল রেকর্ডের

এক অভাবনীয় প্রদর্শনী।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos