বাংলা ব্যান্ড সংগীতের কিংবদন্তি এবং ‘পপগুরু’ হিসেবে খ্যাত আজম খানের ১৫তম মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি কেবল একজন সংগীতশিল্পী ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন একটি নতুন সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অগ্রদূত এবং বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের প্রধান স্থপতি। মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশে তিনি রক সংগীতের সাথে দেশীয় আবেগের সমন্বয় ঘটিয়ে এক অনন্য সংগীতভাষার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। গিটার হাতে আজম খান যে সুরের
বাংলা ব্যান্ড সংগীতের কিংবদন্তি এবং ‘পপগুরু’ হিসেবে খ্যাত আজম খানের ১৫তম
মৃত্যুবার্ষিকী আজ। তিনি কেবল একজন সংগীতশিল্পী ছিলেন না, বরং তিনি ছিলেন একটি নতুন
সাংস্কৃতিক আন্দোলনের অগ্রদূত এবং বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের প্রধান স্থপতি।
মুক্তিযুদ্ধ-পরবর্তী বাংলাদেশে তিনি রক সংগীতের সাথে দেশীয় আবেগের সমন্বয় ঘটিয়ে এক
অনন্য সংগীতভাষার ভিত্তিপ্রস্তর স্থাপন করেছিলেন। গিটার হাতে আজম খান যে সুরের ধারা
তৈরি করেছিলেন, তা আজও তরুণ প্রজন্মের কাছে প্রেরণার উৎস হয়ে আছে।
১৯৭১ সালের মহান মুক্তিযুদ্ধে সম্মুখসমরের বীর যোদ্ধা আজম খান স্বাধীনতার পর গড়ে
তুলেছিলেন ঐতিহাসিক ব্যান্ড ‘উচ্চারণ’। তার গানে ফুটে উঠেছে শহরের পথঘাট, তরুণদের
দ্রোহ, প্রেম এবং স্বাধীনতাকামী মানুষের স্বপ্ন। “রেললাইনের বস্তিতে”, “আসি আসি বলে
তুমি” কিংবা “আলাল ও দুলাল”-এর মতো গানগুলো দিয়ে তিনি নগরজীবনের বাস্তবতাকে এক
ভিন্ন মাত্রায় নিয়ে গিয়েছিলেন। সাধারণ মানুষের কথা সহজ ও সরাসরি ভাষায় গানের
মাধ্যমে তুলে ধরাই ছিল তার সাফল্যের মূল চাবিকাঠি। তার বিদ্রোহী অথচ মানবিক
সংগীতধারা পরবর্তী কয়েক প্রজন্মের শিল্পীদের পথপ্রদর্শক হিসেবে কাজ করছে।
পপগুরুর এই বিশেষ দিনটি উপলক্ষে চ্যানেল আই আজ বিশেষ অনুষ্ঠানের আয়োজন করেছে।
সন্ধ্যা সাড়ে ৬টায় প্রচারিত হবে ‘ট্রিবিউট টু গুরু আজম খান’, যেখানে ‘উচ্চারণ’
ব্যান্ডের বর্তমান সদস্যরা স্মৃতিচারণা ও জনপ্রিয় গান পরিবেশন করবেন। অপু মাহফুজের
উপস্থাপনায় এবং ইফতেখার মুনিমের পরিচালনায় এই অনুষ্ঠানে উঠে আসবে আজম খানের জীবনের
অনেক অজানা গল্প। এছাড়া দুপুর সাড়ে ১২টায় ‘তারকাকথন’-এর একটি বিশেষ পর্বে অংশ নেবেন
তার কন্যা অরণী খান এবং প্রথিতযশা সংগীতশিল্পী ফুয়াদ নাসের বাবু ও পার্থ মজুমদার।
আজম খান আজ সশরীরে না থাকলেও তার গান, দর্শন এবং সাংস্কৃতিক মানচিত্র প্রতিটি
সুরকার ও শ্রোতার হৃদয়ে অমলিন। বাংলাদেশের ব্যান্ড সংগীতের ইতিহাসে তিনি চিরকাল
একটি অবিচ্ছেদ্য নাম এবং অনন্ত এক উচ্চারণ হয়ে থাকবেন। তার স্মৃতির প্রতি শ্রদ্ধা
জানিয়ে আজকের এই আয়োজনগুলো বিনোদন ও সংগীতপিপাসুদের মাঝে নতুন এক আমেজ সৃষ্টি করবে
বলে আশা করা হচ্ছে।











