ফিলিস্তিনের ৩০ হেক্টর জমি দখলের নির্দেশ ইসরায়েলের

ফিলিস্তিনের ৩০ হেক্টর জমি দখলের নির্দেশ ইসরায়েলের

তথাকথিত জনস্বার্থে ভূমি অধিগ্রহণের অজুহাতে অধিকৃত পশ্চিম তীরের বেথলেহেমের নিকটবর্তী ৩০ হেক্টর (৭৪ একর) ফিলিস্তিনি ভূমি দখলের সামরিক আদেশ জারি করেছে ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। একজন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আনাদোলু। ফিলিস্তিনি প্রাচীর ও বসতি প্রতিরোধ কমিশনের প্রধান মোয়াদ শাবান বলেছেন, ইসরায়েল বেথলেহেমের কাছে জাবাল আল-ফুরিদিস এলাকার কিছু জমি অধিগ্রহণের আদেশ দিয়েছে। ইসরায়েলের দাবি, সেখানে

তথাকথিত জনস্বার্থে ভূমি অধিগ্রহণের অজুহাতে অধিকৃত পশ্চিম তীরের বেথলেহেমের

নিকটবর্তী ৩০ হেক্টর (৭৪ একর) ফিলিস্তিনি ভূমি দখলের সামরিক আদেশ জারি করেছে

ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ। একজন ফিলিস্তিনি কর্মকর্তার বরাতে এ তথ্য জানিয়েছে আনাদোলু।

ফিলিস্তিনি প্রাচীর ও বসতি প্রতিরোধ কমিশনের প্রধান মোয়াদ শাবান বলেছেন, ইসরায়েল

বেথলেহেমের কাছে জাবাল আল-ফুরিদিস এলাকার কিছু জমি অধিগ্রহণের আদেশ দিয়েছে।

ইসরায়েলের দাবি, সেখানে একটি প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানের উন্নয়ন করা হবে।

শাবানের মতে, ২০২৬ সালের শুরু থেকে এটি ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষের জারি করা তৃতীয় জমি

অধিগ্রহণের আদেশ। তিনি অভিযোগ করেন, এটি শুধু একটি প্রকল্প নয়; বরং ফিলিস্তিনি জমির

ওপর আরও বেশি নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা এবং ভবিষ্যতে ইসরায়েলি বসতি স্থাপনের জন্য জমি

ব্যবহারের বৃহত্তর নীতির অংশ।

তিনি বলেন, ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ ২০২৪ সালের মধ্যে ওই স্থানের আশেপাশের ১৭.১ হেক্টর

(৪২ একর) জমিকে রাষ্ট্রীয় জমি হিসেবে ইতোমধ্যেই ঘোষণা করেছে। ফিলিস্তিনি

প্রত্নতাত্ত্বিক ও ঐতিহ্যবাহী স্থানগুলোকে লক্ষ্য করে কেবল ভূমি নিয়ন্ত্রণের

মধ্যেই সীমাবদ্ধ নয়, বরং এটি বসতি স্থাপনের উদ্যোগের সমর্থনে ঐতিহাসিক ও

সাংস্কৃতিক ভূদৃশ্যকে নতুন রূপ দেওয়ার প্রচেষ্টারই একটি অংশ।

শাবান বলেন, এই ধরনের জমি অধিগ্রহণ নীতি ফিলিস্তিনি ভূখণ্ডের ওপর ধীরে ধীরে স্থায়ী

নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠার একটি বিপজ্জনক উপায়। তিনি অভিযোগ করেন, আন্তর্জাতিক আইন

উপেক্ষা করে একতরফাভাবে এসব পদক্ষেপ নেওয়া হচ্ছে।

তিনি আরও বলেন, পশ্চিম তীরের প্রত্নতাত্ত্বিক স্থানগুলোকে কেন্দ্র করে ইসরায়েলের

সাম্প্রতিক কর্মকাণ্ডের মূল লক্ষ্য হলো ‘এরিয়া সি’-তে জমির ওপর আরও বেশি

নিয়ন্ত্রণ প্রতিষ্ঠা করা এবং সেখানে বসতি স্থাপন কার্যক্রম সম্প্রসারণ করা।

ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের দাবি, প্রত্নতাত্ত্বিক উন্নয়নের কথা বলা হলেও এর পেছনে

রাজনৈতিক ও ভৌগোলিক উদ্দেশ্য রয়েছে।

১৯৯৫ সালের অসলো ২ চুক্তি অনুসারে, অধিকৃত পশ্চিম তীরের প্রায় ৬১ শতাংশ নিয়ে গঠিত

‘এরিয়া সি’ এলাকাটি সম্পূর্ণ ইসরায়েলি নিয়ন্ত্রণে রয়েছে।

ইসরায়েলের সরকারি সম্প্রচার মাধ্যমের তথ্য অনুযায়ী, ফেব্রুয়ারিতে ইসরায়েলি

সরকার এমন একটি পদক্ষেপ অনুমোদন করেছে, যা কর্তৃপক্ষকে ১৯৬৭ সালের পর প্রথমবারের

মতো পশ্চিম তীরের বিশাল এলাকাকে রাষ্ট্রীয় সম্পত্তি হিসেবে নিবন্ধন করার অনুমতি

দেবে।

২০২৩ সালের অক্টোবর থেকে অধিকৃত পশ্চিম তীরজুড়ে ইসরায়েলি সহিংসতা তীব্রতর হয়েছে।

ফিলিস্তিনি কর্মকর্তাদের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, ২৬ মে পর্যন্ত এই ঘটনায় ১ হাজার

১৬৮ জন নিহত, ১২ হাজার ৬৬৬ জন আহত, প্রায় ২৩ হাজার গ্রেপ্তার এবং প্রায় ৩৩ হাজার

মানুষ বাস্তুচ্যুত হয়েছেন।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos