রাশিয়ার হামলার জবাবে সব ধরনের পাল্টা আক্রমণ অব্যাহত রাখবে ইউক্রেন। এর ধারাবাহিকতায় মস্কোর একটি তেল শোধনাগারে সাম্প্রতিক ড্রোন হামলাকে সম্পূর্ণ ন্যায্য বলে উল্লেখ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। জেলেনস্কির ভাষায়, যদি পুতিন এই যুদ্ধ শেষ করতে না চান এবং তা চালিয়ে যেতে চান, তাহলে আমরা চুপ করে বসে থাকব না-আমরা জবাব দেব। তিনি আরও বলেন,
রাশিয়ার হামলার জবাবে সব ধরনের পাল্টা আক্রমণ অব্যাহত রাখবে ইউক্রেন। এর
ধারাবাহিকতায় মস্কোর একটি তেল শোধনাগারে সাম্প্রতিক ড্রোন হামলাকে সম্পূর্ণ ন্যায্য
বলে উল্লেখ করেছেন ইউক্রেনের প্রেসিডেন্ট ভলোদিমির জেলেনস্কি। জেলেনস্কির ভাষায়,
যদি পুতিন এই যুদ্ধ শেষ করতে না চান এবং তা চালিয়ে যেতে চান, তাহলে আমরা চুপ করে
বসে থাকব না-আমরা জবাব দেব। তিনি আরও বলেন, ইউক্রেন পুড়লে, মস্কোও জ্বলবে।
ইউক্রেনীয় প্রেসিডেন্ট জানান, কিয়েভ-পেচেরস্ক লাভ্রা নামের গুরুত্বপূর্ণ ধর্মীয় ও
ঐতিহাসিক স্থাপনায় রাশিয়ার হামলার প্রতিক্রিয়ায় মস্কোর তেল শোধনাগারে এই আঘাত হানা
হয়েছে। তিনি দাবি করেন, আগেই এ ধরনের প্রতিক্রিয়ার ইঙ্গিত দেওয়া হয়েছিল।
জেলেনস্কি বলেন, মস্কোর শক্তিশালী বিমান প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা থাকা সত্ত্বেও
ইউক্রেনের ড্রোন হামলা লক্ষ্যবস্তুতে আঘাত হানতে সক্ষম হয়েছে যা উল্লেখযোগ্য
সাফল্য। রিপোর্ট অনুযায়ী, মস্কোর ওই তেল শোধনাগার শহরের জ্বালানি সরবরাহের বড় অংশ
নিয়ন্ত্রণ করে এবং মস্কোর প্রধান বিমানবন্দরগুলোর জন্য জ্বালানি সরবরাহেও
গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা রাখে।
পশ্চিমা দেশগুলোর প্রতি রাশিয়ার জ্বালানি খাত, ব্যাংকিং ব্যবস্থা, অস্ত্র উৎপাদন ও
প্রতিরক্ষা শিল্পের ওপর আরও কঠোর নিষেধাজ্ঞা আরোপের অনুরোধ জানান জেলেনস্কি। তার
মতে, এতে রাশিয়া যুদ্ধ চালিয়ে যাওয়ার যৌক্তিকতা হারাবে। রুশ জনগণের উচিত তাদের
নেতৃত্বের ওপর চাপ সৃষ্টি করা, যাতে যুদ্ধ বন্ধের পথে অগ্রসর হওয়া যায়।
ইউক্রেনকে ৫২২ মরদেহ ফেরত দিয়েছে রাশিয়া
যুদ্ধবন্দি বিনিময় ও প্রত্যাবাসন প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে ৫২২ জনের মরদেহ ইউক্রেনে
ফেরত পাঠিয়েছে রাশিয়া। এদিকে ইউক্রেন জানিয়েছে, প্রত্যাবাসন প্রচেষ্টার অংশ হিসেবে
তারা ৫২২ জন নিহত ব্যক্তির মরদেহ গ্রহণ করেছে। রাশিয়ার পক্ষ থেকে নিহতদের ইউক্রেনের
নাগরিক হিসেবে চিহ্নিত করা হয়েছে। এর মধ্যে সামরিক সদস্যরাও রয়েছেন।
ইউক্রেনের যুদ্ধবন্দিবিষয়ক সমন্বয় সদর দপ্তর কোঅর্ডিনেশন হেডকোয়াটার্স ফর দ্য
ট্রিটমেন্ট অব প্রিজনার্স অব ওয়ার টেলিগ্রামে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ তথ্য নিশ্চিত
করেছে। ওই বিবৃতিতে বলা হয়, রাশিয়ার পক্ষ থেকে মরদেহগুলো হস্তান্তর করা হয়েছে এবং
যাচাই–বাছাই ও শনাক্তকরণের প্রক্রিয়া শুরু হয়েছে।
বৃহস্পতিবার (১৮ জুন) এ বিষয়ে প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে ইউক্রেনীয় সংবাদমাধ্যম
ইউক্রেনিফর্ম।
রাশিয়া ও ইউক্রেনের মধ্যে চলমান যুদ্ধের সময় নিয়মিতভাবে বন্দি বিনিময় ও নিহতদের
মরদেহ প্রত্যাবাসনের প্রক্রিয়া চলছে। তবে প্রতিবারই হস্তান্তর হওয়া মরদেহের পরিচয়
নিশ্চিত করতে সময় লাগে এবং উভয় পক্ষের মধ্যে তথ্য যাচাই নিয়ে জটিলতা দেখা দেয়।
রাশিয়া ২০২২ সালের ২৪ ফেব্রুয়ারি ইউক্রেনে পূর্ণ সামরিক আগ্রাসন শুরু করে। দেশটির
অন্তত ২০ শতাংশ ভূমি এখন রাশিয়ার নিয়ন্ত্রণে। এর মধ্যে ২০১৪ সালে রাশিয়ার দখল করা
ক্রিমিয়ার দক্ষিণাঞ্চলও রয়েছে। ধারণা করা হয়, ২০২২ সালে যুদ্ধ শুরুর পর থেকে লাখ
লাখ মানুষ হয় মারা গেছে বা আহত হয়েছে। এদের মধ্যে একটি বড় অংশই সৈন্য।











