নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকা মোগরাপাড়া চৌরাস্তা। ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের এই সংযোগস্থলের মারিখালী নদীর ওপর নির্মিত সেতুর নিচে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে উঠেছে ময়লার স্তূপ। এ যেন ময়লার ভাগাড়। অবাধে ময়লা-আবর্জনা ফেলার ফলে বর্তমানে দুর্গন্ধে এই রাস্তার পাশ দিয়ে হেঁটে চলা দায় হয়ে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দা এবং প্রতিদিন চলাচলকারী হাজারো মানুষ অভিযোগ। দুর্গন্ধ, পরিবেশ দূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে অতিষ্ঠ
নারায়ণগঞ্জের সোনারগাঁয়ে জনগুরুত্বপূর্ণ এলাকা মোগরাপাড়া চৌরাস্তা। ঢাকা-চট্টগ্রাম
মহাসড়কের এই সংযোগস্থলের মারিখালী নদীর ওপর নির্মিত সেতুর নিচে দীর্ঘদিন ধরে গড়ে
উঠেছে ময়লার স্তূপ। এ যেন ময়লার ভাগাড়। অবাধে ময়লা-আবর্জনা ফেলার ফলে বর্তমানে
দুর্গন্ধে এই রাস্তার পাশ দিয়ে হেঁটে চলা দায় হয়ে পড়েছে স্থানীয় বাসিন্দা এবং
প্রতিদিন চলাচলকারী হাজারো মানুষ অভিযোগ। দুর্গন্ধ, পরিবেশ দূষণ ও স্বাস্থ্যঝুঁকিতে
অতিষ্ঠ হয়ে উঠেছেন তারা। দ্রুত ময়লা অপসারণের দাবি জানান পথচারী ও স্থানীয়
বাসিন্দারা।
এদিকে পরিবেশ রক্ষায় নারায়ণগঞ্জ জেলা পরিবেশ অধিদপ্তর, জেলা প্রশাসকের কার্যালয় ও
স্থানীয় প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে স্বারকলিপি দেওয়া হয়েছে বলে জানান পরিবেশ রক্ষা ও
উন্নয়ন সোসাইটি কতৃপক্ষ। এদিকে স্থানীয় উপজেলা প্রশাসন স্থানীয়দের সহযোগিতায় গত ১৮
জুন ওই এলাকায় পরিদর্শন গিয়ে ময়লা অপসারন করেন। এবং ওই এলাকায় ময়লা না ফেলার
নির্দেশ দেন। কিন্ত প্রশাননের এ নির্দেশ কেউই মানছেন না। বরং ময়লা ফেলা আরো বেড়ে
চলছে। প্রশাসন বলছে, মূল সমস্যা আমাদের ময়লা ফেলার জায়গা নেই, আমরা জায়গা দেখে এর
স্থায়ী সমাধানে আমরা কাজ করছি।
জানা যায়, ঢাকা-চট্টগ্রাম মহাসড়কের সোনারগাঁয়ে ব্যস্ততম এলাকা মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা
বাজার সংলগ্ন মারীখালি সেতু। এ সেতুর নিচেই দীর্ঘদিন ধরে স্থানীয় এলাকাবাসী ও
বাজারের লোকজন ময়লা ফেলে যেন ভাগাড়ে পরিনত করে। সেতুর নিচের মোগড়াপাড়া চৌরাস্তার
পাশ জুড়ে জমে আছে ময়লার স্তূপ। পচনশীল এসব ময়লা থেকে নির্গত তীব্র দুর্গন্ধ আশপাশের
পরিবেশকে অসহনীয় করে তুলেছে। এ সেতুর নিচ দিয়ে যানবাহন ও লোকজনের চলাচলের জন্য
ইউর্টান রয়েছে। এ পথে প্রতিনিয়ত অনেক পথচারী ও মোটরসাইকেলসহ বিভিন্ন যানবাহনের
আরোহীকে নাকে রুমাল কিংবা হাত চেপে এলাকা পার হতে দেখা যায়।
স্থানীয়দের অভিযোগ, দিনের পর দিন বিভিন্ন এলাকা থেকে ট্রলি, ভ্যান ও ছোট যানবাহনে
করে এখানে ময়লা এনে ফেলা হচ্ছে। সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের কার্যকর নজরদারি না থাকায়
ময়লার পরিমাণ ক্রমেই বাড়ছে। এতে একদিকে যেমন পরিবেশের ক্ষতি হচ্ছে, অন্যদিকে
জনস্বাস্থ্যের জন্যও তৈরি হচ্ছে মারাত্মক ঝুঁকি।
মোগড়াপাড়া চৌরাস্তা বাজারের ব্যবসায়ী কামাল হোসেন, রমজান হাসান, বিল্লাল হোসেন
বলেন, বর্তমানে এ এলাকায় ময়লায় দুর্গন্ধে এলাকায় থাকা যায় না। ময়লা-আবর্জনা অপসারণ
করার জন্য কর্তৃপক্ষের সুনজর দেওয়া দরকার। তাদের এই ভোগান্তি থেকে মুক্তি পেতে
উপজেলা প্রশাসন ও সংশ্লিষ্ট কর্তৃপক্ষের হস্তক্ষেপ কামনা করেন তারা।
স্থানীয় বাসিন্দা আশরাফুল আলম বলেন, মোগরাপাড়া চৌরাস্তা দিয়ে প্রতিদিন হাজার হাজার
মানুষ যাতায়াত করে। কিন্তু ময়লার দুর্গন্ধের কারণে এখানে কয়েক মিনিট দাঁড়ানোও কঠিন।
বৃষ্টি হলে ময়লার পানি আশপাশে ছড়িয়ে পড়ে। তখন পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ হয়ে ওঠে। নদীর
পানিও দূষিত হচ্ছে।
পথচারীদের অনেকেই বলেন, জেলার অন্যতম গুরুত্বপূর্ণ প্রবেশপথের পাশে এমন বর্জ্যের
স্তূপ অত্যন্ত দৃষ্টিকটু। এটি শুধু পরিবেশ দূষণই নয়, সোনারগাঁওয়ের ভাবমূর্তিকেও
ক্ষুন্ন করছে। দ্রুত ময়লা অপসারণ এবং স্থায়ী ব্যবস্থাপনা নিশ্চিত করা প্রয়োজন।
পরিবেশ রক্ষা ও উন্নয়ন সোসাইটির সভাপতি মোহাম্মদ হোসাইন জানান, এ এলাকায় যেন ময়লা
ফেলার প্রতিযোগিতা চলে। প্রতিদিনই ব্যাপকহারে ময়লা ফেলা হয়। সামান্য বৃষ্টিতেই
ময়লার পাশে পানি জমে অস্বাস্থ্যকর পরিবেশ সৃষ্টি হয়। এতে মশা-মাছির উপদ্রব বাড়ছে।
ডেঙ্গুসহ বিভিন্ন রোগ ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কাও উড়িয়ে দেওয়া যাচ্ছে না।
তিনি আরো বলেন, খোলা জায়গায় এভাবে ময়লা ফেলা পরিবেশ সংরক্ষণের নীতিমালার পরিপন্থী।
দ্রুত ময়লা অপসারণের পাশাপাশি একটি আধুনিক ও পরিকল্পিত বর্জ্য ব্যবস্থাপনা গড়ে তোলা
না হলে পরিস্থিতি আরও ভয়াবহ রূপ নিতে পারে। এ প্রতিকারে আমরা বিভিন্ন সময় স্থানীয়
প্রশাসনসহ বিভিন্ন দপ্তরে স্বারকলিপি দেই। এছাড়া ময়লার গন্ধে দূষণ রোধে মানুষকে
সচেতন করার লক্ষ্যে ময়লার ভাগাড়ের পাশে সাইনবোর্ড ও ব্যানার ফেস্টুন টানানো হয়।
সোনারগাঁ উপজেলা নির্বাহী কর্মকর্তা আসিফ আল জিনাত বলেন, মোগরাপাড়া চৌরাস্তা
সোনারগাঁও উপজেলার অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ একটি স্থান। সেখানে ময়লার স্তুপ তৈরি হওয়া
সত্যিই দুঃখজনক। সমস্যাটি সমাধানে আমরা কাজ করছি। আমরা ইতিপূর্বে অভিযান চালানো হয়।
অভিযানে কিছু ময়লা অপসারণ করা হয় এবং এ এলাকায় ময়লা না ফেলার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। এ
নিয়ে আমরা করছি। মূল সমস্যা আমাদের ময়লা ফেলার জায়গা নেই, আমরা জায়গা দেখছি। এ কাজ
করতে একটি বড় ধরনের প্রকল্প করে নিতে হবে। আমরা প্রস্তাবনা পাঠাবো। একটু সময় লাগবে।
আবারো অভিযান করবো। সমস্যাটির স্থায়ী সমাধানে পরিকল্পনা হাতে নিয়েছি।
তিনি আরও বলেন, তিন ধাপে এ সমস্যার স্থায়ী সমাধান করা হবে। প্রথম ধাপে বর্তমান
ময়লার স্তূপ সম্পূর্ণ অপসারণ ও এলাকা পরিষ্কার করা হবে। দ্বিতীয় ধাপে সেখানে যাতে
আর কেউ ময়লা ফেলতে না পারে, সে জন্য প্রয়োজনীয় নজরদারি ও প্রতিরোধমূলক ব্যবস্থা
গ্রহণ করা হবে। তৃতীয় ধাপে উপজেলার জন্য একটি নির্ধারিত ও পরিবেশসম্মত স্থায়ী
ডাম্পিং ব্যবস্থা গড়ে তোলার উদ্যোগ বাস্তবায়ন করা হবে। পরিচ্ছন্ন ও বাসযোগ্য
সোনারগাঁ গড়ে তুলতে উপজেলা প্রশাসনের এ ধরনের কার্যক্রম অব্যাহত থাকবে। পরিবেশ
রক্ষায় প্রশাসনের পাশাপাশি স্থানীয় জনগণকেও দায়িত্বশীল ভূমিকা পালন করতে হবে।











