মিরপুরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে চট্টগ্রামে গেলেও ভেন্যু ও ফরম্যাট বদলের সাথে সাথে বদলে গেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের পারফরম্যান্স। ব্যাটারদের ধারাবাহিক ব্যর্থতায় প্রথম দুই ম্যাচ হেরে আগেই সিরিজ খুইয়েছিল স্বাগতিকরা। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আজ সিরিজের শেষ ম্যাচটি ছিল বাংলাদেশের জন্য মান বাঁচানোর লড়াই। তবে এই ম্যাচেও সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৫৪ বল
মিরপুরে অস্ট্রেলিয়ার বিপক্ষে ওয়ানডে সিরিজ জয়ের আত্মবিশ্বাস নিয়ে চট্টগ্রামে গেলেও
ভেন্যু ও ফরম্যাট বদলের সাথে সাথে বদলে গেছে বাংলাদেশ ক্রিকেট দলের পারফরম্যান্স।
ব্যাটারদের ধারাবাহিক ব্যর্থতায় প্রথম দুই ম্যাচ হেরে আগেই সিরিজ খুইয়েছিল
স্বাগতিকরা। জহুর আহমেদ চৌধুরী স্টেডিয়ামে আজ সিরিজের শেষ ম্যাচটি ছিল বাংলাদেশের
জন্য মান বাঁচানোর লড়াই। তবে এই ম্যাচেও সফরকারী অস্ট্রেলিয়ার কাছে ৫৪ বল হাতে রেখে
৭ উইকেটের বড় ব্যবধানে হেরে ৩-০ ব্যবধানে হোয়াইটওয়াশ হলো ফিল সিমন্সের শিষ্যরা।
ম্যাচে টস জিতে প্রথমে ব্যাটিংয়ের সিদ্ধান্ত নেয় বাংলাদেশ। কিন্তু চট্টগ্রামের
রানবন্যার উইকেটেও ডট বল আর উইকেট হারানোর মহড়ায় লিপ্ত হন টাইগার ব্যাটাররা। দলের
বিপর্যয়ের মুখে অধিনায়ক তাওহীদ হৃদয়ের ৫১ বলে খেলা অপরাজিত ৬১ রানের দায়িত্বশীল
ইনিংসে ভর করে নির্ধারিত ২০ ওভারে ৮ উইকেট হারিয়ে ১০৯ রান সংগ্রহ করে বাংলাদেশ।
দলের পক্ষে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ১৬ রান করেন রিশাদ হোসেন। অধিনায়ক হৃদয়ের এই লড়াকু
ইনিংসের কল্যাণে ঘরের মাঠে টি-টোয়েন্টিতে সর্বনিম্ন দলীয় সংগ্রহের লজ্জা থেকে
কোনোমতে মুক্তি পায় লাল-সবুজের দল।
বাংলাদেশের ইনিংসের শুরুটা ছিল চরম বিপর্যয়কর। দ্বিতীয় ওভারেই মাত্র ১ রান করে
দুর্ভাগ্যজনক রান আউটের শিকার হন ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম। একই ওভারের পঞ্চম বলে
স্পেনসার জনসনের বলে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন আরেক ওপেনার সাইফ হাসান (৯ বলে ১ রান)।
পাওয়ার প্লে-তে ডট বলের মহড়া দিয়ে ১৩ বলে মাত্র ১ রান করে নাথান এলিসের শিকার হন
পারভেজ হোসেন ইমন। এর ফলে বাংলাদেশের টি-টোয়েন্টি ইতিহাসে অন্তত ১০ বল খেলা
ব্যাটারদের মধ্যে সর্বনিম্ন স্ট্রাইকরেটের লজ্জার রেকর্ডে নাম লেখান ইমন। পঞ্চম
ওভার শেষে মাত্র ১১ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ম্যাচ থেকে ছিটকে যায় বাংলাদেশ।
পরবর্তীতে মিডল অর্ডারে নুরুল হাসান সোহান ৮ বলে ৬ রান করে অ্যাডাম জাম্পার বলে
বোল্ড হন এবং শামীম পাটোয়ারী মাত্র ৩ রান করে উইকেটের পেছনে ক্যাচ দিয়ে ফেরেন। ৩৬
রানে ৫ উইকেট হারিয়ে বসা দলকে টেনে তোলার চেষ্টা করেন হৃদয় ও রিশাদ জুটি। রিশাদ ১৪
বলে ১৬ রান করে আউট হওয়ার পর শরিফুল ও তাসকিনকে সঙ্গে নিয়ে স্কোরবোর্ডে আরও ৪৪ রান
যোগ করেন হৃদয়। অস্ট্রেলিয়ার পক্ষে দুর্দান্ত বোলিং করে ৪ ওভারে মাত্র ৬ রান দিয়ে ২
উইকেট নেন স্পেনসার জনসন। এছাড়া নাথান এলিস ও জাম্পা দুটি করে এবং নিখিল চৌধুরী
একটি উইকেট লাভ করেন।
১১০ রানের ছোট লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে প্রথম ওভারেই শরিফুল ইসলামের বল থেকে ৪টি চারে
১৭ রান তুলে ঝোড়ো সূচনা করে অস্ট্রেলিয়া। অজি ওপেনার মিচেল মার্শ একাই বাংলাদেশি
বোলারদের ওপর আধিপত্য বিস্তার করে মাত্র ২৮ বলে ৬০ রানের একটি বিধ্বংসী ইনিংস
খেলেন। মার্শের এই ঝোড়ো ব্যাটিংয়ের ওপর ভর করে মাত্র ১১ ওভারে ৩ উইকেট হারিয়েই জয়ের
বন্দরে পৌঁছে যায় অস্ট্রেলিয়া। বাংলাদেশের পক্ষে বল হাতে শরিফুল ইসলাম, নাসুম আহমেদ
ও রিশাদ হোসেন একটি করে উইকেট শিকার করলেও তা পরাজয়ের ব্যবধান কমানো ছাড়া কোনো
অবদান রাখতে পারেনি।











