ঢাকার মাছের বাজারে ক্রেতাদের দুর্ভোগ: ২০০ টাকার নিচে কোনো মাছ মিলছে না

ঢাকার মাছের বাজারে ক্রেতাদের দুর্ভোগ: ২০০ টাকার নিচে কোনো মাছ মিলছে না

ঈদুল ফিতরের উৎসবের আনন্দ ওেবাবটি শেষ হলেও সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক বাজারদরে স্বস্তি ফিরে আসেনি। রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে এখনো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ জনগণের দৃষ্টিতে খুবই বেশি। বিশেষ করে মাছের বাজারে গিয়ে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রেতারা বিপাকে পড়েছেন। বর্তমানে বাজারে কোনো ধরণের মাছই प्रति কেজি ২০০ টাকার নিচে বিক্রি হচ্ছে না। মাছের পাশাপাশি মাংসের বাজারেও

ঈদুল ফিতরের উৎসবের আনন্দ ওেবাবটি শেষ হলেও সাধারণ মানুষের প্রাত্যহিক বাজারদরে স্বস্তি ফিরে আসেনি। রাজধানীর বিভিন্ন কাঁচাবাজারে এখনো নিত্যপ্রয়োজনীয় পণ্যের দাম সাধারণ জনগণের দৃষ্টিতে খুবই বেশি। বিশেষ করে মাছের বাজারে গিয়ে নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারের ক্রেতারা বিপাকে পড়েছেন। বর্তমানে বাজারে কোনো ধরণের মাছই प्रति কেজি ২০০ টাকার নিচে বিক্রি হচ্ছে না। মাছের পাশাপাশি মাংসের বাজারেও দাম বেড়েই চলেছে, যার ফলে মানুষের জীবনযাত্রার ব্যয় আরও বাড়ছে এবং তারা জীবন চালাতে হিমশিম খাচ্ছেন।

শুক্রবার (৩ এপ্রিল) সকালে মোহাম্মদপুর টাউন হল ও রায়েরবাজারসহ রাজধানীর বিভিন্ন বাজার সরেজমিনে দেখা যায়, সাধারণত তুলনামূলকভাবে সস্তা বলে পরিচিত পাঙ্গাশ মাছও এখন কেজিপ্রতি ২০০ থেকে ২২০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আরও কিছু মাছের দাম হলো: তেলাপিয়া ২৩০ টাকা, রুই মাছ আকারভেদে ২৪০ থেকে ৩৫০ টাকা, দেশি মাছের মধ্যে টেংরা ৬০০ টাকা, বেলে ৩৫০ টাকা এবং বাইন মাছ ৬০০ থেকে ৮০০ টাকা। চিংড়ির দাম সবচেয়ে বেশি, আকারভেদে প্রতি কেজিতে ৫৫০ থেকে ৯০০ টাকা পর্যন্ত গেছে। অন্যান্য মাছের মধ্যে পাবদা ৩৫০ টাকা, শিং ও কোয়াখ ৪০০ থেকে ৫০০ টাকা, এবং শোল মাছ কেজি পিছু ৭০০ টাকা বিক্রি হচ্ছে।

মাছের এই অস্বাভাবিক দামের বিষয়ে রায়েরবাজারের মাছ ব্যবসায়ী সৌরভ আহমেদ জানান, ঈদের পরে মাছের বাজার কিছুটা 안정ালেও সাধারণ ক্রেতাদের কাছে তা এখনো বেশি মনে হচ্ছে। তিনি বলেন, সরবরাহ ও চাহিদার উপর ভিত্তি করে বাজারে দাম উঠা-নামা হয়, তবে ক্রেতাদের অভিযোগ, এখন কোনো মাছই ২০০ টাকার নিচে পাওয়া যাচ্ছে না, যা তাদের জন্য অনেক বড় বোঝা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

অন্যদিকে, গরুর মাংসের বাজার বিশ্লেষণে দেখা গেছে, ব্রয়লার ও সোনালি মুরগির দাম গত সপ্তাহের তুলনায় কিছুটা কমেছে। এখন প্রতি কেজি ব্রয়লার মুরগি বিক্রি হচ্ছে ১৯৫ টাকায়, যা আগে ২২০ টাকায় ছিল। সোনালি মুরগির দাম ৩৪০ টাকায় স্থির রয়েছে। তবে গরুর মাংসের দাম অপরিবর্তিত, রাজধানীর অধিকাংশ বাজারে এটি বিক্রি হচ্ছে প্রতি কেজি ৮০০ টাকায়।

মোহাম্মদপুর টাউন হল বাজারে আসা সাধারণ ক্রেতারা বলছেন, ঈদের সময় বাড়তি চাহিদাকে কেন্দ্র করে কিছু পণ্যের দাম অনেক বেড়ে গিয়েছিল। তাঁদের প্রত্যাশা ছিল, উৎসব শেষ হওয়ার পর দাম কিছুটা স্বাভাবিক হবে। কিন্তু বাজারে এসে দেখা যায়, বেশিরভাগ পণ্যের দাম এখনো বেশি, যা সাধারণ ক্রেতাদের জন্য বেশ কষ্টদায়ক। ক্রেতা শফিকুল আলম বলেন, ব্রয়লারের দাম কিছুটা কমলেও সামগ্রিক বাজারদর এখনো সাধারণ মানুষের জন্য অস্বস্তিকর। অনেকের মতে, সোনালি মুরগি বা বড় মাছ এখন শখের খাবারের মধ্যে পরিণত হয়েছে, সাধারণের জন্য সে ব্যাপারে একপ্রকার অপ্রাপ্যতা সৃষ্টি হয়েছে।

বাজার সংশ্লিষ্ট বিশ্লেষকেরা মনে করছেন, উৎসব পরবর্তী সময়ে বাজার নিয়ন্ত্রণে কঠোর তদারকি না থাকায় বিক্রেতারা নিজের ইচ্ছামতো দাম নির্ধারণ করছেন। সাধারণ মানুষের প্রয়োজনের জন্য মাছ ও মাংসের দাম নিয়ন্ত্রণে সরকারকে দ্রুত কার্যকর পদক্ষেপ নেওয়ার পরামর্শ দিচ্ছেন তারা। নতুবা, নিম্ন ও মধ্যবিত্ত পরিবারগুলোর জন্য খাদ্য তালিকা সংকুচিত হওয়ার আশঙ্কা রয়েছে, যা দেশের অর্থনৈতিক পরিস্থিতিকে আরও কঠিন করে তুলবে।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos