সিরিজে টিকে থাকার বাঁচামরা লড়াইয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৩৪ রানের দারুণ এক জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। হারলেই সিরিজ হাতছাড়া, এমন কঠিন সমীকরণের ম্যাচে ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই দুর্দান্ত পারফর্ম করে সিরিজে নিজেদের আশা বাঁচিয়ে রেখেছে সফরকারীরা। এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে এখন ১-১ সমতা বিরাজ করছে। ফলে আগামী ১৯ জুলাই বুলাওয়ের কুইন্স
সিরিজে টিকে থাকার বাঁচামরা লড়াইয়ে জিম্বাবুয়ের বিপক্ষে দ্বিতীয় টি-টোয়েন্টিতে ৩৪
রানের দারুণ এক জয় তুলে নিয়েছে বাংলাদেশ। হারলেই সিরিজ হাতছাড়া, এমন কঠিন সমীকরণের
ম্যাচে ব্যাটিং ও বোলিং—দুই বিভাগেই দুর্দান্ত পারফর্ম করে সিরিজে নিজেদের আশা
বাঁচিয়ে রেখেছে সফরকারীরা। এই জয়ের ফলে তিন ম্যাচের টি-টোয়েন্টি সিরিজে এখন ১-১
সমতা বিরাজ করছে। ফলে আগামী ১৯ জুলাই বুলাওয়ের কুইন্স স্পোর্টস ক্লাবে অনুষ্ঠিত হতে
যাওয়া সিরিজের তৃতীয় ও শেষ ম্যাচটি এখন পরিণত হয়েছে অলিখিত এক রোমাঞ্চকর ফাইনালে।
টস হেরে প্রথমে ব্যাটিংয়ে নেমে নির্ধারিত ওভারে ১৮৬ রানের চ্যালেঞ্জিং সংগ্রহ দাঁড়
করায় বাংলাদেশ। দলকে উড়ন্ত সূচনা এনে দেন দুই ওপেনার তানজিদ হাসান তামিম ও সাইফ
হাসান। উদ্বোধনী জুটিতে ১৪.৪ ওভারে ১২০ রান যোগ করে বড় সংগ্রহের ভিত গড়ে দেন তাঁরা।
সাইফ ৪৫ বলে ৮টি চার ও ১টি ছক্কায় ৫৫ রান করে বিদায় নেওয়ার ঠিক পরের ওভারেই ৪৪ বলে
৬টি চার ও ২টি ছক্কায় ৫৮ রান করে সাজঘরে ফেরেন তামিম। দারুণ এই শুরুর পর মিডল
অর্ডারের আকস্মিক ব্যর্থতায় ১৪১ রানে ৫ উইকেট হারিয়ে কিছুটা চাপে পড়ে যায় দল। তবে
শেষদিকে ইয়াসির আলী রাব্বি এবং মোহাম্মদ সাইফুদ্দিনের মারকুটে ব্যাটিংয়ে লড়াই করার
মতো শক্ত পুঁজি পায় সফরকারীরা। ইয়াসির ১২ বলে ২২ রান করেন এবং সাইফুদ্দিন মাত্র ১০
বলে ৩১ রানে অপরাজিত থাকেন, যার মধ্যে ইনিংসের শেষ ওভারেই ৪টি ছক্কার সাহায্যে তিনি
একাই তুলে নেন ২৮ রান।
বাংলাদেশের দেওয়া ১৮৭ রানের বড় লক্ষ্য তাড়া করতে নেমে শুরু থেকেই শেখ মেহেদী হাসান
ও রিশাদ হোসেনের দুর্দান্ত বোলিংয়ের মুখে পড়ে জিম্বাবুয়ের ব্যাটাররা। সফরকারী
বোলারদের তোপে নিয়মিত বিরতিতে উইকেট হারিয়ে একপর্যায়ে ১০৯ রান তুলতেই ৮ উইকেট
খুইয়ে বসে স্বাগতিকরা। টপ অর্ডারের ব্যাটাররা চরমভাবে ব্যর্থ হলেও স্বাগতিকদের হয়ে
ব্যতিক্রম ছিলেন কেবল সিকান্দার রাজা ও রায়ান বার্ল। বার্ল ১৯ বলে দলের পক্ষে
সর্বোচ্চ ২৯ রান করেন এবং রাজা ১২ বলে ২৮ রানের একটি ঝোড়ো ইনিংস খেলেন। তবে তাঁদের
দ্রুত বিদায়ের পর স্বাগতিকদের ম্যাচ জয়ের আশা কার্যত শেষ হয়ে যায়। জিম্বাবুয়ের
বোলারদের মধ্যে রিচার্ড এনগারাভা মাত্র ২৩ রান দিয়ে ২টি উইকেট পেলেও ব্র্যাড ইভান্স
ছিলেন চরম খরুচে; তিনি ৬৫ রান খরচ করে ২ উইকেট শিকার করেন।
অষ্টম উইকেট পতনের পর ব্র্যাড ইভান্স দলের হাল ধরে কেবল হারের ব্যবধানই কমাতে সক্ষম
হন। ১৪ বলে দুটি করে চার ও ছক্কায় ২৫ রান করা ইভান্স নবম উইকেটে রিচার্ড এনগারাভাকে
নিয়ে ৪০ রানের একটি জুটি গড়েন, যা কেবল বাংলাদেশের অপেক্ষাই দীর্ঘ করেছে। তবে
সাইফুদ্দিনের বলে পারভেজ হোসেন ইমনের হাতে তিনি ধরা পড়লে বাংলাদেশের জয় সময়ের
ব্যাপারে পরিণত হয়। এরপর রিশাদ হোসেনের বলে ব্লেসিং মুজারাবানি বোল্ড হলে ১৫২ রানেই
গুটিয়ে যায় জিম্বাবুয়ের ইনিংস। বল হাতে বাংলাদেশের পক্ষে সবচেয়ে সফল ছিলেন রিশাদ
হোসেন, যিনি মাত্র ২৬ রান দিয়ে ৪টি গুরুত্বপূর্ণ উইকেট তুলে নেন। এছাড়া শেখ মেহেদী
হাসান ২৪ রানের বিনিময়ে ৩টি এবং নাহিদ রানা, সাইফ হাসান ও সাইফুদ্দিন প্রত্যেকেই
১টি করে উইকেট নিয়ে দলের দারুণ এক জয় নিশ্চিত করেন।











