রাঙামাটিতে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাই জলউৎসবের মধ্য দিয়ে শেষ হলো এবারের বর্ষবরণের আয়োজন। উৎসব ঘিরে পুরো শহরে বয়ে যায় আনন্দের জোয়ার, যেখানে পাহাড়ি-বাঙালি মিলিত হয়ে অংশ নেন এক বর্ণিল আয়োজনে। রাঙামাটির চিংহ্লামং মারী স্টেডিয়ামে কড়া গোধূলির রোদ রাঙিয়ে দিয়েছে পাহাড়ের ভাঁজ। আর সেই রাঙা দিনে উৎসবের রঙে মেতেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম। মারমা সম্প্রদায়ের বর্ষবরণ উৎসব ‘সাংগ্রাই’
রাঙামাটিতে মারমা সম্প্রদায়ের ঐতিহ্যবাহী সাংগ্রাই জলউৎসবের মধ্য দিয়ে শেষ হলো
এবারের বর্ষবরণের আয়োজন। উৎসব ঘিরে পুরো শহরে বয়ে যায় আনন্দের জোয়ার, যেখানে
পাহাড়ি-বাঙালি মিলিত হয়ে অংশ নেন এক বর্ণিল আয়োজনে। রাঙামাটির চিংহ্লামং মারী
স্টেডিয়ামে কড়া গোধূলির রোদ রাঙিয়ে দিয়েছে পাহাড়ের ভাঁজ। আর সেই রাঙা দিনে উৎসবের
রঙে মেতেছে পার্বত্য চট্টগ্রাম। মারমা সম্প্রদায়ের বর্ষবরণ উৎসব ‘সাংগ্রাই’ উপলক্ষে
পুরো রাঙামাটি শহরজুড়ে বয়ে যায় আনন্দের জোয়ার।
সাংগ্রাইয়ের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ হলো ‘জলকেলি’ বা পানি খেলা। মারমা সম্প্রদায়ের
বিশ্বাস, এই মৈত্রী পানি দিয়ে ধুয়ে-মুছে যাবে গত বছরের সব। মঞ্চে মারমা সম্প্রদায়ের
ঐতিহ্যবাহী নাচ-গান পরিবেশন করা হয়। পাশাপাশি রঙিন পোশাকে সেজে তরুণ-তরুণীরা একে
অপরকে পানি ছিটিয়ে আনন্দ উপভোগ করেন। এ ছাড়া শিশু-কিশোর থেকে শুরু করে
বয়োজ্যেষ্ঠরাও এই উৎসবে অংশগ্রহণ করেন, যা পাহাড়ে বসবাসরত পাহাড়ি-বাঙালি সব
সম্প্রদায়ের মাঝে সম্প্রীতির বার্তা ছড়িয়ে দেয়। গতকাল শুক্রবারের এই উৎসবের আয়োজকরা
বলছেন, উৎসবের মাধ্যমে সবার মধ্যে সম্প্রীতির সেতুবন্ধন তৈরি করা। তারা মনে করেন,
জলকেলি বা সাংগ্রাই কেবল মারমা সম্প্রদায়ের নিজস্ব সংস্কৃতি নয়, বরং এটি পাহাড় ও
সমতলের মানুষের মধ্যে মৈতী ও একতা বাড়ানোর একটি শক্তিশালী মাধ্যম।
সাংগ্রাইয়ের সবচেয়ে আকর্ষণীয় অংশ ‘জলকেলি’ বা পানি খেলা। শিশু থেকে বয়োজ্যেষ্ঠ—সব
বয়সি মানুষের অংশগ্রহণে উৎসবটি পরিণত হয় এক মহামিলনমেলায়। আয়োজকদের মতে, সাংগ্রাই
শুধু মারমা সম্প্রদায়ের উৎসব নয়, এটি পাহাড় ও সমতলের মানুষের মধ্যে সম্প্রীতি ও
বন্ধনের এক শক্তিশালী মাধ্যম।
এ অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথির বক্তব্যে পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক মন্ত্রী দীপেন দেওয়ান
এমপি বলেন, ‘পার্বত্যাঞ্চলের সুষম উন্নয়নে সরকার কাজ করে যাচ্ছে।’ তিনি বলেন,
‘পার্বত্য চট্টগ্রামের ১৩টি জনগোষ্ঠীর ঐতিহ্য, কৃষ্টি ও সংস্কৃতি সংরক্ষণ করা
জরুরি। কিছু জনগোষ্ঠী অস্তিত্ব সংকটে রয়েছে, তাদের সংস্কৃতি টিকিয়ে রাখতে
মন্ত্রণালয় প্রয়োজনীয় সব পদক্ষেপ নেবে।’
অনুষ্ঠানে গেস্ট অব অনার হিসেবে উপস্থিত ছিলেন পার্বত্য চট্টগ্রামবিষয়ক
প্রতিমন্ত্রী ব্যারিস্টার মীর মোহাম্মদ হেলাল উদ্দীন এমপি। তিনি বলেন, ‘ধর্ম-বর্ণ
নির্বিশেষে সকল সংস্কৃতিকে ধারণ ও সম্মান করার মধ্যেই রয়েছে বাংলাদেশের প্রকৃত
শক্তি। এই উৎসব এখন সকল সম্প্রদায়ের মিলনমেলায় পরিণত হয়েছে, যা দেশের সাংস্কৃতিক
বৈচিত্র্যের প্রতিচ্ছবি।’
মাসসর জলউৎসব উদযাপন কমিটির আহ্বায়ক পাইচিং মং মারমা বলেন, ‘পুরোনো বছরের সব
দুঃখ-গ্লানি ধুয়ে-মুছে নতুন বছরকে স্বাগত জানানোর মধ্য দিয়ে সকলের মাঝে সেতুবন্ধন
তৈরি করাই এই জলউৎসবের মূল উদ্দেশ্য।’











