১২ বছর ভাঙা সেতু, ঝুঁকি নিয়ে চলাচল ৪০ হাজার মানুষের

১২ বছর ভাঙা সেতু, ঝুঁকি নিয়ে চলাচল ৪০ হাজার মানুষের

বরগুনার আমতলী উপজেলার আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের সোনাখালী বাজার-সংলগ্ন সোনাখালী খালের ওপর নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ লোহার সেতু দীর্ঘ ১২ বছর ধরে ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে। মাঝখানের অংশ ধসে যাওয়ায় স্থানীয়দের বসানো নড়বড়ে কাঠের পাটাতনের ওপর দিয়েই জীবনের ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন অন্তত ছয়টি গ্রামের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার মানুষ। সোমবার (৩০ মার্চ) সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর

বরগুনার আমতলী উপজেলার আঠারোগাছিয়া ইউনিয়নের সোনাখালী বাজার-সংলগ্ন সোনাখালী খালের

ওপর নির্মিত একটি গুরুত্বপূর্ণ লোহার সেতু দীর্ঘ ১২ বছর ধরে ভাঙা অবস্থায় পড়ে আছে।

মাঝখানের অংশ ধসে যাওয়ায় স্থানীয়দের বসানো নড়বড়ে কাঠের পাটাতনের ওপর দিয়েই জীবনের

ঝুঁকি নিয়ে চলাচল করছেন অন্তত ছয়টি গ্রামের প্রায় ৩৫ থেকে ৪০ হাজার মানুষ।

সোমবার (৩০ মার্চ) সরেজমিনে দেখা গেছে, সেতুর মাঝ বরাবর বড় একটি অংশ ভেঙে খালে পড়ে

আছে। সেখানে অস্থায়ীভাবে কাঠের পাটাতন বসানো হলেও তা অত্যন্ত ঝুঁকিপূর্ণ। সেতুর

উত্তর পাশও আংশিক ডেবে গেছে। প্রতিদিন শত শত মানুষ, শিক্ষার্থী ও হালকা যানবাহন

ঝুঁকি নিয়ে সেতুটি পারাপার করছেন।

স্থানীয় সূত্র জানায়, ২০০৭ সালে স্থানীয় সরকার প্রকৌশল অধিদপ্তর (এলজিইডি) লোহার

কাঠামোর ওপর ঢালাই দিয়ে সেতুটি নির্মাণ করে। তবে ২০১৪ সালে সেতুর মাঝখান ভেঙে পড়ে

একটি পণ্যবাহী ট্রলি খালে পড়ে যায়। এরপর দীর্ঘ সময় পার হলেও সেতুটি সংস্কারে

কার্যকর কোনো উদ্যোগ নেওয়া হয়নি।

এই সেতুর ওপর নির্ভরশীল সোনাখালী স্কুল অ্যান্ড কলেজ, সোনাখালী সরকারি প্রাথমিক

বিদ্যালয়, মধ্য সোনাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়, গেরাবুনিয়া সরকারি প্রাথমিক

বিদ্যালয়, পূর্ব সোনাখালী সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয় ও মাহবুব আলম মোল্লা মাদ্রাসার

শত শত শিক্ষার্থী প্রতিদিন জীবনের ঝুঁকি নিয়ে যাতায়াত করছে।

সোনাখালী স্কুল অ্যান্ড কলেজের অষ্টম শ্রেণির ছাত্রী মারিয়া বলেন, ‘প্রতিদিন ভয়ে

ভয়ে সেতু পার হই। কখন যে ভেঙে পড়ে, সেই আশঙ্কা সবসময় থাকে। একই প্রতিষ্ঠানের ছাত্র

রাকিব জানায়, বিকল্প রাস্তা না থাকায় বাধ্য হয়েই এই ঝুঁকিপূর্ণ সেতু ব্যবহার করতে

হচ্ছে।’

স্থানীয় বাসিন্দা মো. কবির খান বলেন, ‘সেতুটি ভেঙে যাওয়ার পর থেকে কয়েক হাজার মানুষ

চরম ভোগান্তিতে আছে। দ্রুত সংস্কার করা জরুরি।’

আঠারোগাছিয়া ইউনিয়ন পরিষদের চেয়ারম্যান মো. রফিকুল ইসলাম রিপন বলেন, ‘সেতুটি ভেঙে

যাওয়ার পরপরই উপজেলা প্রকৌশল বিভাগকে একাধিকবার জানানো হয়েছে। কিন্তু এখন পর্যন্ত

কোনো কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়া হয়নি। বাধ্য হয়ে স্থানীয়রা নিজেরাই কাঠের পাটাতন

বসিয়েছে।’

এ বিষয়ে আমতলী উপজেলা প্রকৌশলী মো. ইদ্রিস বলেন, ‘সেতুটির অবস্থা অত্যন্ত নাজুক।

অর্থ বরাদ্দ না থাকায় সংস্কার সম্ভব হয়নি। সেখানে একটি নতুন গার্ডার সেতু নির্মাণের

প্রস্তাব পাঠানো হয়েছে। বরাদ্দ পেলে দ্রুত কাজ শুরু করা হবে।’

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos