সুন্দরবনে পর্যটকদের জিম্মি করে অস্ত্রসহ ৯ দুষ্প্রাপ্য আটক

সুন্দরবনে পর্যটকদের জিম্মি করে অস্ত্রসহ ৯ দুষ্প্রাপ্য আটক

সুন্দরবনে পর্যটকদের জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি করার ঘটনায় বাংলাদেশ কোস্টগার্ড গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ৯ দুর্বৃত্তকে আটক করেছে। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ডাকাত দলের প্রধান ও তার সদস্যরা রয়েছে। কোস্টগার্ডের গোপন খবর, গোয়েন্দা নজরদারি, ড্রোন থেকে সংগৃহীত তথ্য এবং আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে এই অভিযান পরিচালিত হয়। ঘটনার সূত্রে জানা যায়, ২ জানুয়ারি সুন্দরবনের কানুরখাল এলাকায়

সুন্দরবনে পর্যটকদের জিম্মি করে মুক্তিপণ দাবি করার ঘটনায় বাংলাদেশ কোস্টগার্ড গত বৃহস্পতিবার (৮ জানুয়ারি) ৯ দুর্বৃত্তকে আটক করেছে। এদের মধ্যে বেশ কয়েকজন ডাকাত দলের প্রধান ও তার সদস্যরা রয়েছে। কোস্টগার্ডের গোপন খবর, গোয়েন্দা নজরদারি, ড্রোন থেকে সংগৃহীত তথ্য এবং আর্থিক লেনদেনের মাধ্যমে এই অভিযান পরিচালিত হয়।

ঘটনার সূত্রে জানা যায়, ২ জানুয়ারি সুন্দরবনের কানুরখাল এলাকায় একটি কাঠের নৌকা ভ্রমণে থাকা পর্যটকসহ গোলকানন রিসোর্টের মালিককে জিম্মি করে ডাকাত দল মাসুম বাহিনী। মুক্তিপণ দাবির ঘটনা জানতে পেরে রিসোর্ট কর্তৃপক্ষ কোস্টগার্ডের সহায়তা নেয়। যৌথভাবে অভিযান চালিয়ে তারা ৪৮ ঘণ্টার মধ্যে জিম্মি থাকা পর্যটক ও রিসোর্ট মালিকদের নিরাপদে উদ্ধার করে।

অভিযানে অংশ নেয়া কোস্টগার্ডের পক্ষ থেকে নিশ্চিত করা হয়েছে, আটক করা হয়েছে কুদ্দুস হাওলাদার (৪৩), সালাম বক্স (২৪), মেহেদী হাসান (১৯), আলম মাতব্বর (৩৮), অয়ন কুণ্ডু (৩০), ইফাজ ফকির (২৫), জয়নবী বিবি (৫৫) এবং মোছা. দৃধা (৫৫) নামে আটজনকে। এরা সকলেই ডাকাত দলের সদস্য। অপর দিকে, গত বুধবার খুলনার তেরোখাদা থানার ধানখালী এলাকায় অভিযান চালিয়ে ডাকাত দলের মূল নেতা মাসুম মৃধাকে (২৩) গ্রেফতার করে কোস্টগার্ড। তাঁর কাছ থেকে গাজী ফিশারিজ সংলগ্ন এলাকায় তিনটি দেশি আগ্নেয়াস্ত্র, ধারালো অস্ত্র, মাদক সেবনের সরঞ্জাম ও উদ্ধার করা হয়েছে জিম্মি হয়ে থাকা পর্যটকদের ব্যবহৃত পাঁচটি মোবাইলফোন ও একটি হাতঘড়ি।

সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে জানানো হয়, এই ডাকাত দল দীর্ঘদিন ধরে সুন্দরবনে বিভিন্ন অপরাধে জড়িয়ে রয়েছে। তারা বনজসম্পদ লুণ্ঠন, জেলে ও বনজীবীদের অপহরণসহ নানা ধরণের অপরাধে লিপ্ত। এইসব কার্যক্রম পর্যটন, বাস্তুসংস্থান ও স্থানীয় জনজীবনের ওপর নেতিবাচক প্রভাব ফেলছে। কোস্টগার্ডের নিয়মিত অভিযানের ফলে মারাত্মক এই দুনীতি চক্রগুলোকে অনেকটাই স্তব্ধ করা সম্ভব হয়েছে।

সরকারি সূত্র জানায়, এ পর্যন্ত এক বছরে সুন্দরবনে অভিযান চালিয়ে মোট ৩৮টি আগ্নেয়াস্ত্র, ২টি হাতবোমা, ৭৪টি দেশি অস্ত্র, অস্ত্র তৈরির সরঞ্জাম এবং প্রায় ৫০ হাজার কার্তুজ উদ্ধার করা হয়েছে। পাশাপাশি উদ্ধার হয়েছে ৫২ জন নারী ও পুরুষ জিম্মি থেকে মুক্তিপণ আদায়ের সময়। মোট ৪৯ জন সক্রিয় ডাকাতকেও আটক করে পুলিশে দেওয়া হয়।

কোস্টগার্ডের দাবি, এমনকি ভবিষ্যতেও তারা এই ধরনের অভিযান চালিয়ে সুন্দরবনের নিরাপত্তা, বনজ সম্পদ রক্ষা ও পর্যটনশিল্পের সুন্দর পরিবেশ বজায় রাখতে সচেষ্ট থাকবে। এর লক্ষ্য একটাই: বন ও মানুষের নিরাপত্তা নিশ্চিত করা এবং দুর্বৃত্তদের চক্রকে পুরোপুরি বিতৃষ্ণ করা।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos