রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত ডুবুরি সাদিকের মৃত্যুতে পরিবারের আহাজারি

রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত ডুবুরি সাদিকের মৃত্যুতে পরিবারের আহাজারি

আমার বুকের ধন, আমার চোখের মনি, কোথায় চলে গেলিরে তুই! আমার বুকে আর কোনো দিন ফিরে আসবে না আমার সোনার ছেলে। রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত ডুবুরি সাদিক হোসেন শুভর পদক বুকে নিয়ে এভাবেই আহাজারি করছেন সাদিকের মা। সাদিকের মা কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) আমার বুকের ধন সাদিক ওর বাবার কাছে ফোন করে ৫ হাজার

আমার বুকের ধন, আমার চোখের মনি, কোথায় চলে গেলিরে তুই! আমার বুকে আর কোনো দিন ফিরে

আসবে না আমার সোনার ছেলে। রাষ্ট্রীয় পদকপ্রাপ্ত ডুবুরি সাদিক হোসেন শুভর পদক বুকে

নিয়ে এভাবেই আহাজারি করছেন সাদিকের মা।

সাদিকের মা কান্না জড়িত কণ্ঠে বলেন, ‘বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) আমার বুকের ধন সাদিক

ওর বাবার কাছে ফোন করে ৫ হাজার টাকা চেয়েছিল। সাদিকের সাথে আমার তিন দিন আগে কথা

হয়েছিল। সামনে সপ্তাহে বাড়িতে আসবে বলে জানিয়েছিল। আমার সোনার ছেলে আর মা বলে

আমাকে ডাকবে না, আমি কি নিয়ে বেঁচে থাকব। আমার ছেলে এভাবে চলে যাবে আমি তা মেনে

নিতে পারছি না। আমি আমার ছেলের মৃত্যুর প্রকৃত কারণ জানতে সরকারের কাছে দাবি

জানাচ্ছি।’

নিহত সাদিক রাজবাড়ীর গোয়ালন্দ পৌরসভার ৪নং ওয়ার্ড কুমড়াকান্দি গ্রামের আশরাফ আলী

শেখের ছেলে। দুই ভাই, দুই বোনের মধ্যে সাদিক মেজো। ডুবুরি হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে

ফায়ার সার্ভিস পদক পাওয়া সাদিক চমৎকার ফুটবলও খেলতেন।

জানা যায়, গত বৃহস্পতিবার (১৬ জুলাই) সন্ধ্যার দিকে নারায়ণগঞ্জ কেরোসিন ঘাট এলাকা

থেকে নিখোঁজের ৮ ঘণ্টা পর নারায়ণগঞ্জ ফায়ার সার্ভিস অ্যান্ড সিভিল ডিফেন্স সদস্যরা

সাদিকের মরদেহ উদ্ধার করেন। এর আগে বেলা ১১টার দিকে নগরীর নিতাইগঞ্জের শীতলক্ষ্যা

নদীর ফায়ার ঘাট এলাকায় পন্টুনের সামনে কচুরিপানা পরিষ্কার করতে গিয়ে স্পিডবোট থেকে

পড়ে নিখোঁজ হন সাদিক। নারায়ণগঞ্জ নদী ফায়ার স্টেশনের একজন প্রশিক্ষিত ডুবুরি ছিলেন

তিনি। পানিতে ডুবে নিখোঁজ ব্যক্তিদের উদ্ধার করাই ছিল তার কাজ। তিনি সেরা ডুবুরি

হিসেবে রাষ্ট্রীয়ভাবে ফায়ার সার্ভিস পদক পেয়েছিলেন।

গোয়ালন্দ ফুটবল একাডেমির চেয়ারম্যান মো. সাজ্জাদ হোসেন বলেন, ‘সাদিক চমৎকার ফুটবল

খেলতেন। গোয়ালন্দ ফুটবল একাডেমিসহ গোয়ালন্দের অনেক ফুটবল দলের গোলরক্ষকের

দায়িত্ব পালন করতেন। সাদিক একজন নম্র-ভদ্র ও ভালো ছেলে। সাদিকের অকাল মৃত্যুতে

আমরা গভীরভাবে শোকাহত।’

ঢাকা ফায়ার সার্ভিসের প্রধান কার্যালয়ে জুম্মার নামাজ শেষে জানাজা অনুষ্ঠিত হয়।

পরে তার মরদেহ বাড়িতে এনে সন্ধ্যার পর জানাজা শেষে স্থানীয় কবরস্থানে দাফন করা

হয়। তার মৃত্যুতে রহস্য লুকিয়ে আছে। প্রকৃতভাবে তদন্ত করে বিষয়টি পরিষ্কার করতে

সরকারের সুদৃষ্টি কামনা করছি।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos