গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের পর কোচের চাকরি ছাড়লেন হং মিউং-বো

গ্রুপ পর্ব থেকে বিদায়ের পর কোচের চাকরি ছাড়লেন হং মিউং-বো

প্রথম ম্যাচে জয় দিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করলেও, পরবর্তী টানা দুই ম্যাচে হেরে গ্রুপ পর্ব থেকেই লজ্জাজনক বিদায় নিতে হয়েছে এশিয়ার অন্যতম ফুটবল পরাশক্তি দক্ষিণ কোরিয়াকে। দলের এমন ভরাডুবির পর দেশটির রাষ্ট্রপতি লি-জি মিউং প্রকাশ্যেই কোচ হং মিউং-বোকে ‘অযোগ্য’ বলে অভিহিত করে কড়া সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে দলের এই বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখতে

প্রথম ম্যাচে জয় দিয়ে ২০২৬ বিশ্বকাপ অভিযান শুরু করলেও, পরবর্তী টানা দুই ম্যাচে

হেরে গ্রুপ পর্ব থেকেই লজ্জাজনক বিদায় নিতে হয়েছে এশিয়ার অন্যতম ফুটবল পরাশক্তি

দক্ষিণ কোরিয়াকে। দলের এমন ভরাডুবির পর দেশটির রাষ্ট্রপতি লি-জি মিউং প্রকাশ্যেই

কোচ হং মিউং-বোকে ‘অযোগ্য’ বলে অভিহিত করে কড়া সমালোচনা করেন। একই সঙ্গে বিশ্বকাপে

দলের এই বিপর্যয়ের কারণ খতিয়ে দেখতে রাষ্ট্রীয় তদন্তের নির্দেশ দেন রাষ্ট্রপতি।

সরকারের সর্বোচ্চ পর্যায় থেকে এমন তীব্র সমালোচনার ও চাপের মুখে পড়ার পরই দ্রুত

পদত্যাগের সিদ্ধান্ত নিয়েছেন দক্ষিণ কোরিয়ার প্রধান কোচ হং মিউং-বো।

গতকাল আর্জেন্টিনা-জর্ডান এবং আলজেরিয়া-অস্ট্রিয়ার মধ্যকার ম্যাচ দুটি শেষ হওয়ার

মধ্য দিয়ে এবারের বিশ্বকাপের গ্রুপ পর্বের পর্দা নামে। আর এই ম্যাচগুলোর সমীকরণ

শেষে নিশ্চিত হয়ে যায় যে, ‘সেরা তৃতীয়’ দল হিসেবেও নকআউট পর্বে (রাউন্ড অব ৩২)

জায়গা পাচ্ছেন না দক্ষিণ কোরিয়া। দলের এই আনুষ্ঠানিক বিদায়ের পর পরই গতকাল

মেক্সিকোর গুয়াদালাহারায় এক জরুরি সংবাদ সম্মেলন ডাকেন কোচ হং মিউং-বো। সেখানে

তিনি বলেন, “সবার আগে আমি কোরিয়ান ফুটবলকে গভীরভাবে ভালোবাসি। জাতীয় দলকে যাঁরা

সব সময় নিঃশর্ত সমর্থন দিয়ে আসছেন—তাদের সবার কাছে আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমা চাইছি।

আজ আমি কোরিয়া জাতীয় ফুটবল দলের প্রধান কোচের পদ থেকে সরে দাঁড়ানোর আনুষ্ঠানিক

সিদ্ধান্ত নিয়েছি।”

বিগত ২০২৪ সালে দক্ষিণ কোরিয়া জাতীয় দলের কোচের দায়িত্ব গ্রহণ করেছিলেন হং। এই দুই

বছরে তাঁর অধীনে দল ২০টি ম্যাচে জয় পেলেও, ৯টি ম্যাচ ড্র করে এবং ১৬টি ম্যাচে হারের

মুখ দেখে। পদত্যাগের ঘোষণা দিয়ে আবেগঘন কণ্ঠে হং বলেন, “জাতীয় দলের প্রধান কোচের

দায়িত্ব গ্রহণ করা আমার জন্য কখনোই সহজ সিদ্ধান্ত ছিল না। কিন্তু যেদিন এই দায়িত্ব

নিয়েছিলাম, সেদিন থেকেই কোনো অজুহাত বা অন্য কোনো কারণের কথা চিন্তা করিনি। নিজের

ওপর অর্পিত দায়িত্ব সর্বোচ্চ নিষ্ঠার সঙ্গে পালন করাই ছিল আমার একমাত্র লক্ষ্য।

বিগত দুই বছর ধরে খেলোয়াড় নির্বাচন, অনুশীলনের প্রস্তুতি কিংবা ম্যাচে দলকে

নেতৃত্ব দেওয়ার ক্ষেত্রে প্রতিটি সিদ্ধান্ত নেওয়ার সময় নিজেকে বারবার প্রশ্ন করেছি

যে, এটি কোরিয়ান ফুটবলের জন্য সঠিক কি না। আমি বলছি না যে আমার নেওয়া সব সিদ্ধান্ত

সঠিক ছিল, তবে আমি শতভাগ নিষ্ঠাবান ছিলাম।”

উল্লেখ্য, এবারের বিশ্বকাপে চেক প্রজাতন্ত্রকে ২-১ গোলে হারিয়ে দুর্দান্ত সূচনা

করেছিল দক্ষিণ কোরিয়া। তবে পরের দুই ম্যাচে মেক্সিকো ও দক্ষিণ আফ্রিকার রক্ষণভাগের

কাছে পরাস্ত হয়ে টানা ১-০ ব্যবধানে হেরে বসে দলটি। ফলে ‘এ’ গ্রুপে মাত্র তিন পয়েন্ট

নিয়ে টেবিলের তৃতীয় স্থানে থেকে সন্তুষ্ট থাকতে হয় তাদের। টুর্নামেন্টের বর্ধিত

নিয়ম অনুযায়ী গ্রুপ পর্বের ‘সেরা তৃতীয়’ দল হিসেবে যে আটটি দেশ নকআউট পর্বে জায়গা

করে নিয়েছে, গোল ব্যবধানে পিছিয়ে থাকায় দক্ষিণ কোরিয়া সেই তালিকাতেও স্থান করে নিতে

ব্যর্থ হয়। মূলত বিশ্বমঞ্চের এই চরম ব্যর্থতা এবং রাষ্ট্রপতির সরাসরি তোপের মুখেই

দুই বছরের কোরিয়ান অধ্যায়ের ইতি টানতে বাধ্য হলেন হং মিউং-বো।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos