ধর্ষণের পর হাত-পা বেঁধে নদীতে ফেলে হত্যার অভিযোগে আটক ২

ধর্ষণের পর হাত-পা বেঁধে নদীতে ফেলে হত্যার অভিযোগে আটক ২

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হাত-পা বেঁধে নদীতে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন দুই যুবককে আটক করেছে পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে দাবি পুলিশের। হত্যাকাণ্ডের শিকার কোহিনূর আক্তার মিঠামইন উপজেলার তমিজা খাতুন সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে মিঠামইন কলেজপাড়া এলাকার

কিশোরগঞ্জের মিঠামইনে নবম শ্রেণির এক স্কুলছাত্রীকে সংঘবদ্ধ ধর্ষণের পর হাত-পা

বেঁধে নদীতে ফেলে হত্যার অভিযোগ উঠেছে। এ ঘটনায় সন্দেহভাজন দুই যুবককে আটক করেছে

পুলিশ। জিজ্ঞাসাবাদে তারা ঘটনার সঙ্গে জড়িত থাকার কথা স্বীকার করেছে বলে দাবি

পুলিশের।

হত্যাকাণ্ডের শিকার কোহিনূর আক্তার মিঠামইন উপজেলার তমিজা খাতুন সরকারি বালিকা উচ্চ

বিদ্যালয়ের নবম শ্রেণির শিক্ষার্থী। সে মিঠামইন কলেজপাড়া এলাকার মৃত ফজলু মিয়ার

ছেলে।

এ ঘটনায় আটক দুইজন হলেন মিঠামইন উপজেলা সদরের মহরপুর বেরীবাঁধ এলাকার মাঈন উদ্দিনের

ছেলে হৃদয় মিয়া (২০) ও তার ফুফাতো বোন জামাই ইমরান হোসেন (২৫)। ইমরান হোসেন

কুমিল্লা জেলার ভাঙ্গুড়া থানার আকুবপুর গ্রামের বাসিন্দা হান্দু মিয়ার ছেলে। তবে

তিনি শ্বশুর বাড়িতেই দীর্ঘদিন যাবৎ বসবাস করছেন।

সরেজমিনে কোহিনূরের বাড়িতে গিয়ে দেখা যায় জরাজীর্ণ একটি ঘরে পড়ার টেবিলে এখনো

গুছিয়ে রাখা বই-খাতা ও তার আইডি কার্ড। আলনায়ও গুছিয়ে রাখা আছে জামা-কাপড়। কিন্তু

সেই ঘরে আর ফিরবে না নবম শ্রেণির ছাত্রী কোহিনুর আক্তার। মেয়ের স্কুলের আইডি কার্ড

বুকে জড়িয়ে বিলাপ করছেন মা। স্বজনদের কান্নায় ভারী হয়ে উঠেছে পুরো বাড়ির পরিবেশ।

প্রতিবেশীরাও এসে নির্বাক, কারও কাছে নেই এই শোক সইবার ভাষা।

স্বজনরা জানান, গত শনিবার বিকেলে প্রাইভেট পড়ার উদ্দেশ্যে বাড়ি থেকে বের হয়

কোহিনুর। রাত পর্যন্ত বাড়ি না ফেরায় পরিবারের সদস্যরা সম্ভাব্য সব জায়গায়

খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি। পরদিন রবিবার রাত প্রায় ৮টার দিকে বাড়ি

থেকে প্রায় তিন কিলোমিটার দূরে হামিদপল্লী এলাকার নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখেন

স্থানীয়রা। পোশাক দেখে কোহিনুরকে শনাক্ত করেন তার মা ও এলাকাবাসী। তবে ঘটনাস্থলে

পুলিশ পৌঁছানোর আগেই মরদেহটি নদীর স্রোতে ভেসে যায়।

নিহত কোহিনূরের মা নাহার বেগম বলেন, কিছুদিন ধরে পাশ্ব©বর্তী মহরপুর গ্রামের

অটোরিকশাচালক হৃদয় মিয়া (২০) তার মেয়েকে বিয়ের প্রস্তাব দিয়ে আসছিলেন। তবে মেয়েকে

লেখাপড়া করাতে চান জানিয়ে সেই প্রস্তাবে রাজি হননি তিনি। এরপর থেকেই হৃদয়

বিভিন্নভাবে কোহিনূরকে ফুসলানোর চেষ্টা করছিল বলে অভিযোগ করেন তিনি।

নাহার বেগম বলেন, ঘটনার দিন বিকেলে প্রাইভেট পড়তে বাড়ি থেকে বের হয় কোহিনূর।

অন্যদিন বিকেল ৪টার দিকে বের হয়ে এক ঘণ্টার মধ্যেই বাড়ি ফিরলেও সেদিন আর ফেরেনি।

রাত পর্যন্ত সম্ভাব্য সব জায়গায় খোঁজাখুঁজি করেও তার কোনো সন্ধান পাননি।

তিনি আরও বলেন, রোববার আবদুল হামিদ পল্লীর উত্তর পাশে নদীতে একটি মরদেহ ভাসতে দেখার

খবর পান। স্থানীয়দের ধারণ করা ভিডিও দেখে সেটি তার মেয়ের মরদেহ বলে শনাক্ত করেন।

কিন্তু ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই মরদেহটি স্রোতে ভেসে যায়।

কান্নাজড়িত কণ্ঠে নাহার বেগম বলেন, “আমার মেয়েটাকে নির্মমভাবে হত্যা করা হয়েছে।

বিচার তো পরে, এখন পর্যন্ত আমার মেয়ের মরদেহটিই খুঁজে পাচ্ছি না।”

কোহিনূরের প্রতিবেশী ওমর ফারুক ও শাহিনুল ইসলাম বলেন, কোহিনূরের বাবা ফজলু মিয়া

বাকপ্রতিবন্ধী ছিলেন। প্রায় ছয় বছর আগে তিনি মারা যাওয়ার পর থেকে স্থানীয়দের

বাসাবাড়িতে কাজ করে সংসার চালিয়ে আসছিলেন তার মা নাহার বেগম। অভাব-অনটনের মধ্যেও

মেয়েকে উচ্চশিক্ষিত করার স্বপ্ন ছিল তার।

তাদের ভাষ্য, কোহিনূর ছিল অত্যন্ত মেধাবী, ভদ্র ও মিশুক স্বভাবের। তার এমন নির্মম

মৃত্যু মেনে নিতে পারছেন না এলাকার কেউ।

এ ঘটনার প্রতিবাদে বৃহস্পতিবার দুপুরে মিঠামইনের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানের

শিক্ষক-শিক্ষার্থী, অভিভাবক ও স্থানীয় বাসিন্দারা বিক্ষোভ মিছিল ও মানববন্ধন করেন।

পরে তারা দোষীদের দ্রুত বিচার ও দৃষ্টান্তমূলক শাস্তির দাবিতে থানা ঘেরাও করে

বিক্ষোভ প্রদর্শন করেন।

কোহিনূরের সহপাঠী আনিকা তাহরীন ইকরা ও নিশাত তাসনীম লাবণ্য বলেন, কোহিনূরের সঙ্গে

কাটানো প্রতিটি মুহূর্ত এখন তাদের স্মৃতিতে ভেসে উঠছে। এমন প্রাণচঞ্চল, হাসিখুশি

একটি মেয়ের এভাবে নির্মম হত্যাকাণ্ডের শিকার হওয়ার ঘটনা তারা কোনোভাবেই মেনে নিতে

পারছেন না। তারা এ ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের সর্বোচ্চ শাস্তির দাবি জানান।

তমিজা খাতুন সরকারি বালিকা উচ্চ বিদ্যালয়ের ভারপ্রাপ্ত প্রধান শিক্ষক খালেদা আক্তার

বলেন, কোহিনূর বিদ্যালয়ের নিয়মিত ও শান্ত স্বভাবের একজন ছাত্রী ছিল। তার মতো একজন

শিক্ষার্থীর এমন নির্মম মৃত্যুতে বিদ্যালয়ের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সবাই গভীরভাবে

শোকাহত।

তিনি বলেন, এ ধরনের নৃশংস ঘটনা এ এলাকায় আগে কখনো ঘটেনি। ঘটনার সঙ্গে জড়িতদের দ্রুত

আইনের আওতায় এনে দৃষ্টান্তমূলক শাস্তি নিশ্চিত করার দাবি জানান তিনি। তার ভাষায়,

অপরাধীদের কঠোর শাস্তি নিশ্চিত করা গেলে ভবিষ্যতে এ ধরনের ঘটনার পুনরাবৃত্তি রোধে

তা কার্যকর ভূমিকা রাখবে।

রোববার রাতে আবদুল হামিদ পল্লী এলাকায় নদীতে ভাসমান মরদেহটি প্রথম দেখেন স্থানীয়

জেলে আল-আমিন। তার চিৎকার শুনে ঘটনাস্থলে ছুটে যান স্থানীয় বাসিন্দা আকবর বাদশাহ

বাবু ও মহরম আলী।

আকবর বাদশাহ বাবু ও মহরম আলী জানান, মরদেহটির দুই হাত ও দুই পা বাঁধা ছিল। বিষয়টি

নিশ্চিত হওয়ার পর তারা দ্রুত মিঠামইন থানায় ফোন করে পুলিশকে খবর দেন। তাদের দাবি,

ঘটনাস্থল থেকে থানার দূরত্ব প্রায় এক কিলোমিটার হলেও পুলিশ আসতে দেরি হওয়ায় তারা

দ্বিতীয়বারও ফোন করেন।

তারা আরও বলেন, দীর্ঘ সময় অপেক্ষার পর দুর্গন্ধের কারণে ঘটনাস্থলে থাকা সম্ভব হয়নি।

পরে পুলিশ ঘটনাস্থলে পৌঁছানোর আগেই নদীর স্রোতে মরদেহটি ভেসে যায়। পুলিশ এসে আর

মরদেহটি উদ্ধার করতে পারেনি।

মিঠামইন থানার ভারপ্রাপ্ত কর্মকর্তা মো. লিয়াকত আলী বলেন, ঘটনার পর থেকেই পুলিশ

সর্বোচ্চ গুরুত্ব দিয়ে তদন্ত চালাচ্ছে। আটক দুইজন স্বীকারোক্তিমূলক বক্তব্য দিয়েছে।

তাদের শুক্রবার (৩ জুলাই) আদালতে সোপর্দ করা হয়। একই সঙ্গে মরদেহ উদ্ধার এবং ঘটনার

সব দিক খতিয়ে দেখা হচ্ছে বলেও জানান তিনি।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos