জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে পাঁচ লাখ মেট্রিক টন তেল আমদানির উদ্যোগ

জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিতে পাঁচ লাখ মেট্রিক টন তেল আমদানির উদ্যোগ

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি মজুত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার। অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতিশীলতা বজায় রাখা এবং শিল্প ও কৃষি খাতের চাহিদা নিরবচ্ছিন্ন রাখতে নতুন করে আরও ৫ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল কেনার সিদ্ধান্ত চূড়ান্ত হয়েছে। এই আমদানির মূল লক্ষ্য হলো দেশের জ্বালানি তেলের মজুত সক্ষমতা

মধ্যপ্রাচ্যের ক্রমবর্ধমান ভূ-রাজনৈতিক উত্তেজনা ও বৈশ্বিক অস্থিরতার প্রেক্ষাপটে

দেশের অভ্যন্তরীণ জ্বালানি মজুত সক্ষমতা বৃদ্ধিতে বড় ধরনের পদক্ষেপ নিয়েছে সরকার।

অর্থনৈতিক কর্মকাণ্ডের গতিশীলতা বজায় রাখা এবং শিল্প ও কৃষি খাতের চাহিদা

নিরবচ্ছিন্ন রাখতে নতুন করে আরও ৫ লাখ মেট্রিক টন জ্বালানি তেল কেনার সিদ্ধান্ত

চূড়ান্ত হয়েছে। এই আমদানির মূল লক্ষ্য হলো দেশের জ্বালানি তেলের মজুত সক্ষমতা

বর্তমানের ৬০ দিন থেকে বাড়িয়ে ৯০ দিনে উন্নীত করা।

সরকারের নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী, আমদানিতব্য এই জ্বালানির মধ্যে ৩ লাখ ৯০ হাজার

মেট্রিক টন ডিজেল এবং ৯০ হাজার মেট্রিক টন উড়োজাহাজের জ্বালানি বা জেট ফুয়েল রয়েছে।

সিঙ্গাপুরের আন্তর্জাতিক প্রতিষ্ঠান ‘ইউনিপেক সিঙ্গাপুর পিটিই লিমিটেড’ এই জ্বালানি

সরবরাহ করবে। আন্তর্জাতিক উন্মুক্ত দরপত্র প্রক্রিয়ার মাধ্যমে সম্পন্ন হওয়া এই

কেনাকাটায় সম্ভাব্য ব্যয় ধরা হয়েছে প্রায় ৭ হাজার ৬৭২ কোটি ৬৬ লাখ টাকা। মার্কিন

ডলারের বিনিময় হার ১২৩ টাকা ২৫ পয়সা ধরে এই আমদানিতে মোট ৬২ কোটি ২৫ লাখ ডলারের

বেশি অর্থ ব্যয় হবে। সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি ইতোমধ্যে বিপিসির এই

সংক্রান্ত প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন প্রদান করেছে।

বিপিসি সূত্রে জানা গেছে, আমদানির প্রশাসনিক প্রক্রিয়া ও কার্যাদেশ প্রদানের কাজ

দ্রুতগতিতে এগোচ্ছে। সরবরাহকারী প্রতিষ্ঠানকে ইতিমধ্যে ‘নোয়া’ বা নোটিফিকেশন অব

এওয়ার্ড ইস্যু করা হয়েছে এবং চূড়ান্ত চুক্তির পরপরই তেল সরবরাহ শুরু হবে। মূলত

প্রতি ছয় মাসের নিয়মিত আমদানির অংশ হিসেবেই জুন থেকে আগস্ট—এই তিন মাসের অভ্যন্তরীণ

চাহিদা বিবেচনায় নিয়ে এই বাড়তি মজুত গড়ে তোলা হচ্ছে।

বৈশ্বিক জ্বালানি বাজার বর্তমানে অত্যন্ত অস্থিতিশীল। বিশেষ করে হরমুজ প্রণালির

নিরাপত্তা সংকট এবং জাহাজ চলাচলের বিকল্প দীর্ঘ পথ ব্যবহারের কারণে ট্রানজিট সময় ও

পরিচালন ব্যয় বহুগুণ বেড়েছে। এছাড়া বিমা কোম্পানিগুলোর বাড়তি প্রিমিয়ামের কারণে

আন্তর্জাতিক বাজারে জ্বালানি তেলের দাম ও পরিবহন খরচ পূর্বের তুলনায় অনেক বেশি। এমন

প্রতিকূল পরিস্থিতির মাঝেও প্রধানমন্ত্রীর দিকনির্দেশনায় দেশের শিল্পোৎপাদন ও

কৃষিকাজ স্বাভাবিক রাখতে সরকার এই বাড়তি ব্যয়ের ঝুঁকি গ্রহণ করেছে।

জ্বালানি খাতের বর্তমান পরিস্থিতি বিশ্লেষণে জানা গেছে, দেশে বর্তমানে পর্যাপ্ত

জ্বালানি মজুত রয়েছে এবং সরবরাহে কোনো ঘাটতি নেই। ডলার সংকটের মধ্যেও এলসি খোলার

ক্ষেত্রে জ্বালানি খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেওয়া হচ্ছে। এছাড়া বিশ্ববাজারের

সঙ্গে সমন্বয় করে স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতিতে মূল্য নির্ধারণের ফর্মুলা বাস্তবায়িত হওয়ায়

দীর্ঘমেয়াদে ভোক্তারা সুফল পাবেন বলে আশা করা হচ্ছে। জরুরি পরিস্থিতি মোকাবিলা এবং

নিরবচ্ছিন্ন বিদ্যুৎ ও উৎপাদন ব্যবস্থা সচল রাখাই এই বৃহৎ আমদানির মূল উদ্দেশ্য।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos