দক্ষিণ লেবানন খালি করার নির্দেশ ইসরায়েলের

দক্ষিণ লেবানন খালি করার নির্দেশ ইসরায়েলের

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ঘোষিত যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী হিজবুল্লাহর সঙ্গে নতুন করে সংঘাত বাড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির সামরিক বাহিনী দক্ষিণ লেবাননের তথাকথিত ‘বাফার জোন’-এর বাইরে অবস্থিত সাতটি গুরুত্বপূর্ণ শহরের বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার জন্য নতুন করে উচ্ছেদ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। ইসরায়েলের সামরিক মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহ ক্রমাগত যুদ্ধবিরতির শর্ত লঙ্ঘন করছে এবং এর জবাবে ইসরায়েল

যুক্তরাষ্ট্রের মধ্যস্থতায় ঘোষিত যুদ্ধবিরতি সত্ত্বেও লেবাননের সশস্ত্র গোষ্ঠী

হিজবুল্লাহর সঙ্গে নতুন করে সংঘাত বাড়িয়ে দিয়েছে ইসরায়েল। দেশটির সামরিক বাহিনী

দক্ষিণ লেবাননের তথাকথিত ‘বাফার জোন’-এর বাইরে অবস্থিত সাতটি গুরুত্বপূর্ণ শহরের

বাসিন্দাদের এলাকা ছাড়ার জন্য নতুন করে উচ্ছেদ বিজ্ঞপ্তি জারি করেছে। ইসরায়েলের

সামরিক মুখপাত্র সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমে জানিয়েছেন, হিজবুল্লাহ ক্রমাগত যুদ্ধবিরতির

শর্ত লঙ্ঘন করছে এবং এর জবাবে ইসরায়েল প্রয়োজনীয় সামরিক ব্যবস্থা গ্রহণ করবে।

লিতানি নদীর উত্তরে অবস্থিত এই শহরগুলোর বাসিন্দাদের নিরাপদ আশ্রয়ের জন্য উত্তর ও

পশ্চিম দিকে সরে যাওয়ার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে।

এদিকে দক্ষিণ লেবাননে ইসরায়েলি বিমান হামলায় অন্তত ১৪ জন প্রাণ হারিয়েছেন এবং আরও

৩৭ জন আহত হয়েছেন বলে নিশ্চিত করেছে লেবাননের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয়। বার্তা সংস্থা

এএফপি জানিয়েছে, নিহতদের মধ্যে দুজন নারী ও দুই শিশু রয়েছে। হামলার পর ইসরায়েলের

প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু সাফ জানিয়েছেন যে, তাঁর সেনাবাহিনী বর্তমানে

হিজবুল্লাহর লক্ষ্যবস্তুগুলোতে অত্যন্ত জোরালোভাবে আঘাত হানছে। ভঙ্গুর এই

যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের জন্য উভয় পক্ষ একে অপরকে নতুন করে দোষারোপ করছে, যার ফলে এই

অঞ্চলে পুনরায় বড় ধরনের সংঘাত ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা তৈরি হয়েছে।

হিজবুল্লাহর পক্ষ থেকে যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘনের অভিযোগ সরাসরি প্রত্যাখ্যান করা হয়েছে।

গোষ্ঠীটি দাবি করেছে যে, তাদের চলমান হামলাগুলো মূলত শত্রুপক্ষের যুদ্ধবিরতি

লঙ্ঘনের বিরুদ্ধে একটি ‘বৈধ জবাব’। ইরান-সমর্থিত এই সংগঠনটি টেলিগ্রামে দেওয়া এক

বিবৃতিতে জানিয়েছে, যে যুদ্ধবিরতি তারা আনুষ্ঠানিকভাবে অনুমোদন করেনি, সেটির শর্তের

সঙ্গে তাদের যুক্ত করা উচিত নয়। তারা মনে করে, এই চুক্তিতে তাদের কোনো সুনির্দিষ্ট

বক্তব্য বা অবস্থান নেই, তাই ইসরায়েলি আগ্রাসনের বিপরীতে প্রতিরোধ অব্যাহত রাখা

তাদের অধিকার।

সংঘাতের এই উত্তপ্ত পরিস্থিতির মধ্যেই ইসরায়েলের সঙ্গে লেবাননের পরিকল্পিত সরাসরি

আলোচনার সম্ভাবনা নাকচ করে দিয়েছেন হিজবুল্লাহর শীর্ষ নেতা নাইম কাসেম। তিনি গতকাল

এক ভাষণে ইসরায়েলের সাথে যেকোনো ধরনের সরাসরি সংলাপকে একটি ‘গুরুতর পাপ’ বলে অভিহিত

করেছেন। কাসেমের মতে, এ ধরনের আলোচনা লেবাননের অভ্যন্তরীণ স্থিতিশীলতাকে চরমভাবে

বিঘ্নিত করবে এবং জাতীয় স্বার্থের পরিপন্থী হবে। হিজবুল্লাহর এই অনড় অবস্থানের ফলে

কূটনৈতিক মাধ্যমে সংকট নিরসনের যে প্রচেষ্টা চলছিল, তা নতুন করে বড় ধরনের হোঁচট

খেল।

বর্তমানে ইসরায়েলি বাহিনীর নিয়ন্ত্রণে থাকা ‘বাফার জোন’টি দক্ষিণ লেবাননের সীমান্ত

থেকে প্রায় ১০ কিলোমিটার পর্যন্ত বিস্তৃত। তবে সাম্প্রতিক উচ্ছেদ বিজ্ঞপ্তি ও

হামলার লক্ষ্যবস্তুগুলো এই জোনের বাইরে এবং লিতানি নদীর উত্তর অংশে হওয়ায় সাধারণ

মানুষের মধ্যে চরম আতঙ্ক ছড়িয়ে পড়েছে। ইসরায়েল ও হিজবুল্লাহর মধ্যকার এই

পাল্টাপাল্টি অনড় অবস্থান ও সামরিক তৎপরতা মধ্যপ্রাচ্যের শান্তি প্রক্রিয়াকে আবারও

অনিশ্চয়তার মুখে ঠেলে দিয়েছে। স্থানীয় বাসিন্দারা এখন নিজেদের বাড়িঘর ছেড়ে অনিশ্চিত

গন্তব্যের দিকে যাত্রা শুরু করেছেন।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos