মধ্যপ্রাচ্য সংকটে দেড় বছর পর ডলারের দামে ঊর্ধ্বগতি

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে দেড় বছর পর ডলারের দামে ঊর্ধ্বগতি

প্রায় দেড় বছর স্থিতিশীল থাকার পর দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে মার্কিন ডলারের দামে নতুন করে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি, আগাম এলসির দায় পরিশোধের চাপ এবং প্রবাসী আয় সংগ্রহে প্রতিযোগিতা বাড়ায় ডলারের দামে এই বৃদ্ধি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন। সোমবার থেকে ব্যাংকগুলো বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউজ থেকে ডলার কেনার দামে পরিবর্তন আনে। এতদিন প্রতি ডলার

প্রায় দেড় বছর স্থিতিশীল থাকার পর দেশের বৈদেশিক মুদ্রাবাজারে মার্কিন ডলারের দামে

নতুন করে ঊর্ধ্বমুখী প্রবণতা দেখা দিয়েছে। মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি, আগাম

এলসির দায় পরিশোধের চাপ এবং প্রবাসী আয় সংগ্রহে প্রতিযোগিতা বাড়ায় ডলারের দামে এই

বৃদ্ধি হয়েছে বলে সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন।

সোমবার থেকে ব্যাংকগুলো বিদেশি এক্সচেঞ্জ হাউজ থেকে ডলার কেনার দামে পরিবর্তন আনে।

এতদিন প্রতি ডলার ১২২ টাকা ২৫ থেকে ৩৫ পয়সা দরে কেনা হলেও তা বেড়ে সর্বোচ্চ ১২২

টাকা ৯০ পয়সায় পৌঁছেছে। একই সঙ্গে আন্তঃব্যাংক বাজার এবং খোলাবাজারেও ডলারের দাম

বেড়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সোমবার আন্তঃব্যাংক বাজারে প্রতি ডলার বিক্রি

হয়েছে ১২২ টাকা ৫৫ পয়সায়। আগের দিন এই দর ছিল ১২২ টাকা ৩৭ পয়সা। এর আগে দীর্ঘ সময়

ধরে ডলারের দর ১২২ টাকা ৩০ থেকে ৪০ পয়সার মধ্যে ওঠানামা করছিল।

খোলাবাজারেও ডলারের দাম বাড়তে দেখা গেছে। সেখানে নগদ ডলার বিক্রি হচ্ছে ১২৫ টাকা ৭০

থেকে ৮০ পয়সা দরে। গত সপ্তাহে যা ছিল ১২৪ টাকা ৫০ থেকে ৬০ পয়সা। ইরানের সঙ্গে

ইসরায়েল ও যুক্তরাষ্ট্রের সংঘাত শুরু হওয়ার পর থেকেই খোলাবাজারে ডলারের দামে

ঊর্ধ্বগতি শুরু হয়েছে। ডলারের দর বাড়লে আমদানি ব্যয় বাড়ে, যা শেষ পর্যন্ত পণ্যমূল্য

ও মূল্যস্ফীতিতে প্রভাব ফেলে।

ব্যাংক সূত্রে জানা গেছে, বর্তমানে প্রবাসী আয় কিনতে ব্যাংকগুলো প্রতি ডলারে

সর্বোচ্চ ১২২ টাকা ৯০ পয়সা পর্যন্ত দিচ্ছে। এর ফলে আমদানির ক্ষেত্রে ডলারের দর

প্রায় ১২৩ টাকার কাছাকাছি পৌঁছেছে। এক সপ্তাহ আগেও আমদানিতে প্রতি ডলারের দাম ছিল

প্রায় ১২২ টাকা ৫০ পয়সা।

আমদানিকারকরা জানান, মধ্যপ্রাচ্যের যুদ্ধ পরিস্থিতি কেন্দ্র করে ব্যাংকগুলো হঠাৎ

আমদানিতে ডলারের দাম প্রায় ৫০ পয়সা বাড়িয়েছে। এর ফলে আমদানির খরচ বাড়ছে এবং শেষ

পর্যন্ত এর প্রভাব ভোক্তা পর্যায়ে পণ্যের দামে পড়বে।

ব্যাংক কর্মকর্তারা জানান, মধ্যপ্রাচ্যের অস্থিরতার কারণে আন্তর্জাতিক রেমিট্যান্স

হাউসগুলো ডলারের বিপরীতে বেশি দাম প্রস্তাব করছে। আগে যেখানে প্রায় ১২২ টাকায়

প্রবাসী আয়ের ডলার কেনা যেত, এখন তা প্রায় ১২৩ টাকার কাছাকাছি পৌঁছে গেছে। ফলে

আমদানির ক্ষেত্রেও ডলারের দাম বেড়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের প্রকাশিত মুদ্রা বিনিময় হার সংক্রান্ত প্রতিবেদনে দেখা গেছে,

সাম্প্রতিক সময়ে ডলারের গড় দরও বেড়েছে। গত ৩ মার্চ প্রতি ডলারের গড় মূল্য ছিল ১২২

টাকা ৩৩ পয়সা, যা এখন বেড়ে দাঁড়িয়েছে ১২২ টাকা ৫৮ পয়সায়।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos