মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে বিশ্বজুড়ে বেড়েছে কয়লার ব্যবহার

মধ্যপ্রাচ্য সংকটে বিকল্প জ্বালানি হিসেবে বিশ্বজুড়ে বেড়েছে কয়লার ব্যবহার

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের সরবরাহ এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রবাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্বের অনেক দেশ পুনরায় বিকল্প হিসেবে কয়লার দিকে ঝুঁকতে শুরু করেছে। বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলোতে কার্বন নিঃসরণকারী এই জ্বালানির ব্যবহার ও আমদানি ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজার বিশ্লেষক সংস্থা কেপলারের তথ্যানুযায়ী, চলতি মে

মধ্যপ্রাচ্যে চলমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনার প্রভাবে বিশ্ববাজারে জ্বালানি তেলের

সরবরাহ এবং প্রাকৃতিক গ্যাসের প্রবাহ মারাত্মকভাবে বিঘ্নিত হচ্ছে। এমন পরিস্থিতিতে

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্বের অনেক দেশ পুনরায় বিকল্প হিসেবে কয়লার দিকে

ঝুঁকতে শুরু করেছে। বিশেষ করে এশিয়ার দেশগুলোতে কার্বন নিঃসরণকারী এই জ্বালানির

ব্যবহার ও আমদানি ব্যাপক হারে বৃদ্ধি পেয়েছে। বাজার বিশ্লেষক সংস্থা কেপলারের

তথ্যানুযায়ী, চলতি মে মাসে বিশ্বজুড়ে কয়লা আমদানির পরিমাণ ৪ লাখ ৬৪ হাজার টন ছাড়িয়ে

যেতে পারে, যা বিশ্ব ইতিহাসে কয়লা আমদানির তৃতীয় সর্বোচ্চ মাসিক রেকর্ড। সাধারণত

উত্তর গোলার্ধে শীতকাল শেষ হওয়ার পর এ সময় চাহিদা কম থাকার কথা থাকলেও যুদ্ধ

পরিস্থিতির কারণে চিত্রটি সম্পূর্ণ বদলে গেছে।

আন্তর্জাতিক বাজারে কয়লার এই বাড়তি চাহিদার ফলে কয়লাবাহী জাহাজের সংখ্যা ও পরিবহন

ব্যয় কয়েক বছরের রেকর্ড ছাড়িয়ে গেছে। মার্কেট ডেটা সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠান আরগাস

জানিয়েছে, গত ফেব্রুয়ারির তুলনায় মে মাসে কয়লা পরিবহনের ভাড়ার হার গড়ে প্রায় ৫০

শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। বিশ্বের বৃহত্তম কয়লা রপ্তানিকারক দেশ ইন্দোনেশিয়া থেকে পণ্য

পরিবহনের ভাড়া গত কয়েক মাসে ৬০ থেকে ৭৫ শতাংশ পর্যন্ত বেড়েছে। একইভাবে দ্বিতীয়

বৃহত্তম রপ্তানিকারক দেশ অস্ট্রেলিয়া থেকে জাহাজ ভাড়াও ৪০ থেকে ৫০ শতাংশ বৃদ্ধি

পেয়েছে। মূলত ইরান ও যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যে চলমান উত্তেজনার কারণে হরমুজ প্রণালি

দিয়ে জাহাজ চলাচলে বাধার সৃষ্টি হওয়ায় কাতার বা উপসাগরীয় দেশগুলো থেকে আসা এলএনজির

ওপর নির্ভরশীল দেশগুলো এখন কয়লা আমদানিতে গুরুত্ব দিচ্ছে।

এশিয়ার দেশগুলোতে কয়লার চাহিদা বৃদ্ধির বিষয়টি অত্যন্ত জোরালোভাবে দেখা যাচ্ছে।

থাইল্যান্ড তাদের বন্ধ হয়ে যাওয়া কয়লাভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্রগুলো পুনরায় সচল করেছে

এবং দক্ষিণ কোরিয়া এলএনজির ওপর নির্ভরতা কমাতে পরিবেশবান্ধব বিধিনিষেধ শিথিল করে

কয়লা বিদ্যুৎ উৎপাদন বাড়িয়েছে। যুদ্ধের শুরুর কয়েক সপ্তাহেই দক্ষিণ কোরিয়া গত বছরের

তুলনায় ৪ গিগাওয়াট অতিরিক্ত বিদ্যুৎ কয়লা থেকে উৎপাদন করেছে। জাপান ও ভিয়েতনামেও

একই প্রবণতা পরিলক্ষিত হচ্ছে। আন্তর্জাতিক শিপিং অ্যাসোসিয়েশন বিমকোর তথ্যানুযায়ী,

এপ্রিল মাসে জাপান, দক্ষিণ কোরিয়া ও ইউরোপীয় ইউনিয়নে কয়লা সরবরাহ গত বছরের তুলনায়

প্রায় ২৭ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে। এই পরিস্থিতির ফলে কয়লাবাহী মাঝারি আকারের পণ্যবাহী

জাহাজগুলোর ব্যবহার এখন তুঙ্গে রয়েছে।

বিশ্বের বৃহত্তম কয়লা ব্যবহারকারী দেশ চীন তাদের ক্রমবর্ধমান চাহিদা মেটাতে

অস্ট্রেলিয়া, রাশিয়া ও দক্ষিণ আফ্রিকা থেকে বিপুল পরিমাণ কয়লা সংগ্রহ করছে।

মধ্যপ্রাচ্যের সংঘাতের কারণে পেট্রোকেমিক্যাল পণ্যের সংকট তৈরি হওয়ায় চীন এখন কয়লা

থেকে কেমিক্যাল তৈরির কারখানায় উৎপাদন কয়েক গুণ বাড়িয়ে দিয়েছে। বাজারসংশ্লিষ্টরা

মনে করছেন, চলতি গ্রীষ্ম মৌসুমে প্রচণ্ড গরমে শীতাতপ নিয়ন্ত্রণ যন্ত্রের ব্যবহার

বাড়লে কয়লার চাহিদা আরও বৃদ্ধি পাবে। সাধারণত জুলাই মাস থেকে শীতের জন্য কয়লা মজুত

করা হলেও বর্তমান বৈশ্বিক পরিস্থিতিতে অনেক দেশই আগেভাগে মজুত কার্যক্রম শুরু

করেছে। জলবায়ু পরিবর্তনের ঝুঁকি সত্ত্বেও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে বিশ্বের

অনেক দেশই এখন দূষণকারী এই জ্বালানির দিকে ফিরতে বাধ্য হচ্ছে।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos