ওয়ানডে ক্রিকেটে এখনো ৫০০ রানের মাইলফলক ছোঁয়া হয়নি, কিন্তু জিম্বাবুয়ের ঘরোয়া ক্রিকেটে সম্প্রতি এক অবিশ্বাস্য ব্যাটিং তাণ্ডবের সাক্ষী হয়েছে বিশ্ব। মিথেন লায়ন্সের বিপক্ষে ৫০ ওভারের ম্যাচে ৮২২ রানের পাহাড় গড়েছে স্করপিয়ন্স ক্রিকেট ক্লাব। যদিও এই টুর্নামেন্টের লিস্ট ‘এ’ বা আন্তর্জাতিক মর্যাদা নেই, তবুও ৫০ ওভারের ক্রিকেটে এই পরিমাণ রান এবং জয়ের ব্যবধান ক্রিকেট ইতিহাসে এক
ওয়ানডে ক্রিকেটে এখনো ৫০০ রানের মাইলফলক ছোঁয়া হয়নি, কিন্তু জিম্বাবুয়ের ঘরোয়া
ক্রিকেটে সম্প্রতি এক অবিশ্বাস্য ব্যাটিং তাণ্ডবের সাক্ষী হয়েছে বিশ্ব। মিথেন
লায়ন্সের বিপক্ষে ৫০ ওভারের ম্যাচে ৮২২ রানের পাহাড় গড়েছে স্করপিয়ন্স ক্রিকেট
ক্লাব। যদিও এই টুর্নামেন্টের লিস্ট ‘এ’ বা আন্তর্জাতিক মর্যাদা নেই, তবুও ৫০
ওভারের ক্রিকেটে এই পরিমাণ রান এবং জয়ের ব্যবধান ক্রিকেট ইতিহাসে এক বিরল ও
অভূতপূর্ব ঘটনা হিসেবে জায়গা করে নিয়েছে। এর আগে লিস্ট ‘এ’ ক্রিকেটে সর্বোচ্চ রানের
রেকর্ড ছিল ভারতের বিজয় হাজারে ট্রফিতে বিহারের বিপক্ষে অরুণাচলের ৫৭৪ রান।
স্করপিয়ন্সের এই বিশাল সংগ্রহের মূল নায়ক ছিলেন দুই ওপেনার তাকুন্ডা মাদেম্বো এবং
উইনফেড মাতেন্ডে। ইনিংসের শুরু থেকেই বোলারদের ওপর চড়াও হয়ে মাদেম্বো ১৪৩ বলে ৩০২
রানের মহাকাব্যিক এক ইনিংস খেলেন, যাতে ছিল ৫০টি চার ও ৭টি ছক্কার মার। ওয়ানডে
ফরম্যাটের কোনো ম্যাচে ব্যক্তিগত ট্রিপল সেঞ্চুরি করার ঘটনা এটিই প্রথম। অন্যদিকে,
তাঁর সঙ্গী মাতেন্ডে বিধ্বংসী মেজাজে মাত্র ৭৫ বলে ২০৩ রান পূর্ণ করেন। তাঁর ইনিংসে
২৩টি চারের বিপরীতে ছিল ১৩টি দৃষ্টিনন্দন ছক্কার মার।
ওপেনারদের বিদায়ের পরও রানের গতি কমতে দেননি মিডল অর্ডারের ব্যাটাররা। তিন নম্বরে
নেমে ভিনসেন্টে মোয়ো ৩৯ বলে ৭৮ রানের একটি ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। এরপর ইনিংসের শেষ দিকে
গ্যাব্রিয়েল জায়া মাত্র ৪৯ বলে ১১০ রান করে অপরাজিত থাকেন। নির্ধারিত ৫০ ওভার শেষে
স্করপিয়ন্সের সংগ্রহ দাঁড়ায় ৪ উইকেটে ৮২২ রান। পুরো ইনিংসে স্করপিয়ন্সের ব্যাটারদের
আগ্রাসী ব্যাটিং দেখে মনে হয়েছিল উইকেটটি পুরোপুরি ব্যাটিং বান্ধব এবং সেখানে
বোলারদের করার কিছুই নেই।
তবে দ্বিতীয় ইনিংসে চিত্রটি সম্পূর্ণ বদলে যায়। স্করপিয়ন্সের করা ৮২২ রানের বিশাল
লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে মিথেন লায়ন্স ন্যূনতম লড়াইও গড়তে পারেনি। প্রথম ইনিংসে
বোলারদের বধ্যভূমি মনে হওয়া পিচটি দ্বিতীয় ইনিংসে মিথেনের ব্যাটারদের জন্য অত্যন্ত
কঠিন হয়ে দাঁড়ায়। একের পর এক উইকেট হারিয়ে দলটি মাত্র ২৮ রানে অলআউট হয়ে যায়, যা
যেকোনো স্তরের প্রতিযোগিতামূলক ক্রিকেটে একটি বড় ধরনের ব্যাটিং বিপর্যয়ের নজির।
স্করপিয়ন্সের বোলারদের তোপে মিথেনের কোনো ব্যাটারই উইকেটে থিতু হতে পারেননি।
শেষ পর্যন্ত স্করপিয়ন্স ক্রিকেট ক্লাব ৭৯৪ রানের বিশাল ব্যবধানে জয় লাভ করে।
ক্রিকেটের স্বীকৃত কোনো সংস্করণে এমন বিশাল ব্যবধানে জয়ের উদাহরণ সচরাচর দেখা যায়
না। যদিও টুর্নামেন্টটি আন্তর্জাতিক মানের নয়, তবুও একই ম্যাচে ব্যক্তিগত সেঞ্চুরি,
ডাবল সেঞ্চুরি, ট্রিপল সেঞ্চুরি এবং দলীয় স্কোরের এই পাহাড়সম পরিসংখ্যান বিশ্বজুড়ে
ক্রিকেট প্রেমীদের মাঝে ব্যাপক চাঞ্চল্য সৃষ্টি করেছে। এই ম্যাচটি প্রমাণ করেছে যে
ক্রিকেটের ছোট সংস্করণগুলোতেও নির্দিষ্ট দিনে যেকোনো রেকর্ড ভেঙে চুরমার হতে পারে।











