ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম ফারস নিউজের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের জ্বালানি স্থাপনায় নতুন করে কোনো আঘাত হানা হলে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে থাকা তার মিত্রদের তেল, গ্যাস ও পেট্রোকেমিক্যাল অবকাঠামোতে ব্যাপক হামলার হুমকি দিয়েছে তেহরান। সোমবার (৮ জুন) নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে প্রকাশিত এই সংবাদে জানানো হয়েছে, ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট যেকোনো জ্বালানি কোম্পানিকে এখন থেকে বৈধ লক্ষ্যবস্তু
ইরানের রাষ্ট্রায়ত্ত সংবাদমাধ্যম ফারস নিউজের এক প্রতিবেদন অনুযায়ী, ইরানের
জ্বালানি স্থাপনায় নতুন করে কোনো আঘাত হানা হলে ইসরায়েল এবং মধ্যপ্রাচ্যে থাকা তার
মিত্রদের তেল, গ্যাস ও পেট্রোকেমিক্যাল অবকাঠামোতে ব্যাপক হামলার হুমকি দিয়েছে
তেহরান। সোমবার (৮ জুন) নির্ভরযোগ্য সূত্রের বরাতে প্রকাশিত এই সংবাদে জানানো
হয়েছে, ইসরায়েল বা যুক্তরাষ্ট্র সংশ্লিষ্ট যেকোনো জ্বালানি কোম্পানিকে এখন থেকে বৈধ
লক্ষ্যবস্তু হিসেবে বিবেচনা করবে ইরানি সশস্ত্র বাহিনী। মূলত ইরানকে অর্থনৈতিকভাবে
পঙ্গু করার প্রচেষ্টার জবাবেই এমন কঠোর অবস্থান নিয়েছে দেশটি, যা পুরো অঞ্চলের
জ্বালানি নিরাপত্তার জন্য এক বড় উদ্বেগ সৃষ্টি করেছে।
এই চরম উত্তেজনার নেপথ্যে রয়েছে সাম্প্রতিক কয়েক দিনের পাল্টাপাল্টি হামলা।
সম্প্রতি ইসরায়েলি বাহিনী ইরানের দক্ষিণাঞ্চলীয় মাহশাহর এলাকায় অবস্থিত একটি বড়
পেট্রোকেমিক্যাল কোম্পানিতে আক্রমণ চালায়। এর প্রতিক্রিয়ায় ইরানও চুপ থাকেনি; তারা
ইসরায়েলের বন্দর নগরী হাইফার একটি পেট্রোকেমিক্যাল স্থাপনায় পাল্টা ক্ষেপণাস্ত্র
হামলা পরিচালনা করে। উল্লেখ্য যে, এর আগে গত এপ্রিলেও হাইফার ওই একই স্থাপনায় একবার
হামলা চালিয়েছিল ইসরায়েলি প্রতিরক্ষা বাহিনী। দুই দেশের এই বাণিজ্যিক ও শিল্প
অবকাঠামো লক্ষ্য করে আক্রমণের ধারা এখন সরাসরি সামরিক সংঘাতের দিকে মোড় নিয়েছে।
পরিস্থিতি আরও জটিল হয়ে ওঠে যখন গত রবিবার ইসরায়েল যুদ্ধবিরতি লঙ্ঘন করে লেবাননের
রাজধানী বৈরুতে বড় ধরনের অভিযান চালায়। এর কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই ইরান উত্তর ইসরায়েল
লক্ষ্য করে অন্তত ১০টি ব্যালিস্টিক ক্ষেপণাস্ত্র নিক্ষেপ করে। সংঘাতের মাত্রা আরও
বাড়িয়ে দিয়ে সোমবার সকালে ইসরায়েলি বিমান বাহিনী ইরানের রাজধানী তেহরান ও
ইস্ফাহানসহ তিনটি গুরুত্বপূর্ণ শহরে পুনরায় পাল্টা হামলা চালায়। ইসরায়েলের এই
সাম্প্রতিক আক্রমণের মূল লক্ষ্য ছিল ইরানের জ্বালানি ও সামরিক সরবরাহ ব্যবস্থা
ধ্বংস করা, যার প্রেক্ষিতেই ইরান এখন পুরো মধ্যপ্রাচ্য জুড়ে ছড়িয়ে থাকা পশ্চিমা
মিত্রদের তেল ও গ্যাসক্ষেত্রে আঘাতের হুঁশিয়ারি দিচ্ছে।
এই সামরিক লড়াই এখন আর কেবল দুই দেশের মধ্যে সীমাবদ্ধ নেই, বরং এতে জড়িয়ে পড়েছে
ইয়েমেনের বিদ্রোহী গোষ্ঠী হুথিরাও। সোমবার ইসরায়েলি হামলার প্রতিবাদে ইয়েমেন থেকে
হুথিরা ইসরায়েলের মূল ভূখণ্ডে ক্ষেপণাস্ত্র হামলা চালায়। হুথিদের এই আক্রমণের এক
ঘণ্টার ব্যবধানে ইরান থেকেও দফায় দফায় ক্ষেপণাস্ত্র বৃষ্টির খবর পাওয়া গেছে। ইরান
স্পষ্টভাবে জানিয়ে দিয়েছে যে, তাদের জ্বালানি খাতের ওপর আক্রমণ অব্যাহত থাকলে তারা
মধ্যপ্রাচ্যের যেকোনো স্থানে যুক্তরাষ্ট্র বা ইসরায়েলের অংশীদারত্ব রয়েছে এমন তেল
স্থাপনাকে গুড়িয়ে দেবে। এমন পাল্টাপাল্টি হুমকির ফলে বিশ্ববাজারে তেলের সরবরাহ
ব্যাহত হওয়ার এবং মধ্যপ্রাচ্যে এক দীর্ঘস্থায়ী যুদ্ধের শঙ্কা দেখা দিচ্ছে।











