ভারত-যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি: ৫০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি

ভারত-যুক্তরাষ্ট্র ঐতিহাসিক বাণিজ্য চুক্তি: ৫০০ বিলিয়ন ডলারের পণ্য আমদানি

দীর্ঘ মাসের বাণিজ্য উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র স্থলীয়ভাবে এক ঐতিহাসিক ও বৃহৎ পরিমাণ বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছেছে। এই চুক্তির আওতায় ভারতের জন্য মার্কিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল, উন্নত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, উড়োজাহাজসহ প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলার মূল্যমানের পণ্য আমদানি করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট

দীর্ঘ মাসের বাণিজ্য উত্তেজনার অবসান ঘটিয়ে ভারত ও যুক্তরাষ্ট্র স্থলীয়ভাবে এক ঐতিহাসিক ও বৃহৎ পরিমাণ বাণিজ্য চুক্তিতে পৌঁছেছে। এই চুক্তির আওতায় ভারতের জন্য মার্কিন মার্কিন যুক্তরাষ্ট্র থেকে বিপুল পরিমাণ জ্বালানি তেল, উন্নত প্রতিরক্ষা সরঞ্জাম, উড়োজাহাজসহ প্রায় ৫০০ বিলিয়ন ডলার মূল্যমানের পণ্য আমদানি করতে পারবে বলে আশা করা হচ্ছে। এর সরাসরি ইতিবাচক প্রভাব হিসেবে মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প ভারতের উপর বিদ্যমান ৫০ শতাংশ শুল্ক কমিয়ে তা হ্রাস করে মাত্র ১৮ শতাংশে আনবেন, যা বিশ্বব্যাপী আলোচনায় এসেছে। ব্রিটিশ সংবাদ সংস্থা রয়টার্স এই বড় ধরনের কূটনৈতিক ও অর্থনৈতিক সমঝোতার খবর নিশ্চিত করেছে।

প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প এই চুক্তির আনুষ্ঠানিক ঘোষণা দিয়ে বলেছেন, ভারত শুধুমাত্র জ্বালানি বা প্রযুক্তি নয়, বরং কয়লা ও কৃষিপণ্যের বড় বাজার হিসেবেও যুক্তরাষ্ট্রের অগ্রাধিকার হিসেবে বিবেচিত হবে। তবে, এই শুল্ক কমানোর বিনিময়ে ওয়াশিংটন বেশ কিছু কঠোর শর্ত আরোপ করেছে, যার মধ্যে একটি হলো—ভারতকে এখন থেকে রাশিয়া থেকে অপরিশোধিত তেল কিনা বন্ধ করতে হবে। এছাড়াও, ভারতের স্থানীয় বাজারে থাকা বাণিজ্যিক বাধাগুলো কমিয়ে আনতে হবে, যাতে মার্কিন কোম্পানিগুলোর সেখানে সহজে ব্যবসা পরিচালনা সম্ভব হয়। ইতোমধ্যেই নয়াদিল্লি আমদানিকৃত গাড়ির উপর শুল্ক কমিয়ে ওয়াশিংটনের দাবি পূরণ করেছে বলেও জানা গেছে।

ভারত সরকারের একজন উচ্চপদস্থ কর্মকর্তা, যিনি নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক, বলেছেন, এই সমঝোতার মাধ্যমে আগামী কয়েক বছর ধরে পর্যায়ক্রমে টেলিকম, ওষুধ শিল্প, প্রতিরক্ষা এবং উড়োজাহাজ খাতে মার্কিন পণ্যগুলো ভারতের বাজারে প্রবেশ করবে। এছাড়া, ভারতের কঠোর নিয়ন্ত্রিত কৃষি ক্ষেত্রেও যুক্তরাষ্ট্রের জন্য কিছু বাজার সুবিধা দেওয়া হয়েছে, যা সম্প্রতি ইউরোপীয় ইউনিয়নের সঙ্গে করা চুক্তির মতোই। এই সমঝোতা কেবল প্রাথমিক স্তরের পদক্ষেপ এবং আসন্ন মাসগুলোতে একটি দীর্ঘমেয়াদী ও পূর্ণাঙ্গ বাণিজ্য চুক্তি সই করার লক্ষ্য রয়েছে – এমন তথ্য জানা গেছে।

এই চুক্তির সংবাদ প্রকাশের পর ভারতের অভ্যন্তরীণ অর্থনীতি ও শেয়ার বাজারে বড় ধরনের ইতিবাচক পরিবর্তন লক্ষ্য করা গেছে। মঙ্গলবার নয়াদিল্লিতে এক অনুষ্ঠানে অর্থনৈতিক বিষয়ক সচিব অনুরাধা ঠাকুর বলেন, এই চুক্তির ফলে বৈশ্বিক অর্থনৈতিক অনিশ্চয়তা অনেকটাই কমে গেছে। এর প্রভাব হিসেবে ভারতের প্রধান শেয়ার সূচক নিফটি ৫০০ প্রায় ৩ শতাংশ বৃদ্ধি পেয়েছে, এবং মার্কিন ডলারের مقابل রুপির মান ১ শতাংশ শক্তিশালী হয়ে ৯০.৪০ রুপিতে দাঁড়িয়েছে। বিশেষ বিষয় হলো, ভারতের জন্য নির্ধারিত ১৮ শতাংশের শুল্ক হার অন্য দক্ষিণ এশীয় দেশের তুলনায় অনেক কম—যেহেতু ইন্দোনেশিয়া ১৯ শতাংশ, ভিয়েতনাম ও বাংলাদেশ ২০ শতাংশ শুল্ক দিয়ে মার্কিন বাজারে পণ্য রপ্তানি করছে। এর ফলে ভারতের রপ্তানিকারকরা প্রতিযোগিতামূলক বাজারে সুবিধাজনক অবস্থানে থাকবেন।

ফেডারেশন অফ ইন্ডিয়ান এক্সপোর্ট অর্গানাইজেশনের (এফআইইও) প্রেসিডেন্ট এস সি রালহান এই সিদ্ধান্তকে স্বাগত জানিয়ে বলেছেন, শুল্ক কমানোর ফলে ভারতীয় রপ্তানিকারকরা বিশ্ববাজারে আরও শক্তিশালীভাবে যুক্ত হতে পারবেন। একই সঙ্গে, আন্তর্জাতিক রেটিং সংস্থা মুডি’স এক বিবৃতিতে জানিয়েছে, এই পদক্ষেপ ভারতের পণ্য মার্কিন বাজারে আবারো পুনরুজ্জীবিত করবে। সরকারি তথ্যানুযায়ী, গত বছরের প্রথম ১১ মাসে ভারতের যুক্তরাষ্ট্রে রপ্তানি ১৫.৮৮ শতাংশ বেড়ে ৮৫.৫ বিলিয়ন ডলারে পৌঁছায়। নতুন এই চুক্তির ফলে দুই দেশের মধ্যে দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্য আরও দৃঢ় হবে বলে আশাবাদ ব্যক্ত করছেন বিশ্লেষকরা।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos