সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কার জিতল বাংলাদেশের ‘সাঁকোটা দুলছে’

সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে পুরস্কার জিতল বাংলাদেশের ‘সাঁকোটা দুলছে’

২৮তম সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের সিনেমার জন্য বয়ে এসেছে এক গৌরবময় অর্জন। উৎসবের মর্যাদাপূর্ণ ‘এশিয়ান নিউ ট্যালেন্ট’ প্রতিযোগিতা বিভাগে সেরা সিনেমাটোগ্রাফির পুরস্কার জিতে নিয়েছে বাংলাদেশের পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র ‘সাঁকোটা دুলছে’ (ইংরেজি নাম: দ্য ব্লাইন্ড গার্ল অ্যান্ড অ্যান এলিফ্যান্ট)। সিনেমাটিতে অনবদ্য ক্যামেরার কাজের জন্য সেরা সিনেমাটোগ্রাফার নির্বাচিত হয়েছেন সামিউল করিম সপ্তক। গতকাল শনিবার সাংহাইয়ে আয়োজিত এক

২৮তম সাংহাই আন্তর্জাতিক চলচ্চিত্র উৎসবে বাংলাদেশের সিনেমার জন্য বয়ে এসেছে এক

গৌরবময় অর্জন। উৎসবের মর্যাদাপূর্ণ ‘এশিয়ান নিউ ট্যালেন্ট’ প্রতিযোগিতা বিভাগে

সেরা সিনেমাটোগ্রাফির পুরস্কার জিতে নিয়েছে বাংলাদেশের পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র

‘সাঁকোটা دুলছে’ (ইংরেজি নাম: দ্য ব্লাইন্ড গার্ল অ্যান্ড অ্যান এলিফ্যান্ট)।

সিনেমাটিতে অনবদ্য ক্যামেরার কাজের জন্য সেরা সিনেমাটোগ্রাফার নির্বাচিত হয়েছেন

সামিউল করিম সপ্তক। গতকাল শনিবার সাংহাইয়ে আয়োজিত এক জাঁকজমকপূর্ণ অনুষ্ঠানে

সপ্তকের পক্ষে এই মর্যাদাপূর্ণ পুরস্কার গ্রহণ করেন সিনেমাটির তরুণ পরিচালক

ইশতিয়াক আহমাদ জিহাদ এবং প্রযোজক মনোজ প্রামাণিক।

এবারের এশিয়ান নিউ ট্যালেন্ট বিভাগে চীনের ‘হার ফার্স্ট টেস্ট’ সেরা চলচ্চিত্র

নির্বাচিত হয়েছে এবং একই সিনেমার জন্য সেরা অভিনেত্রীর পুরস্কার জিতেছেন মা ফুফু।

এছাড়া থাইল্যান্ডের ‘নাইন টেমপলস টু হেভেন’ চলচ্চিত্রের জন্য সেরা পরিচালকের

পুরস্কার পেয়েছেন সোমপোট চিডগাসর্নপংসে এবং সেরা অভিনেতার পুরস্কার পেয়েছেন সোমপোপ

সংকাম্পোল। উল্লেখ্য, ‘সাঁকোটা দুলছে’ সিনেমাটি পরিচালক ইশতিয়াক আহমাদ জিহাদ ও

অভিনেতা-প্রযোজক মনোজ প্রামাণিক দুজনেরই প্রথম পূর্ণদৈর্ঘ্য চলচ্চিত্র। মনোজের

প্রযোজনা প্রতিষ্ঠান ‘মনপাচিত্র’র সঙ্গে সিনেমাটি যৌথভাবে প্রযোজনা করেছে জার্মানির

‘মোগাদর ফিল্মস’। ছবিটির সহযোগী প্রযোজক হিসেবে ক্রিস্টোফ থোকে এবং কনসাল্টিং

প্রযোজক হিসেবে কাজ করেছেন আন্তর্জাতিক খ্যাতিসম্পন্ন চলচ্চিত্র সমালোচক ও

প্রোগ্রামার ডার্সি প্যাকুয়েট। সহপ্রযোজক হিসেবে ছিলেন ফজলে হাসান শিশির।

সম্পূর্ণ সাদাকালো ফ্রেমে নির্মিত এই চলচ্চিত্রের গল্পটি গ্রামীণ বাংলাদেশের তিন

নারীর জীবনসংগ্রামকে কেন্দ্র করে আবর্তিত হয়েছে। পিতৃতান্ত্রিক সমাজব্যবস্থা,

কুসংস্কার এবং সামাজিক নানাবিধ নিপীড়নের বেড়াজাল থেকে মুক্তির স্বপ্ন দেখে তারা।

জীবনের নানা অনাকাঙ্ক্ষিত ও বেদনাদায়ক মোড়ের মধ্য দিয়ে শেষ পর্যন্ত একজন অন্ধ তরুণী

তাঁর লালিত স্বপ্নের পথে যাত্রা অব্যাহত রাখতে সক্ষম হয় এবং এক রহস্যময় হাতির

মুখোমুখি এসে দাঁড়ায়। নারীর জীবন, ব্যক্তিস্বাধীনতা, লোকজ বিশ্বাস এবং সামাজিক

নিয়ন্ত্রণের গুরুত্বপূর্ণ প্রশ্নগুলোকে গ্রামীণ বাস্তবতার ভিত্তিতে অত্যন্ত কাব্যিক

চলচ্চিত্র ভাষায় এই সিনেমায় উপস্থাপন করা হয়েছে।

সিনেমাটির বিভিন্ন চরিত্রে অভিনয় করেছেন সানজিদা আক্তার স্বর্ণা, তাহমিদা রহমান

তৌহিদা, সুমাইয়া হক, অশোক ব্যাপারী, সাবিহা জামান, পঙ্কজ মজুমদার, মুনসিফ মিম ও

নিশাত তাসনিমসহ একঝাঁক প্রতিভাবান অভিনয়শিল্পী। বিশ্বের অন্যতম প্রভাবশালী ও

প্রতিযোগিতাপূর্ণ উৎসব সাংহাইয়ে প্রথম সিনেমা দিয়েই এই আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি অর্জন

দেশীয় স্বাধীন চলচ্চিত্রের জন্য বড় এক অনুপ্রেরণা। এই সাফল্য বাংলাদেশের তরুণ

চলচ্চিত্র নির্মাতাদের বৈশ্বিক মঞ্চে নিজেদের মেধা ও সৃজনশীলতা তুলে ধরতে আরও বেশি

আত্মবিশ্বাসী করে তুলবে বলে প্রত্যাশা করা হচ্ছে।

Staff Reporter
ADMINISTRATOR
PROFILE

Posts Carousel

Latest Posts

Top Authors

Most Commented

Featured Videos